হাইমচরে ভিটেমাটি রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন
‘জান দেব, তবুও নদী থেকে বালু নিতে দেব না’—এমন তীব্র শ্লোগান আর ক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে চাঁদপুরের হাইমচর। মেঘনা নদীর তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের গাজীনগর এলাকায় বালুদস্যুদের অবৈধ বালু উত্তোলনের প্রতিবাদে এবং পৈতৃক ভিটেমাটি রক্ষার দাবিতে বিশাল মানববন্ধন পালন করেছে কয়েক হাজার ভুক্তভোগী মানুষ।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে ‘হাইমচর ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন’-এর ব্যানারে আয়োজিত এই প্রতিবাদ সমাবেশে নদীর পাড় সংলগ্ন এলাকার কয়েক হাজার নারী-পুরুষ ও সাধারণ জনতা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট দিনরাত শত শত ড্রেজার বসিয়ে নদীর তলদেশ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। এর ফলে মেঘনা নদীর তীরবর্তী প্রতিরক্ষা বাঁধ ও ফসলি জমি তীব্র ভাঙনের সম্মুখীন। ড্রেজারের কারণে নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পথে বসতভিটা ও সরকারি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রশাসনের চোখের সামনে এই ধ্বংসযজ্ঞ চললেও দৃশ্যমান কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না, যা বালুদস্যুদের আরও বেপরোয়া করে তুলেছে।
প্রবাস থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান বক্তার বক্তব্যে হাইমচর ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শাহাদাত হোসেন মিয়াজী বলেন ”একটি নির্দিষ্ট চক্রের লোভের বলি হতে পারে না আমাদের পৈতৃক ভিটেমাটি। ড্রেজার দিয়ে নদীর তলদেশ খুঁড়ে ফেলায় পুরো হাইমচর আজ মানচিত্র থেকে মুছে যাওয়ার হুমকির মুখে। এই ধ্বংসযজ্ঞ এখনই বন্ধ না হলে আমরা আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো।”
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন-এর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের উপদেষ্টা ও সাবেক অধ্যক্ষ মানোয়ার হোসেন মোল্লা, আব্দুল হামিদ মাস্টার, মোশাররফ হোসেন এবং জিল্লুর রহমান জুয়েল। শিক্ষক সমাজের পক্ষ থেকে একাত্মতা প্রকাশ করেন মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, শফিকুর রহমান গাজী, মানিক গাইন, প্রফেসর হেলাল উদ্দিন ও আক্তার হোসেন।
এসময় স্থানীয় ইউপি সদস্য ও এলাকার মুরুব্বিরা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। এক প্রবীণ বাসিন্দা আক্ষেপ করে বলেন, “বাপ-দাদার শেষ সম্বলটুকু নদী পেটে চলে যাচ্ছে। বালু কাটা বন্ধ না হলে আমরা নদী পাড়েই মরব, তবুও মাটি ছাড়ব না।”
উত্তাল এই মানববন্ধন থেকে প্রশাসনের কাছে তিনটি সুনির্দিষ্ট দাবি পেশ করা হয়, প্রথমটি হচ্ছে অবিলম্বে মেঘনায় চলমান সকল অবৈধ ড্রেজার বন্ধ করা। দ্বিতীয় টি হচ্ছে নদী ভাঙন কবলিত এলাকায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা। তৃতীয় দাবি হচ্ছে বালু চুরির মূল হোতা ও তাদের মদদদাতাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা।
সমাবেশ শেষে বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মেঘনা বাঁচাতে এই সংগ্রাম এখন অস্তিত্বের লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। বালু উত্তোলন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাবে হাইমচর ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন।
– মোঃ আলমগীর হোসেন (আসিফ)/
১৭ এপ্রিল ২০২৬