সারাদেশ

স্কুলছাত্রী রিশা খুনের নেপথ্যে কে এই ওবায়দুল?

রাজধানীর কাকরাইলে ছুরিকাঘাতে সুরাইয়া আক্তার রিশা হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ওবায়দুল খান নামের এ টেইলার্সের কাটিং মাস্টারের নাম উঠে এসেছে। হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ওবায়দুলের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, প্রায় ৬ মাস আগে মায়ের সঙ্গে ইস্টার্ন মল্লিকার শপিং কমপ্লেক্সের বৈশাখী টেইলার্সে যায় রিশা। সেখানে একটি ড্রেস সেলাই করতে দেয় সে।

পরে দোকানের রিসিটে বাসার ঠিকানা ও তার মায়ের মোবাইল নম্বর দেয়। পরে সেই রিসিট থেকে মোবাইল নম্বর নিয়ে টেইলার্সের কাটিং মাস্টার ওবায়দুল খান রিশাকে ফোনে উত্ত্যক্ত করত। পরে ফোন নম্বরটি বন্ধ করে দিলে ওই যুবক স্কুলে যাওয়ার পথে রিশাকে উত্ত্যক্ত করতে থাকে। প্রেমের প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় রিশাকে ছুরিকাঘাত করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রায় ১ বছরের মতো রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডের ইস্টার্ন মল্লিকা শপিং মলের তৃতীয় তলায় বৈশাখী লেডিস টেইলার্সের কাটিং মাস্টার হিসেবে কর্মরত ছিল ওবায়দুল কাদের। সর্বশেষ গত রমজানের সময় রিশার মায়ের অভিযোগে চাকরিচ্যুত হয় সে।

ওবায়দুলের গ্রামের বাড়ি ঠাকুরগাঁও জেলার বীরগঞ্জ এলাকায়। জানা গেছে, তার মা বাবা কেউ নেই। বৈশাখী টেইলার্সের মালিক মো জাকির হোসেন বলেন, আমার দোকানে এক বছর কাজ করেছে ওবায়দুল। সে ঠিকমতো কাজ করত না। আমার কাস্টমারের অর্ডার ঠিকমতো ডেলিভারি দিতে পারছিলাম না। তারপর ওই মেয়ের মা আমার কাছে তার সম্পর্কে বিচার দিলে আমি তাকে বিদায় করে দিই।

পাশের আরেক দোকানদার রস্তম আলী বলেন, সে আমার দোকানেও ৬/৮ মাস কর্মরত ছিল। ঠিকমতো কাজ করত না বলেই আমি তাকে বিদায় করে দিয়েছিলাম।

মার্কেটের আক্তার হোসেন নামে অপর এক ব্যক্তি জানান, ছেলেটির চলাফেরা খারাপ দেখিনি। শান্ত প্রকৃতির ছিল। তবে মাঝে মাঝে কাজ ফেলে মিছিল-মিটিংয়ে যেত।

মালিক জাকির হোসেন আরো জানান, এলিফ্যান্ট রোডের ঘরোয়া হোটেল ভবনের ৫ তলায় একটি মেস ভাড়া করে থাকতো সে। কিন্তু ওই বাসায় গিয়ে তার ব্যাপারে জানতে চাইলে বাসার অন্যান্যরা জানান, সে ৪-৫ মাস আগে বাসা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে।

রমনা থানার তদন্ত কর্মকর্তা (এসআই) মোশাররফ হোসেন জানান, এ ঘটনায় রুবেল নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পরে বিস্তারিত জানানো হবে।

ওবায়দুলের সঙ্গে রুবেলের যোগাযোগ ছিল। দুইদিন আগে ওবায়দুল ফোন করে রুবেলকে জিজ্ঞাসা করছিল, মার্কেটের কী অবস্থা? ইস্টার্ন মল্লিকা মার্কেটে তার বিষয়ে কোনো আলোচনা হচ্ছে কি না? ওবায়দুলের কলের বিষয়টি রুবেল মার্কেটের লোকদের জানিয়েছিল।

রোববার (২৮ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৮টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় রিশা। ছুরিকাঘাতে জখম হওয়ার পাঁচদিন পর সে মারা যায়।

নিউজ ডেস্ক : আপডেট, বাংলাদেশ সময় ২:০০ এএম, ২৯ আগস্ট ২০১৬, সোমবার
ডিএইচ

Share