Home / সারাদেশ / সেন্টু কামাল পরিবারের কাউকে চিনতে পারছেন না
সেন্টু কামাল পরিবারের কাউকে চিনতে পারছেন না

সেন্টু কামাল পরিবারের কাউকে চিনতে পারছেন না

একটি হত্যা মামলায় মতিঝিলের এজিবি কলোনির বাসিন্দা সেন্টু কামালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল ১৯৯৩ সালে। এরপর জামিন পান। পরে ২০০১ সালে আবারও গ্রেপ্তার হন তিনি। সেই থেকে কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠই তার ঠিকানা।

দীর্ঘ এই ১৬ বছরে ৫৯ কার্যদিবস সেন্টু কামালকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। তবে শেষ হয়নি মামলার কার্যক্রম।

সেন্টু কামালসহ আরো কয়েকজনের দীর্ঘদিন বিনাবিচারে কারাগারে আটক থাকার বিষয় নিয়ে সম্প্রতি একটি টেলিভিশন চ্যানেলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর তাঁদের আদালতে হাজিরের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। গত ৪ ডিসেম্বর নির্দেশ অনুযায়ী কাশিমপুর কারাগারে বন্দি চারজনকে আদালতে হাজির করা হয়। সেদিন আদালতেই কথা হয় সেন্টু কামালের। লাল-হলুদ চেক লুঙ্গি গায়ে দিয়ে আদালতে এসেছিলেন তিনি। মাথায় কাঁচাপাকা চুলের এই ব্যক্তি নিজেই জানালেন নিজের অবস্থার কথা। অবশ্য এসময় তাঁর কথাবার্তা ছিল বেশ অসংলগ্ন।

আদালতের একটি বেঞ্চে বসে যখন তাঁর সাথে কথা হচ্ছিল তখন সেন্টু কামালের এলোমলো আচরণ সম্পর্কে পাশে বসে থাকা অন্য আসামিরা বললেন, দীর্ঘদিন অন্ধকার কারাগারে থাকতে থাকতে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে গেছেন সেন্টু।

সেন্টু কামাল জানালেন, তাঁর গ্রামের বাড়ী নোয়াখালী জেলার চাটখিল উপজেলায়। তবে কোন গ্রামে তা মনে করতে পারলেন না। এমনকি পরিবারে কারা আছেন তাও ভুলে গেছেন তিনি। অনেকটা মানসিক প্রতিবন্ধীর মতো হয়ে গেছেন তিনি।

এই মামলা সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে নথি থেকে জানা গেছে, মতিঝিলের এজিবি কলোনির সেন্টু কামাল গ্রেপ্তার হন ২০০১ সালে। কিন্তু দীর্ঘ ১৬ বছরে ৫৯ কার্যদিবস আদালতে হাজির করা হলেও মামলা শেষ হয়নি। সর্বশেষ গত মাসেও তাঁকে হাজির করা হয়েছিল ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতে।

মতিঝিলের সেন্টু ওরফে কামালের বিরুদ্ধে দায়ের করা হত্যা মামলায় মোট ১২ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ বছরে সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে মাত্র দুজনের। এ মামলায় সেন্টুকে দুই দফায় মোট ১৪০ বার আদালতে হাজির করা হয়েছে। কিন্তু তাঁর বিচার কিংবা জামিন কোনোটিই হয়নি।

তবে এবার উচ্চ আদালতের নির্দেশে জামিন পেয়েছেন সেন্টু কামাল। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহীম ও বিচারপতি জে বি এম হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ সেন্টুসহ তিনজনের জামিন দেন। তাঁদের মামলা ৯০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যজনকে জামিন না দিলেও ৬০ দিনের মধ্যে তাঁর মামলা নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়। (এনটিভি)

করেসপন্ডেন্ট : আপডেট, বাংলাদেশ সময় ১২:০০ এএম, ৮ ডিসেম্বর ২০১৬, বৃহস্পতিবার
ডিএইচ

Leave a Reply