বিশেষ সংবাদ

নির্বাচনের মাঠে সরব বিএনপি:মনোনয়ন প্রত্যাশীরা সক্রিয়

‘সামনে আসছে শুভ দিন, ধানের শীষে ভোট দিন’- সম্প্রতি এক ইফতার মাহফিলে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার এমন বক্তব্য নেতাকর্মীদের মধ্যে বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। ভোটের মাঠে সরব হয়ে উঠেছেন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। ঈদ সামনে রেখে তারা গণসংযোগে নেমেছেন জোরেশোরে।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, আন্দোলনের প্রস্তুতি নেয়ার পাশাপাশি নির্বাচনী এলাকায় জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে নেতাদের পরোক্ষভাবে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কেন্দ্র থেকে কাউকেই এখনো পর্যন্ত নির্বাচন করার চূড়ান্ত সিগন্যাল দেয়া হয়নি। যার ফলে মনোনয়ন প্রত্যাশী সবাই যে যার মতো করে সামাজিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। ক্ষমতাসীন দলের বাধা উপেক্ষা করেই রমজানের শুরু থেকে চলছে ইফতার মাহফিল, দুস্থদের মাঝে ইফতারসামগ্রী বিতরণ ও নির্যাতিতদের আর্থিক সহায়তা প্রদান কার্যক্রম। ঈদ সামনে রেখে এখন শুরু হয়েছে ঈদ উপহার বিতরণ। শুধু তাই নয়, আগামী নির্বাচনকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় নিয়ে যোগ্য অথচ নিষ্ক্রিয় বা অসচেতন এমন সবাইকে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে কেন্দ্র থেকে জেলায় চিঠি পাঠানো হয়েছে।

বিএনপি রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু কেন্দ্রের চিঠির কথা জানিয়ে বলেন, বিএনপি মহাসচিব জেলাপর্যায়ে দু’দিন আগে এমন চিঠি পাঠিয়েছেন। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে ১৮ বছর বয়সী প্রাপ্তবয়স্ক কেউই যাতে ভোটার তালিকা থেকে বাদ না পড়ে। নির্বাচনী মাঠের কথা তুলে ধরে নাটোর সদর আসনের সাবেক এই এমপি বলেন, দলীয় ও সামাজিক নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আমরা ভোটারদের সচেতন করার চেষ্টা করছি। আশা করছি, এবার তারা ভোট কেন্দ্রে যাবেন। গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে নিজেরাই ভোটকেন্দ্রে পাহারা বসাবেন।

জানা গেছে, দলীয় নয়, সহায়ক সরকারের অধীনেই আগামী নির্বাচনে অংশ নেয়ার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী বিএনপি। এ চিন্তা থেকে বেগম খালেদা জিয়া ধানের শীষের পে ভোট চাওয়া শুরু করেছেন। আর এতে করে সারা দেশের নেতাকর্মী, সমর্থকরা আরো চাঙ্গা হয়ে উঠেছেন। এভাবেই নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন ও একাদশ নির্বাচনের প্রস্তুতি যুগপৎভাবেই এগিয়ে নিতে চাইছে দলের হাইকমান্ড। দলটির একাধিক নেতা বলেছেন, নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে বিএনপির দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক। দেশের ভেতরেই কেবল নয়, ধানের শীষের পে খালেদা জিয়ার ভোট চাওয়ার ফলে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বিএনপি সম্পর্কে একটি ইতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হবে। একই সাথে কোনো কারসাজির মাধ্যমে বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখার চেষ্টা করা হলে তার বিরুদ্ধে তীব্র জনমত গড়ে উঠবে।

জানা গেছে, রোজার পরে খালেদা জিয়া চোখের ও পায়ের চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যাবেন। চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরে নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের একটি রূপরেখা জাতির সামনে উপস্থাপন করবেন তিনি। এরপর ধানের শীষের পে ভোট চাইতে মাঠে নামবেন খালেদা জিয়া। বিভাগীয় শহরে হবে সভা-সমাবেশ।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে অংশ না নেয়ায় এবার ৩০০ আসনে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীর তালিকা বেশ দীর্ঘ। প্রায় প্রতিটি আসনেই পাঁচ থেকে ছয়জন নেতা দলের চূড়ান্ত টিকিট পেতে আগ্রহী। সেই আগ্রহ থেকেই অনেক নেতা মাঠে নেমেছেন। মনোনয়ন না পেলেও ভবিষ্যতের জন্য দলের নজর কাড়ার লক্ষ্য নিয়েও কাজ শুরু করেছেন তরুণ বহু নেতা। তবে কমপক্ষে ১০০ আসনে সাবেক এমপিদের মনোনয়ন পাওয়া প্রায় নিশ্চিত।

বিএনপির সিনিয়র নেতা ও ঢাকা-৫ এর সাবেক এমপি সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমরা আন্দোলন ও নির্বাচনের প্রস্তুতি একইসাথে নিচ্ছি। ঈদ সামনে রেখে নির্বাচনী এলাকায় সামাজিক কর্মকাণ্ড স্বাভাবিকভাবেই বেড়েছে। তবে দলের চেয়াপরপারসন যে নির্দেশনা দেবেন সেভাবেই দলের নেতাকর্মীরা কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছেন।

ঢাকা-১৩ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে সামাজিক সম্পৃক্ততামূলক কাজের পরিধি বেড়েছে। রমজান মাসজুড়েই এ কার্যক্রম চলছে। সার্বক্ষণিক মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করছি। গত শনিবার তিনি মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পে গরিব ও দুস্থদের মধ্যে শাড়ি ও লুঙ্গি বিতরণ করেন।

কিশোরগঞ্জ-৬ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী জেলা বিএনপির সভাপতি শরীফুল আলম বলেন, নির্বাচনী গণসংযোগ চলছে। ভোটারেরা সুষ্ঠু ভোটের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। নেতাকর্মীরাও সেইভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

পটুয়াখালী-৩ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী বিএনপি নির্বাহী কমিটির সদস্য তরুণ নেতা হাসান মামুন বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে এলাকার মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে যথাসম্ভব চেষ্টা করছি। দল যদি যোগ্য মনে করে এই আসনে আমাকে প্রার্থী করে তাহলে ইতিবাচক ফল এনে দিতে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করব।

ফরিদপুর-৩ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী তরুণ যুবদল নেতা মাহবুবুল হাসান পিঙ্কু বলেন, বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সর্বশেষ উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করেছি। আওয়ামী লীগ ভোট জালিয়াতি না করলে তিনিই ওই নির্বাচনে বিজয়ী হতেন। তবে মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি। এলাকার মানুষের সুখে-দুঃখে সারা বছরই তাদের পাশে আছি। ঈদকে ঘিরে জেলা সদরের ১১টি ইউনিয়নে শাড়ি-লুঙ্গি বিতরণ করা হবে। দল যদি যোগ্য মনে করে তাহলে তিনি এই আসনে নির্বাচন করতে চান।

সিরাজগঞ্জ-৫ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী তরুণ নেতা রকিবুল করিম খান পাপ্পু বলেন, নির্বাচন হলে যোগ্য ব্যক্তিকেই মনোনয়ন দেবেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সেই প্রত্যাশা থেকে আমরা গণসংযোগ শুরু করেছি। সুখে-দুঃখে এলাকার মানুষের কাছে যাচ্ছি। নানা সামাজিক কর্মকাণ্ডে নিজেকে জড়িত রেখেছি । ন:দি:

নিউজ ডেস্ক : আপডেট, বাংলাদেশ সময় ০৯:২৫ এ.এম, ২১ জুন ২০১৭,বুধবার
ইব্রাহীম জুয়েল

Share