প্রতি বছরের ন্যায় এবারও চাঁদপুর শহরের ৫নং ওয়ার্ডে রঘুনাথপুরে হযরত শাহ্ সুফি সাধক খাজা লোকমান আলী ফকির এর ১৪তম ওফাত দিবস উপলক্ষে মাজারে ওয়াজ ও দোয়া মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
৩ মে শনিবার বাদ আসর এর পর কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হয় লোকমান আলী ফকিরের ১৪তম ওফাত দিবস এ উপলক্ষে মাজারে ওয়াজ মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রাধান মেহমান হিসাবে মিলাদ ও দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করেন বাংলাদেশ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত নেতা পীরজাদা হযরত মাওলানা খাজা জুবায়ের আহমেদ। অনুষ্ঠানে বিশেষ মেহমান হিসেবে ওয়াজ করেন হযরত মাওলানা বাংলাদেশ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত নেতা মাওলানা মিজানুর রহমান চিশতী চাঁদপুরী।
এ সময় তিনি বলেন, ‘আমাদের মধ্যে একদল আছে অলি আউলিয়াদের পছন্দ করেন না তারা বলে কিসের তারা মাজার পূজারী বলে বিভিন্ন ওল্টা কথা বলে থাকে ।
আরে এদেশে যদি অলি-আওলিয়াগণ যদি না আসতো তাহলে আমারা এবং আপনারা মুসলমানি হতে পারতাম না । ভারতের হযরত খাজা মঈনুদ্দীন চিশতী আজমিরী (রহ.) ভারতীয় উপমহাদেশে ইসলামের এক মহান সাধক ও আধ্যাত্মিক জগতের এক উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক। তিনি দক্ষিণ এশিয়ায় চিশতী তরিকার প্রবর্তক এবং ইসলামী সুফি মরমীধারার প্রসারে উল্লেখযোগ্যভাবে অবদান রাখেন। ‘সুলতানুল হিন্দ’ ও ‘গরীব নওয়ায’ (দরিদ্রদের উপকারকারী) নামেও তিনি সমধিক পরিচিতি লাভ করেন। ৯৭ বছরের পুরো জীবন তিনি তাওহীদের প্রচার, দ্বীনের দাওয়াত, আত্মসংযম ও মানবসেবায় উৎসর্গ করেন। ভারতীয় উপমহাদেশে চিশতিয়া তরিকার প্রতিষ্ঠাতা হযরত খাজা মঈনুদ্দীন চিশতী (রহ.) এশিয়ার সিজিস্তানের অন্তর্গত সানজার নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন। এটি বর্তমানে আফগানিস্তান ও পাকিস্তান সীমান্তবর্তী ইরানের দক্ষিণ-পূর্ব অংশে অবস্থিত। শৈশব থেকেই তিনি ধার্মিকতা ও ত্যাগের গুণাবলির অধিকারী ছিলেন। তার হাত দরে লাখ লাখ হিন্দু মুসলমান হয়েছেন এখন কোটি মানুষ মুসলমান ভারতে রয়েছে। বাংলাদেশে হযরত শাহজালাল ইয়ামানি (রাঃ) হযরত শাহ পরান ইয়ামনি (রাঃ) সহ ৩৬০ জন আল্লাহ ওলিগনরা এসে ইসলাম জিন্দা করে গেছেন তাদেরও মাজার রয়েছে।
যে লোক আল্লাহকে ডাকতে ডাকতে তিনি অলি আউলিয়ার কাতারে পৌঁছে যায় তার হয় মাজার আর সাধারণ মানুষের হয় কবর। হযরত শাহ সুফি লোকমান আলী ফকির অলি আউলিয়ার কাতারে পৌঁছে গেছেন সেইজন্যে হয়েছে তার মাজার। আসুন আমরা সবাই অলি আউলিয়াদেরকে ভালবেসে মহান আল্লাহ রাসুল পাক কে স্বরন করি এবং ডাকি একদিন আপনিও তাদের মতো হয়ে যেতে পারেন আল্লাহ ওলি । উক্ত অনুষ্ঠান দায়িত্ব ও পরিচালনা করেন লোকমান আলী ফকিরের ভক্ত মোহাম্মদ জাকির মজুমদার, মাজার কমিটির সাধারন সম্পাদক মোহাম্মদ জাকির মিয়াজী, ঢাকার মামা দেলোয়ার হোসেন, মোঃ শাহাদাত মজুমদার, মোহাম্মদ বিলাল হাজী, খাদেম মাস্টার দেলোয়ার সহ ভক্তবৃন্দ। উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ছালীর ঘাট মইনীয়া-সাইফিয়া খানকার সভাপি ও দৈনিক চাঁদপুর সময় এর প্রকাশক মোহাম্মদ এরশাদ খান, খলিফা মুসলিম ফকির, খলিফা মোঃ মুনির হোসেন খান, খলিফা মাওলানা মোঃ কবির হোসেন গাজী, মোবারক শাহ এর ভক্ত মোঃ আব্দুর রশিদ খান, মোঃ সিরাজুল ইসলাম, জাকের মঞ্জিল এর ভক্ত মাওলানা মোঃ তাজুল ইসলাম,। অনুষ্ঠানে সান পরিবেশন করেন মোহাম্মদ আরমান বাঙ্গালী, আরো উপস্থিত ছিলেন দেওয়ান বাগ দরবারের ভক্ত মোঃ শাখায়ত হোসেন, সাইফিয়া ভক্ত মোঃ ইসমাল হোসেন মইনিয়া ভক্ত মোহাম্মদ মমতাজ উদ্দিন আব্দুল মালেক মিয়াজী, লোকমান আলী ফকিরের ভক্ত সৈয়াদ আহমেদ ও মোহাম্মদ শামীম মোঃ হানিফ মোঃ আনোয়ার হোসেন সহ ভক্ত বৃন্দু ও বিভিন্ন তরিকতের আশেক ও জাকেরগন উপস্থিত ছিলেন। পরে মিলাদ শেষে সবার মাঝে তবারক বিতরণ করা হয়।
-এমকে এরশাদ/ ৩ মে ২০২৬
Chandpur Times | চাঁদপুর টাইমস Top Newspaper in Chandpur