বিচারিক এখতিয়ার-বহির্ভূত কর্মকাণ্ডের অভিযোগে শাহরাস্তি থানার অফিসার ইনচার্জ মীর মাহবুব আলমকে আদালতে তলব করা হয়েছে।
গত ১০ মে চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে ইভটিজিংয়ের অভিযোগে আটক চার ব্যক্তিকে আদালতের পরিবর্তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের (নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট) মাধ্যমে জরিমানা করায় আইনি প্রশ্ন তুলেছেন চাঁদপুরের আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাহাদাতুল হাসান আল মুরাদ। বিচারক স্বপ্রণোদিত হয়ে এই বিষয়ে আদেশ প্রদান করেন।
আদেশে বলা হয় দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৫০৯ ধারা অনুযায়ী ইভটিজিং একটি জামিন অযোগ্য অপরাধ। বিশেষ করে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০ এর ১০ ধারার অধীনে এটি একটি আমলযোগ্য অপরাধ। এই ধরনের অপরাধের বিচারিক কার্যক্রম বা সাজা প্রদানের একমাত্র এখতিয়ার জুডিসিয়াল বা আমলি ম্যাজিস্ট্রেটের, যা কোনোভাবেই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়ার কথা নয়।
আদালত আরও উল্লেখ করেন, অভিযুক্তদের নিয়মিত মামলার মাধ্যমে আমলি ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট উপস্থাপন না করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে সোপর্দ করা আইনগত এখতিয়ারকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এটি দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ২২০ ধারার পরিপন্থি হতে পারে বলেও আদালতের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে। আদালতের কঠোর নির্দেশ আইনের যথাযথ প্রক্রিয়া কেন অনুসরণ করা হলো না, সে বিষয়ে সুষ্ঠু ও আইনানুগ ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য শাহরাস্তি থানার অফিসার ইনচার্জকে (ওসি) আগামী মঙ্গলবার (১২ মে) সশরীরে আদালতে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওই দিন তাকে গৃহীত পদক্ষেপগুলোর বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা জমা দিতে হবে।
ঘটনার সূত্রপাতে জানা যায়, গত ৫ মে দৈনিক একটি পত্রিকায় প্রকাশিত একটি সংবাদের মাধ্যমে বিষয়টি আদালতের নজরে আসে। প্রতিবেদনে জানানো হয়, শাহরাস্তি থানার চিতোষী পূর্ব ইউনিয়ন থেকে ইভটিজিংয়ের অভিযোগে ৪ জনকে আটক করে পুলিশ। পরবর্তীতে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ওই ৪ ব্যক্তিকে মোট ২ দুই লাখ টাকা জরিমানা করেন এবং তা আদায় করা হয়।
শাহরাস্তি প্রতিনিধি/ ১১ মে ২০২৬
Chandpur Times | চাঁদপুর টাইমস Top Newspaper in Chandpur