রাজরাজেশ্বরে হাজারও মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে দিলেন যুবদল নেতা
চাঁদপুর সদর উপজেলার ১৪নং রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের দেওয়ানকান্দি ও প্রধানীয়া কান্দি এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের চলাচল দুর্ভোগের অবসান ঘটাতে নিজ অর্থায়নে প্রায় ৩০০ ফুট দীর্ঘ একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করেছেন জেলা ডেভেলপার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও রাজরাজেশ্বর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি কবির চোকদার।
শনিবার (২০ জুন ২০২৬) সকালে দলীয় নেতাকর্মী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে ফিতা কেটে সাঁকোটির উদ্বোধন করেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দেওয়ানকান্দি ও প্রধানীয়া কান্দির মাঝ দিয়ে প্রবাহিত একটি খালের কারণে বছরের পর বছর এলাকাবাসীকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। খাল পারাপারের জন্য এক বা দুটি নৌকাই ছিল একমাত্র ভরসা। ফলে প্রতিদিন কর্মজীবী মানুষ, কৃষক, ব্যবসায়ী, নারী ও শিশুদের যাতায়াতে ব্যাপক দুর্ভোগের সৃষ্টি হতো।
সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ত শিক্ষার্থীরা। খাল পার হয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হতো ইউনিয়নের দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের। স্থানীয় এম বি দেওয়ানকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও রাজরাজেশ্বর ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের শত শত শিক্ষার্থী প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় পারাপার করত। বর্ষা মৌসুমে এ দুর্ভোগ আরও কয়েকগুণ বেড়ে যেত।
এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, নতুন এই সাঁকো নির্মাণের ফলে অন্তত ৬ থেকে ৭টি গ্রামের প্রায় ৩ থেকে ৪ হাজার পরিবারের মানুষের যাতায়াত সহজ হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষিপণ্য পরিবহন এবং দৈনন্দিন কাজে মানুষের সময় ও ভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে একটি সেতুর দাবি থাকলেও বাস্তবায়ন না হওয়ায় মানুষ কষ্টে ছিল। এমন অবস্থায় নিজ উদ্যোগে ও নিজস্ব অর্থায়নে সাঁকো নির্মাণ করে কবির চোকদার এলাকাবাসীর প্রশংসা কুড়িয়েছেন।
এ বিষয়ে কবির চোকদার বলেন, আমরা রাজনীতি করি মানুষের কল্যাণের জন্য। দীর্ঘদিন ধরে এখানকার মানুষ বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা চরম কষ্ট করে খাল পারাপার করত। তাদের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করেই আমি নিজ অর্থায়নে এই সাঁকো নির্মাণ করেছি। ভবিষ্যতে আমাদের অভিভাবক মাননীয় সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক ভাইয়ের সহযোগিতায় এখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের ব্যবস্থা করা হবে বলে আশা করছি।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজরাজেশ্বর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসেম চোকদার, ইউপি সদস্য শফিকুল কুড়ালী, ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সুফিয়ান পাটওয়ারী, সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন মোল্লা, অলিউল্লাহ দেওয়ান, আনোয়ার সরদার, আলমগীর মাল, মুরাদ চোকদার, ওয়ালিউল্লাহ, সালেহ আহমদ, আবুল কালাম, নিজাম উদ্দিন প্রধানীয়া, শাহজালাল মাল, আলী হোসেন ঢালী, এবাদ উল্লাহ দেওয়ান, আবুল হোসেন মাল, আলতাফ বেপারীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
এলাকার একাধিক প্রবীণ ব্যক্তি জানান, চোকদার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে এলাকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে নির্মিত এই বাঁশের সাঁকো সেই ধারাবাহিকতারই আরেকটি উজ্জ্বল উদাহরণ।
প্রতিবেদক: কবির হোসেন মিজি/ ২০ জুন ২০২৬