সাড়ে ৩ বছরেও হস্তান্তর হয়নি ফরিদগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন

আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন উদ্বোধন করলেও গত প্রায় সাড়ে তিন বছরেও উক্ত কমপ্লেক্স ভবনটি সরকারি ভাবে হস্তান্তর করা হয়নি। যার ফলে নতুন ভবন বুঝে না পাওয়ায় ফরিদগঞ্জের ভাতাপ্রাপ্ত প্রায় ৮শতাধিক মুক্তিযোদ্ধার স্বার্থে বিভিন্ন কার্যক্রম চালাতে নানা বাধার মুখে পড়ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এ নিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, সাড়ে তিন বছরেও ফরিদগঞ্জের উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনটি আনুষ্ঠানিক ভাবে হস্তান্তর না হওয়ার জন্য মূলত দায়ী কে?

সরকারি ভাবে ওই ভবনটি বুঝে না পাওয়ায় ভবনটির নীচ তলায় ১২টি দোকান ভাড়া দিতে পারছে না সংশ্লিস্ট কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি এই ভবনের জন্য বরাদ্দ থাকা একটি কম্পিউটার ও টেলিভিশন দীর্ঘদিন পরে আছে উপজেলা প্রকৌশলী অফিসে। নৈশ প্রহরী সহ তিন জনের নিয়োগ প্রক্রিয়াও বন্ধ রয়েছে।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, সরকারের বরাদ্দকৃত ২ কোটি ৪ লাখ টাকা ব্যায়ে উপজেলা সদর এলাকায় ব্যসষ্ট্যান্ডের পাশে তৃতীয় তলা বিশিষ্ট ফরিদগঞ্জ উপজেলা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয়েছিল। ভবনটি নির্মানের পর পরে ২০১৮ এর পহেলা এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিক ভাবে ভবনটি উদ্বোধন করেন। কিন্তু গত প্রায় সাড়ে তিন বছরেও আনুষ্ঠানিক ভাবে ওই ভবনটি মুক্তিযোদ্ধাদেরকে সরকারি ভাবে হস্তান্তর না করায় ভবনটি দীর্ঘদিন অযন্তে অবহেলায় পড়ে আছে।

এক পর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের স্বারক সম্বলিত এক নির্দেশের বলে ফরিদগঞ্জের ইউএনও শিউলী হরি চলতি বছরের ৮ মার্চ উক্ত ভবনটি রক্ষনা বেক্ষন ও পরিচালনার জন্য ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। এই ৫ সদস্যরা হলেন যযথাক্রমে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা প্রকৌশলী, ২০১০ ও ২০১৪ সালের নির্বাচিত উপজেলা কমান্ডার মোঃ সহিদুল্লা তফাদার, ২০১৪ এ নির্বাচিত ডেপুটি কমান্ডার মোঃ সরোয়ার হোসেন ও উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার। এই কমিটির সরকারি চিঠি মুক্তিযোদ্ধা কিষয়ক মন্ত্রনালয়ের সচিব, চট্রগ্রাম বিভাগীয় কমশিনার, জেলা প্রশাসক বরাবরে প্রেরণ করা হয়েছিল।

জানা গেছে, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নামের নতুন ভবনটি আনুষ্ঠানিক ভাবে হস্তান্তর না করতে পারায় এই ভবনে ১২টি দোকান কাউকে ভাড়া দেয়ার ব্যপারে কোন সিন্ধান্ত নিতে পারছে না কমিটি। শুধ তাই নয়, এই ভবনে একজন নৈশ প্রহরী সহ তিনজন লোক নিয়োগ করার বিধান থাকলে কাউকে নিয়োগ করতে করতে পারছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ফলে মুক্তিযোদ্ধাদের স্বার্থে নানাবিধ কার্যক্রমে বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে।

ভবনটি সরকারি ভাবে আনুষ্ঠানিক ভাবে হস্তান্তর না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে এক মুক্তিযোদ্ধা মোঃ তোফাাজ্জল হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ভবনটি উদ্বোধনের পর গত সাড়ে তিন বছরেও আনুষ্ঠানিক ভাবে সরকারি ভাবে হস্তান্তর না হওয়ার বিষয়টি আমাদেরকে মর্মাহত করেছে। তিনি আরো বলেন, এক পর্যায়ে আমরা বাধ্য হয়ে এই অফিসে চলতি বছরে মার্চ মাস থেকে উক্ত কমপ্লেক্সে জাতীয় দিবসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা সহ মুক্তিযোদ্ধাদের স্বার্থে দায়সারা ভাবে নানাহ কার্যক্রম চালিয়ে নিচ্ছি মাত্র।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন রক্ষনা বেক্ষন ও পরিচালনা কমিটির এক সদস্য কমান্ডার মোঃ সহিদুল্লা তফাদার বলেন, আনুষ্ঠানিক ভাবে উক্ত ভবনটি সরকারি ভাবে হস্তান্তর করতে না পারায় মূলত এখন মুক্তিযোদ্ধা ও এ ভবনের স্বার্থে যাবতীয় কার্যক্রম চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, ভবনটি হস্তান্তর না হওয়ায় এই ভবনের জন্য নৈশ প্রহরী সহ ৩ জন লোকের নিয়োগ ও ভবনটি জন্য বরাদ্দ হওয়া একটি কম্পিউটার ও একটি টেলিভিশন পড়ে আছে উপজেলা প্রকৌশলী অফিসে।

এ নিয়ে শনিবার সন্ধ্যায় মুঠোফোনে বক্তব্য চাইলে ইউএনও শিউলী হরি বলেন, ‘উক্ত বিষয়ে জানতে চাইলে আমার অফিসে এসে কথা বলেন।’

প্রতিবেদকঃ শিমুল হাছান, ৩ অক্টোবর ২০২১

Share