ফরিদগঞ্জে মাদক বিক্রিতে বাঁধা দেওয়ায় হামলা, থানায় অভিযোগ

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে মাদক বিক্রিতে বাঁধা দেওয়ায় মাদক ব্যবসায়ীর হামলায় ১২ নং চরদুঃখিয়া ইউনিয়ন বিট পুলিশিংয়ের সাবেক সাধারন সম্পাদসহ ২ জনকে পিটিয়ে আহত করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ২৫ আগস্ট সকালে উপজেলার ১২ নং চরদুঃখিয়া ইউনিয়নের পূর্ব লড়াইরচর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ওইদিন রাতেই আহত বিট পুলিশিংয়ের সাধারন সম্পাদক বেলায়েত হোসেন বাদী হয়ে ফরিদগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

থানায় অভিযোগ ও বেলায়েত হোসেন পাটওয়ারী জানান, এলাকায় মাদকের প্রভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় এলাকাবাসীরা মাদক ও বিভিন্ন অপরাধ মূলক কাজ থেকে সকলকে সুরক্ষিত রাখতে জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মানুষের সমন্বয়ে উপজেলার ১২নং চরদুঃখিয়া ইউনিয়নের লড়াইরচর এলাকায় মাদক বিরোধি কমিটি করেন। সেই লক্ষে গত ২৪ আগস্ট কমিটির সদস্য বেলায়েত হোসেনসহ এলাকাবাসী মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে এ সকল ধরনের অপরাধ না করার জন্য বারন করে আসেন। তারই জেরধরে ২৫ আগস্ট সকালে বেলায়েত হোসেন (৩৮) ও তাঁর মামা রায়পুর এলাকার কাজিরচর এলাকার সুমন ছৈয়াল (৩০)সহ লড়াইরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় উল্লেখিত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী লড়াইরচর এলাকার তোফায়েল আহম্মেদ পাটওয়ারীর ছেলে নেছার আহাম্মেদ (৩২), রায়পুর উপজেলার কাজিরচর এলাকার মৃত- হোসেন দেওয়ানের ছেলে কালু দেওয়ান (৬০), কালু দেওয়ানের ছেলে শ্যামল (২৯) এবং আলী হোসেন (২৪) তাদরকে মারধর করে নগদ টাকা ও ব্যবহৃত মোবাইল ফোন চিনিয়ে নিয়ে যায়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আবদুল আজিজ দেওয়ান,সাবেক মেম্বার শহীদুল ইসলাম দেওয়ান, প্রাক্তন শিক্ষক আবুল কাশেম, তোফালেয় আহমেদ ও একেএম তসলিম উদ্দিনসহ আরো অনেকেই জানায়, মাদক ব্যবসায়ী কালু দেওয়ান, শ্যামল, আলী হোসেন ও নেছার আহম্মেদ এলাকায় মাদক ব্যবসা, সেবন, ছুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, ইভটিজিংসহ নানা অপকর্ম করে আসছে।

তারা আরো জানান, কালু দেওয়ানের ছেলে শ্যামল, আলী হোসেন দেওয়ান ইতোপুর্বে মাদক মামলায় একাধিকবার জেল খাটলেও তারা এই কাজ থেকে বিরত হয়নি। আমরা আমাদের যুবসমাজ ও ভবিষ্যত প্রজন্মকে মাদকের বয়াল থাবা এবং অপরাধ মূলক কাজ থেকে রক্ষা করার জন্য মাদক বিরোধী একটি কমিটি গঠন করেছি এবং তা প্রশাসনের জ্ঞাতার্থে অনুলিপি চাঁদপুরের পুলিশ সুপার, ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার, পুলিশ সুপার লক্ষীপুর, অফিসার ইনচার্জ রায়পুর এবং হায়দারগঞ্জ পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জকে প্রদান করি।

মামলা তদন্ত কারী অফিসার এসআই আবদুল কুদ্দুস মিয়া জানান, আমি উল্লেখিত বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। ব্যস্ততা থাকার কারনে আমি ঘটনাস্থলে যেতে পারিনি।

এ বিষয়ে রায়পুর থানার অফিসার ইনচার্জ আবদুল জলিল জানান, এই এলাকাটি রায়পুর এবং ফরিদগঞ্জের সীমান্তবর্তী হওয়ায় মাদকের প্রখরাতা খানিকটা বেশি। অভিযোকৃত শ্যামল ও হোসেনকে মাদকসহ একাধিকবার আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করেছি। তাদেকে পুনরায় আমরা আবার আটক করার চেষ্টা করছি। আমি সহসায়ই ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জের সাথে আলোচনা করে একটি মাদক বিরোধী আলোচনা এবং প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার তদন্ত (ওসি) মোঃ বাহার মিয়া জানান, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদনÍ সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

প্রতিবেদক: শিমুল হাছান, ২৯ আগস্ট ২০২১

Share