Home / চাঁদপুর / মাদক-জুয়া তরুণ প্রজন্মকে এর ভয়াবহতা বুঝাতে পারলে আগামীতে কেউ মাদকাসক্ত হবে না: মাসুম আলম
safarmali

মাদক-জুয়া তরুণ প্রজন্মকে এর ভয়াবহতা বুঝাতে পারলে আগামীতে কেউ মাদকাসক্ত হবে না: মাসুম আলম

জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা চাঁদপুর জেলা শাখার আয়োজনে মাসব্যাপী মাদক-জুয়া ও কিশোর গ্যাং অপরাধীদের প্রতিরোধকল্পে জনসচেতনামূলক ক্যাম্পেইন বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার ২৮ জুলাই ২০২৬ সকাল ১১টায় সফরমালী উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়।

এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অফিসার মো.মাসুম আলম। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘‘বর্তমান সরকার মাদককে জিরো টলারেন্সে আনতে নিরলস কাজ করছেন। আমরা সরকারের নির্দেশনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কাজ করছে। মাদক-জুয়া তরুণ প্রজন্মকে এর ভয়াবহতা বুঝাতে পারলে আগামীতে কেউ মাদকাসক্ত হবে না। ‘’

তিনি আরো বলেন,‘‘ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে হলে মাদক থেকে দূরে থাকতে হবে। কারণ যারা মাদক সেবন করে বা মাদকাসক্ত তাদের ভালো প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ থাকবে না। আমরা যারা চাকরি করি আমাদেরকে প্রতিবছরই মাদকের বিষয়ে ডোপ টেস্ট করা হয় এবং যারা নতুন চাকরি করবে তাদেরকেও ডোপ টেস্ট করে চাকরিতে সুযোগ দেয়া হবে। কাজেই আমরা ভালো মানুষ হওয়ার প্রত্যয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষা থেকে নিতে হবে।’’

সভায় সভাপতিত্ব করেন সফরমালী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো.হাসান আলী। জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা মো.সাইফুল্লাহ স্বাগত বক্তব্য রাখেন।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো.আবদুর রহমান গাজীর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস একাডেমিক সুপারভাইজার সুমন কুমার দাস,কল্যাণপুর ইউনিয়নের জমইয়াতে হিযবুল্লাহর সাধারণ সম্পাদক মাও. মো.সোলায়মান হাজরা ও সফরমালী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মাও.মো.শাহাদাত হোসাইন মোহেব্বী প্রমুখ।

ক্যাম্পেইনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- সংগঠনের জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত করিম, সিনিয়র কার্যকরি সদস্য আবদুল গনি,সদস্য মো.আরিফুর রহমান সাগর,মো.সোহেল মিয়াজী ও বোরহান সাইফ, সফরমালী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো.ফিরোজ মামুন।

অন্যান্য বক্তাগণ মাদকের ভয়াবহ পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন – দেশে র্মাদকাসক্ত ৮৩ লাখ। জনসংখ্যার প্রায় ৪.৮৮%। অধিকাংশই তরুণ। প্রায় ৩৩% ৮-১৭ বছর বয়সে প্রথম মাদক সেবন করেছেন। ৫৯% প্রথম সেবন করেছেন ১৮-২৫ বছর বয়সে। মাদক অধিদপ্তরের সূত্রে জানা গেছে -সবচেয়ে বেশি মানুষ গাজা সেবন করেন। এরা অন্য মাদকও সেবন করেন। গাজা সেবনকারীর সংখ্যা ৬০ লাখ ৭৯ হাজার জন। ইয়াবা ২২ লাখ ৯২ হাজার ৭শ,অ্যালকোহল ২০ লাখ ২০ হাজার ৯শ,কোডিন ফসফেট ৩ লাখ ৩৯ হাজার ৬ শ ৬০, হেরোইন ৩ লাখ ২২ হাজার ৬শ, ঘুমের ওষুধ ৩ লাখ ৫ হাজার ৬শ, ১ লাখ ৫২ হাজার ৮শ জন । একজন মাদকসেবী মাসে কমবেশি ৬ হাজার টাকা ব্যয় করেন।

বেকারত্ব, বন্ধুমহলের প্রভাব, আর্থিক অনিশ্চয়তা, পারিবারিক অস্থিরতা,মানসিক চাপ ও অনানুষ্ঠানিক পেশায় যুক্ত থাকা মাদক সেবনের প্রধান ঝুঁকিপূর্ণ কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

আশঙ্কাজনকভাবে প্রায় ৯০% সেবনকারী মাদক সহজলভ্য বলে জানিয়েছেন। দেশে মাদক ব্যবহারকারী চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের সুযোগ খুবেই সীমিত। মাত্র ১৩% মাদক সেবনকারী কখনো চিকিৎসা বা পুনর্বাসন সেবা গ্রহণ করার সুযোগ পেয়েছেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন বিদ্যালয়ের ছাত্র তানজিম হাসান লিটন। গীতা পাঠ করেন শিখা রানী। অনুষ্ঠানে সবাই সম্মিলিত কন্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন।

অনুষ্ঠানে মাদক জুয়া কিশোর গ্যাং ও বৃক্ষরোপণ এবং নিরাপদ সড়ক বিষয়ক গুরুত্বরোপ করে আলোচনা করেন অতিথিবৃন্দ।

২৮ জুলাই ২০২৬
এ জি