ফিচার

মফস্বল সাংবাদিকতার কিছু কথা : গাজী মহিনউদ্দিন

সাংবাদিক জাতির বিবেক আর সংবাদপত্র হচ্ছে প্রকাশনার মাধ্যম একে অন্যের পরিপূরক। মত প্রকাশের শ্রেষ্ঠ মাধ্যম সংবাদপত্র। সত্য প্রকাশই একমাত্র ধর্ম। মফস্বল থেকে শুরু করে প্রকাশনা পর্যন্ত বহু ব্যক্তির দেখা মিলে; যাদের অধিকাংশই সংগ্রাম করে টিকে থাকতে হয়।

খারাপ কাজের জন্য যে রকম ধমক শুনতে হয়, ভালো কাজের জন্য একই পরিণতি বরণ করতে হয়!

যদি কোন সংবাদ প্রকাশ করা হয়, তাতে কোন ব্যক্তির উপকৃত হয়ে থাকে। আবার কারো পক্ষে তা ক্ষতি সাধন করে থাকে।

সংবাদপত্রের প্রতিটি খবর আয়নার মত সমাজের চোখে তুলে ধরে যা কোন ব্যক্তি বিশেষের স্বাথের্র উপর ব্যাপক আকার ধারণ করে। তা ওই লেখকের ওপর দায় বর্তায়। সে তখন ভালো কাজের জন্য খারাপের তালিকায় পড়ে। আর তখনি ভাল লেখনিও খারাপের তালিকায় পড়ে। যতই ভাল কিংবা সত্য প্রকাশের জন্য ছুটে বেড়ায়, ততোই শত্রু কিংবা সংঘাতের কবলে পড়তে হয়। সাংবাদিকতা পেশাকে মহান পেশা বলা হলেও তার বিনিময়ে শুনতে হয় সাংঘাতিক শব্দটি। সাংবাদিক পেশায় এসে ২টি বছর পার করছি তা আবার এক খানা নতুন পত্রিকা প্রকাশের পঞ্চম দিন থেকে। যাই হোক সাংবাদিকতা পেশাটিকে মহান এবং সত্যব্রতী ভেবে সংবাদ মাধ্যমে জড়িয়ে পড়ি; বিনিময়ে মানুষের কাছ থেকে পেয়েছি অকট্য কথা-বার্তা আর বদনাম।

অনেকে ব্যঙ্গ করে সাংঘাতিক বলে ডাকে। তাদের মধ্যে অনেকেই আমার বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়-স্বজন রয়েছে। জানি না, এই বদনাম খানির পেছনে রহস্যটা কি? কেন সংবাদকর্মীদের দেখলে মানুষ একথাটি বলে থাকেন? কি মজা পায় তারা? তবে যারা এমনটি বলে থাকেন, তাদের বলছি একথাটি বলা ঠিক না। সংবাদকর্মীরা সাংঘাতিক কথাটি শুনে নিশ্চয় অপমানবোধ করেন। শুনতে অনেক কষ্ট লাগে।

আমি দেখেছি, কোন সাংবাদিক এর জোরালো কোন প্রতিবাদ করে না; কারণ তারা মনে করেন, এর প্রতিবাদ করলে হয়তো বড় ধরনের কোন সংঘাত সৃষ্টি হতে পারে। তাই তারা হাসি মুখে বিষপান করে হজম করার চেষ্টা করেন। এটি নিশ্চয়ই আদর্শ আর ভদ্রতা দেখানো ছাড়া অন্য কিছু নয়। তাই বলবো কারো পেশা নিয়ে কোন মন্তব্য করা ঠিক না। প্রতিটি মানুষই তাদের পেশাকে খুব ভালবাসেন।

যারা এ পেশার মানুষগুলোকে দেখলে বিষক্রিয়া মনে করেন। তাঁরা কোন না কোন ভাবে সাংবাদিকদের কাজের মাধ্যমে সুফল ভোগ করেন। আমি মনে করি এ পেশার মানুষগুলোকে সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করা উচিত। এ পেশার মানুষ গুলোকে সহযোগিতা করার মতো কেউই থাকে না। পর্যায়ক্রমে অপমান অপদস্ত করার মানুষের অভাব নেই।

সাধারণ মানুষ সাংবাদিকদের দেখলে মনে করেন সাংবাদিকরা বেতনভুক্ত কর্মচারী। অনেকেই বলেন, বেতন কত? বেতন ভাতা ছাড়া কি কেউ ঘুরে বেড়ায়। আমি বলবো সাংবাদিকরা নিজের খেয়ে বনের মহিষ তাড়ায়। আগেই বলেছি প্রতিটি মানুষ তাঁর পেশাকে সবচেয়ে বেশি ভালবাসে। তাইতো শত কষ্ট ও অপমানের মাঝেও পেশাটিকে কোন ভাবে ছাড়তে চায় না। একদিকে মফস্বল সাংবাদিকদের যেমন মূল্যায়ন করে না স্থানীয় মানুষ গুলো, অন্যদিকে একই অবস্থা তাদের প্রধান কার্যালয়ের ক্ষেত্রেও। প্রতিনিয়ত এমন দৃশ্যের দেখা মিলে, যা সহে যেতে হয় আমাদের কে

সামাজিক কোন অনুষ্ঠান কিংবা কোন সভা-সেমিনারে গেলে সাংবাদিকদের সংবাদ প্রকাশ করার জন্য সামান্য ফি ব্যবস্থা করে থাকে কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান, যা দেখে কিছু মানুষ বিরাট দুর্নীতি মনে করেন। সামান্য এ ফি গ্রহণ করে যদি দুর্নীতিবাজ হতে হয়; তাহলে সাংবাদিকরা জীবিকা নির্বাহ করবে কেমন করে। আসলে তা সম্মানি ছাড়া আর কিছু নয়।

যে সকল শ্রেণির মানুষ সামান্য ফি কে দুর্নীতি মনে করেন। তাদের বলছি, বাংলাদেশের অধিকাংশ মিডিয়া তাদের জেলা কিংবা উপজেলা প্রতিনিধিদের কিছুই দেয় না। মাঝে মধ্যে অফিস থেকে যা দেন তা হলো ঝাড়ি কিংবা চাকুরি ছেড়ে দেয়ার উপদেশ।

তবে মফস্বল সাংবাদিকদের মানুষ কেন সাংঘাতিক বলে? কি কারণে দুর্নীতিবাজ মনে করে? তার পেছনে সাংবাদিকগণই দায়ী। কিছু কিছু মানুষ তাদের অন্যায় কে দামাচাপা দিতে এবং প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে কিছু তথাকথিত হলুদ সাংবাদিক ও সাংবাদিক নামধারীদের দ্বারস্ত হয়ে থাকেন। মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করে সাধারণ মানুষকে হয়রানির শিকার করে থাকে। পরবর্তীতে হয়রানির শিকার ভূক্তভোগী ওই মানুষগুলো সাংবাদিক দেখলে কিংবা সাংবাদিকদের মহৎ কোন কথা শুনলে মনে করেন সব কিছু অর্থের বিনিময়ে হয়ে থাকে। তখনি সাংবাদিকরা সাধারণ মানুষের আস্তা হারায়। ভূক্তভোগী অনেকেই তখন সাংবাদিকদের ব্যঙ্গ করে ডাকে। সাংবাদিকরা অন্যের দুঃখ প্রকাশ করে সমাজকে শান্তনা দেয়ার চেষ্ঠায় অব্যাহত থাকে।

সমাজে বসবাসরত সর্ব শ্রেণি-পেশা মানুষের মনে কথা তুলে ধরে তাদের লেখনির মাধ্যমে। কিন্তু মফস্বল সাংবাদিকদের দুঃখ বেদনা কথা তুলে ধরার চেষ্ঠা করেও নিজেকে ব্যর্থ পরিচয় দিতে হয়। কারণ সমাজের প্রতিটি স্তরের মফস্বল সাংবাদিকদের অবমূল্যায়ন ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। জানা মতে সাংবাদিক হত্যা মামলায় ন্যায় বিচার পায়নি বরং অপরাধীরা পার পেয়ে যায়। আর ওই সংবাদকর্মীর ভূক্তভোগী পরিবারের নানামুখী যন্ত্রনা বেড়ে যায়। যা আজ পর্যন্ত কারো দৃষ্টি পড়েনি। মফস্বল সাংবাদিকদের কিছু কথা নিরবে ঘুমিয়ে পড়ে; যা কারো কাছে প্রকাশ করে শান্তনা পাওয়া তো দূরের কথা, অশান্তি বেড়ে যায়।

“সরিষার বীজে ভূত থাকে” এ কথাটি এক রকম মিথ্যা বলা যাবে না। সাংবাদিকতা পেশায় দু’একজন খারাপ ব্যক্তি থাকতে পারে তার জন্য সাংবাদিক সমাজকে দায়ী করতে পারে না। কিছু সাংবাধিক নামধারীদের কারণে পুরো সাংবাদিক সমাজ এমন বদনাম বয়ে যাবে তা কারো কাম্য নয়। সাংবাদিকরা সব সময় জীবন বাজি রেখে সমাজের আয়না হিসেবে সামাজিক চলমান সমস্যাদি লেখনির মাধ্যমে তুলে ধরেন। যা অপবাদ সহনীয় নয়, ভাল কাজের জন্য বাহবা না পেলেও সামান্য কারণে বদনামের গ্লানি সব ক্লান্তিকে মলিন করে দেয়। যার ফলে মফস্বল সাংবাদিকদের মনের কথা মনে রয়ে যায়।
আপডেট: ০৭:১৪ অপরাহ্ন, ০১ অক্টোবর ২০১৫, বৃহস্পতিবা

Share