মতলব দক্ষিণ

রোগী শূন্যতায় ফাঁকা হয়ে গেলো মতলব আইসিডিডিআরবি হাসপাতাল

চাঁদপুরের মতলব আইসিডিডিআরবি হাসপাতালে (আন্তজার্তিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্রে) ডায়রিয়া রোগী শূন্য হয়ে পড়েছে। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় পার্শ্ববর্তী জেলা, উপজেলা ও দূর-দূরান্ত থেকে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসতে পারছে না। চাঁদপুর জেলা শহরের আশপাশের কিছু রোগী আসলেও প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা দিয়ে তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে।

হাসপাতাল কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত বছর এ সময়ে গড়ে প্রতিদিন শতাধিক ডায়রিয়ংা আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছিল। এ বছরের মার্চ মাসের শেষের ৯দিনে (২২ মার্চ থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত) হাসপাতালে রোগী ভর্তি হয় অন্য সময়ের চেয়ে অর্ধেকেরও কম। করোনা ভাইরাস সংক্রমনের কারণে এবং গণপরিবহন বন্ধ থাকায় রোগীরা হাসপাতালে আসতে পারছেন না। গড়ে প্রতিদিন ৪৫ থেকে ৫০জন ডায়রিয়া রোগী হাসপাতালে এসে চিকিৎসা সেবা নিয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। করোনা ভাইরাস সংক্রমনের ভয়ে আগত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হতে আগ্রহী হচ্ছে না।

হাসপাতাল কার্যালয় সূত্রে আরো জানা যায়, গতকাল ৩১ মার্চ দুপুর ২টা পর্যন্ত হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায় ২৮জন ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী চিকিৎসা সেবা নিয়েছে। এছাড়া হাসপাতালের দেয়া তথ্য মতে, মার্চ মাসের ২২ তারিখে ৯৩জন, ২৩ তারিখে ৭৫জন, ২৪ তারিখে ৭৬জন, ২৫ তারিখে ৭১জন, ২৬ তারিখে ৪৭জন, ২৭ তারিখে ৪৯জন, ২৮ তারিখে ৫৭জন, ২৯ তারিখে ৭৬জন, ৩০ তারিখে ৫৪জন রোগী চিকিৎসা সেবা নিয়েছে। তবে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে শিশুর রোগীর সংখ্যা ছিল খুবই কম।

চিকিৎসা সেবা নিতে আসা চাঁদপুর সদরের হাইমচর উপজেলার মাকসুদা আক্তার বলেন, গণপরিবহন বন্ধ থাকায় হাসপাতালে আসতে অনেক কষ্ট পেতে হয়েছে। তবে হাসপাতালের চিকিৎসকরা ভাল সেবা ও পরামর্শ দেওয়ায় বাড়ি ফিরে যাচ্ছি।

হাসপাতালের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. চন্দ্র শেখর দাস বলেন, এ সময়ে ডায়রিয়া রোগীর প্রকোপ বেশি থাকলেও করোনা পরিস্থিতির কারণে দূর দূরান্ত থেকে রোগীরা হাসপাতালে আসতে পারছে না। প্রতিদিনি যে সকল রোগী আসছে তাদের বাড়ি চাঁদপুর সদর, মতলব উত্তর ও দক্ষিণ এলাকার। আগত রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা ও পরবর্তী করণীয় বিষয়ে নির্দেশনা দিয়ে ছেড়ে দিচ্ছি।  (গেলো বছরের এ সময়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন- প্রচণ্ড গরমে মতলব আইসিডিডিআরবিতে দু’সহস্রাধিক ডায়রিয়া রোগী ভর্তি

প্রতিবেদক : মাহফুজ মল্লিক, ৩১ মার্চ ২০২০

Share