Home / উপজেলা সংবাদ / হাজীগঞ্জ / রামপুর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাঁদা দাবি করে সাংবাদিকের ওপর হামলা: আদালতে মামলা
ব্যবসা

রামপুর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাঁদা দাবি করে সাংবাদিকের ওপর হামলা: আদালতে মামলা

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার রামপুর বাজারে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গত ১৮ আগস্ট রাতে রামপুর বাজার পাঠান মেডিকেল এর সামনে সাংবাদিক মিজানুর রহমান কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে একদল দুর্বৃত্ত। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় সাংবাদিক মিজানুর রহমানের উপর হামলা করা হয়। তিনি বর্তমানে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এর আগে গত ২ আগস্ট এই দুর্বৃত্ত দল তার কাছে চাঁদা দাবি করছিল। । এ ঘটনায় তিনি চাঁদপুর আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।

জানা যায়, গত ১৮ আগস্ট রাতে এরই পরিপ্রেক্ষিতে তার উপর হামলা করা হয়। হামলায় তার মুখ ও ঘাড় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

সাংবাদিক মিজানুর রহমান রানা বলেন, রামপুর মজুমদার বাড়ির রবিউল ও তার বাবা দেলোয়ার হোসেন মজুমদার এলাকায় রামপুর বাজারের ব্যবসায়ীদের কাছেও চাঁদা দাবি করেছিল। চাঁদা না দেওয়ায় গত কয়েক মাস আগে রামপুর বাজারের কয়েকটা দোকান লুটপাট করা হয়। এরা সহ এদের আরও লোকজন এই ঘটনার সাথে জড়িত। ঘটনার পর পুলিশ আসে এবং দু একজনকে গ্রেফতার করা হয়। ব্যবসায়ীরা মামলা করে তারপর কিছুদিন চাঁদা দাবি লুটপাট বন্ধ ছিল। কিন্তু গত ২ আগস্ট হঠাৎ করে এই দুইজন দুর্বৃত্ত সাংবাদিক মিজানুর রহমান রানার কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। তিনি বিষয়টি এগিয়ে যান। এই কারণে গত ১৮ আগস্ট তার উপর হামলা করে তাকে জখম করা হয়। পরদিন ১৯ আগস্ট তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন এবং চাঁদপুর আদালতে এ বিষয় নিয়ে মামলা দায়ের করেন।

এলাকার লোকজন জানান এই দুর্বৃত্ত দল গত কয়েক মাসে এলাকায় লুটপাট চালিয়ে ব্যবসায়ীদের কাছে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। যারা চা তাদের কথামতো চাঁদা না দেয় তাদের উপর তারা আক্রমণ করে এবং তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়। তারা অত্যন্ত নিকৃষ্ট এবং নিম্নমানের লোক। সাধারণ বিষয় নিয়ে মানুষের সাথে হামলা মামলা এবং লুটপাট মারামারি করে। এদের এই অবস্থা বন্ধ হওয়া দরকার, তা না হলে রামপুর বাজার এর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে।

স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী ও বাসিন্দার অভিযোগ, অভিযুক্তদের একটি দল গত কয়েক মাস ধরে এলাকায় লুটপাট ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। তাদের দাবিকৃত চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের ওপর হামলা চালানো এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে। তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলে দাবি করেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে ৪ নম্বর কালচো দক্ষিণ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা স্বপন বলেন, অভিযুক্তরা বিএনপির কেউ নন। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য আমি তাদের কয়েকবার নিষেধ করেছি। কিন্তু তারা আমার কথাও শোনেনি। এ কারণে রাতেও কমিউনিটি পুলিশের সঙ্গে মিলে বাজার পাহারার ব্যবস্থা করেছি। সাংবাদিক মিজানুর রহমান রানার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনায় আমি অত্যন্ত দুঃখিত। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে হামলা ও চাঁদাবাজির অভিযোগে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাংবাদিক মহল।

প্রতিবেদক: সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী,
১৯ আগস্ট ২০২৬