ফরিদগঞ্জ

ফরিদগঞ্জে বোরো ধানের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে বোরো ধানের বাম্পার ফলনে কৃষকের মূখে হাসি ফুটেছে। কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এ বছর উপজেলায় ৯ হাজার ৯শ ৯০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের বোরোধানের মধ্যে বি আর ৮১, ৮৭, বি ধান ৭৪ ও ৮০০ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড আবাদ করা হয় এবং সকল ধরনরে ধানের উৎপাদনের লক্ষমাত্র নির্ধারন করা হেয়েছে ৫০ হাজারের অধিক মেট্রিকটন।

কৃষি অফিস জানায় সরকার এ বছর চাষী পর্যায়ে বীজ, সার, কীটনাশক ও সেচপাম্প বিতরন করায় চাষীরা অনেকটা আগ্রহ নিয়ে বোরোধান আবাদ করে।

এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং পর্যাপ্ত সেচ সুবিধাজনক থাকায় আশানুরূপ খুবই ভালো ফসল হয়েছে, সাম্প্রতিক কালবৈশাখী ঝড়ের পূর্বাভাশ দেওয়া হচ্ছে, অথচ বেশীরভাগ ধানই এখনো খোতে রয়ে গেছে।

গত বছর রাজনৈতিক নেতা কর্মীদের কৃষকের কাজে সহায়তা করতে দেখা গেলেও এবছর এখনও তাদের কর্মকান্ড নজরে আসেনি। ফরিদগঞ্জের বিভিন্ন ফসলের মাঠ ঘুরে দেখা যায় এখন ১০শতাংশ ফসল কাটা হয়নি

এ সময় উপজেলার বিভিন্ন চরে গিয়ে দেখা যায় কেরোয়ার চর, ধানুয়ার চর, রামপুর চর, চর রাগব, লামচর ও গুপ্তের বিল, মালের বাংতি বিল, বারপাইকার বিল, নগন্ডির বিল, আইট পাড়ার বিল, পাগলা বিলসহ প্রয় সকল ধরনের ধানি ফসলি এখনো ৬০ শতাংশ ধান কাটা হয়নি।

ধান ফলন নিয়ে চর বসন্তের চরের কৃষক রহিম বলেন, এই বছর আল্লাহর রহতে অনেক ধান হয়েছে যা ইতিমধ্যে আমি আর কখোনো দেখিনি। তিনি আরো বলেন, আমার বয়স প্রায় ৫৫ বছর আমার বুঝ হওয়ার পর থেকে আমি কখোনে এই রকম ধানের ফলন হতে, আমাদের এই চরে প্রতেকেরই খুব ভালো ধানের ফলন হয়েছে।

এসময় ধান কাটা নিয়ে কৃষকরা বলেন, রোজা ও অতিরিক্ত রেঁাদের কারনে ধানকাটার শ্রমীক পাচ্ছিনা।

ধানের ফসল ভালো হওয়ার বিষয়ে ৮০ বছরের বৃদ্ধা মোহাম্মদ রহমত উল্লা বলেন, আমি আর কখোনো এই রকম ধানের ফলন হতে দেখিনি। আমরা আল্লাহ কাছে শুকরি আদায় করছি।

উপজেলা কৃষি অফিসার মাকসুদ চাঁদপুর টাইমসকে বলেন-এ বছর ৯ হাজার ৯শ ৯০ হেক্টর জমিতে বোরোধান চাষকরা হয়েছে, লক্ষমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে ৫০ হাজারে অধিক মেট্রিকটন।

তিনি আরো বলেন, আমরা চাষীদের ধানের বেশী অংশ পাকলেই কাটার জন্য পরামর্শ দিচ্ছি। বিগত বছরের ন্যায় এবছর চাষীদের ধান কাটায় স্থানীয়রা পাশে থাকলে কৃষকের আনন্দে সামীল হওয়া যেতো।

প্রতিবেদকঃশিমুল হাছান,২৬ এপ্রিল ২০২১

Share