বেহাল রাস্তাটি সংস্কারে স্বস্তি ফিরেছে আশিকাটি ও মৈশাদী এলাকার মানুষের

দীর্ঘ প্রায় ছয় বছর ধরে বেহাল ও চলাচলের অনুপযোগী হয়ে থাকা চাঁদপুর সদর উপজেলার নতুন কারাগার (আশিকাটি ইউপি)-মৈশাদী ইউপি সড়ক অবশেষে মেরামত করে চলাচলের উপযোগী করা হয়েছে। এতে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে স্বস্তি পেয়েছেন এ সড়ক দিয়ে চলাচলকারী স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

চাঁদপুর সদর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটির দৈর্ঘ্য ২ হাজার ২৪২ মিটার। ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে সড়কটি মেরামতের জন্য চুক্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয় ১ কোটি ৮ লাখ ৮০ হাজার ৯৭২ টাকা। কাজটি বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স কাজী এন্টার প্রাইজ।

জানা যায়, চাঁদপুর-৩ (সদর ও হাইমচর) আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটির মেরামত কাজ অনুমোদন হয়। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে স্থানীয় জনগণের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
নতুন কারাগার (আশিকাটি ইউপি)-মৈশাদী ইউপি সড়কটি শুধু স্থানীয় মানুষের চলাচলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়, এটি মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদের সঙ্গে বাবুরহাট বাজারের সংযোগ স্থাপন করেছে। একই সঙ্গে সড়কটি মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদের সঙ্গে রামপুর ইউনিয়ন পরিষদেরও গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ফলে সড়কটির সংস্কারের মাধ্যমে একাধিক এলাকার মানুষের যোগাযোগব্যবস্থা সহজ হয়েছে।

দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে সড়কটির বিভিন্ন অংশে খানাখন্দ, ভাঙন ও বেহাল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল। ফলে যানবাহন চলাচলে যেমন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে, তেমনি বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে পড়ত। প্রায় ছয় বছর পর সড়কটি সংস্কারের মাধ্যমে স্বাভাবিক যোগাযোগব্যবস্থা ফিরে আসায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে।

১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে সড়কটির মেরামত কাজ সম্পন্ন করে যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচলের উপযোগী করে তোলা হয়।
কাজের মান ও বাস্তবায়নের অগ্রগতি সরেজমিনে দেখতে সড়কটি পরিদর্শন করেন চাঁদপুর সদর উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার মোঃ রাহাত আমিন পাটওয়ারী, নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তর থেকে আগত সহকারী প্রকৌশলী (Assistant Engineer) এবং ল্যাব টেকনিশিয়ানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

পরিদর্শনকালে প্রকৌশলী কর্মকর্তারা সড়কের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং মেরামত কাজের গুণগত মান, নির্মাণসামগ্রীর ব্যবহার ও সার্বিক বাস্তবায়ন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।

এ বিষয়ে উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার মোঃ রাহাত আমিন পাটওয়ারী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি বেহাল অবস্থায় থাকায় সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। জনগণের চলাচলের সুবিধার কথা বিবেচনা করে সড়কটি মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কাজের ক্ষেত্রে গুণগত মান নিশ্চিত করাকে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সরেজমিন তদারকির মাধ্যমে কাজটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এখন সড়কটি চলাচলের উপযোগী হওয়ায় স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব হবে বলে আমরা আশা করছি।

তিনি আরও বলেন, “সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে টেকসই ও মানসম্মত সড়ক নির্মাণ ও সংস্কার করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। জনগণের প্রয়োজনীয় সড়কগুলো পর্যায়ক্রমে উন্নয়ন ও সংস্কারের মাধ্যমে যোগাযোগব্যবস্থা আরও সহজ করার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন পর সড়কটি সংস্কার হওয়ায় তাদের যাতায়াত অনেক সহজ হয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, রোগী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রীদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে বাবুরহাট বাজারসহ আশপাশের এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ সহজ হওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তারা আশা করছেন।

তারা সড়কটির স্থায়িত্ব রক্ষায় নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের পাশাপাশি অতিরিক্ত ভারী যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণেরও দাবি জানান।

সংশ্লিষ্টদের আশা, মেরামতের পর নতুন কারাগার (আশিকাটি ইউপি)-মৈশাদী ইউপি সড়কটি আশিকাটি, মৈশাদী ও রামপুর ইউনিয়নের মানুষের নিরাপদ ও স্বাভাবিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি বাবুরহাট বাজারের সঙ্গে যোগাযোগ আরও সহজ হওয়ায় স্থানীয় আর্থ-সামাজিক কর্মকাণ্ডও আরও গতিশীল হবে।

প্রতিবেদক: সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী,
৪ অক্টোবর ২০২৬