বিনিয়োগ বাড়াতে অর্থমন্ত্রীর সৌদি আরব সফর

বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত ৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে সরকারি সফরে সৌদি আরব অবস্থান করছেন।

গত২৪ নভেম্বর রাতে রিয়াদে রিয়াদ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্টাস্ট্রিজ (আরসিসিআই)-র পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মানসুর এ আল-সারথির সঙ্গে একটি উচ্চাপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেন বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন অর্থমন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ সেলিম রেজা, মন্ত্রীর একান্ত সচিব জাকারিয়া হক, নির্বাহী সহকারী অর্থমন্ত্রীপুত্র শাহেদ মুহিত ও এফবিসিসিআই’র ভাইস প্রেসিডেন্ট মাহবুব আলম।

সকালে সৌদি অর্থমন্ত্রীর সংগে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের আলোচনার বিস্তারিত আরসিসিআই’র চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মানসুর এ আল-সাথরিরকে অবহিত করেন তিনি। বাংলাদেশে গৃহকর্মীর ব্যাপক হার সম্পর্কে এফবিসিসিআই চেয়ারম্যানের কাছে তুলে ধরা হয়।

বাংলাদেশি রপ্তানির গত ছয় বছরের অব্যহত উন্নয়নের কথা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী আরসিসিআই’র চেয়ারম্যানের কাছে ওই বছরগুলোতে বিশ্বঅর্থনীতির মোন্দা ও আন্তর্জাতিক রপ্তানির সঙ্গে বাংলাদেশের ২ ডিজিড রপ্তানি-উন্নয়নের বিস্তারিত তুলে করেন।

এ সময় দেশের মাইক্রোক্রেডিট সম্পর্কিত নানাবিধ প্রস্তাবনা ও দেশ-বিদেশের অব্যাহত আগ্রহের বিস্তরিত খতিয়ান তুলে ধরা হয়।

এ ছাড়া বিদুৎখাতে দেশের প্রভুত উন্নতিসহ নতুন নতুন বিদুৎ প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। এ সময় তিনি বলেন, সৌদি অর্থমন্ত্রীকে বাংলাদেশে একটি বড় ধরনের প্রকল্প
বাস্তবায়ন করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

বৈঠকে একজন উচ্চ পর্যায়ের সৌদি ব্যবসায়ী বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে আগ্রহ এবং সৌদি আরবে বাংলাদেশের বিনিয়োগ করার জন্য অর্থমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানান।

সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ ও দূতাবাসের কনস্যুলাররা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ বিগত বছরগুলোতে সৌদি আরবে ভিসা ব্যবসার সহজলভ্য পরিবর্তন নিয়ে জোরালো বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, ‘৪০-৪৫ হাজার রিয়াল খরচ করে একজন সাধারণ শ্রমিক সৌদি আরব আসার পর তারা মাত্র ৪০০ রিয়াল বেতন পান – এটা দুঃখজনক। এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি করার ক্ষেত্রে তিনি ভিসা ব্যবসায়ী এজেন্টদের দায়ী করেন।

এ ছাড়া বৈঠকে সৌদি আরবে মহিলা গৃহকর্মীদের নানা সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়। এ ব্যাপারে দু দেশের পক্ষ থেকে করণীয় সম্পর্কে আলোচনা হয়।

সাগর চৌধুরী, সৌদি আরব করেসপন্ডেন্ট

Share