ফরিদগঞ্জে সাবেক নারী মেম্বারের ঘরে প্রকাশ্যে ইয়াবা বিক্রি, ভিডিও ভাইরাল
এক সময় ছিলেন জনপ্রতিনিধি। এখন অভিযোগ উঠেছে, সেই পরিচয় আড়াল করে নিজ ঘরেই চালাচ্ছেন ইয়াবার কারবার! চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়নের এক সাবেক নারী ইউপি সদস্য ও তার স্বামীর বিরুদ্ধে এমন বিস্ফোরক অভিযোগে উত্তাল পুরো এলাকা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও যেন নতুন করে নাড়া দিয়েছে স্থানীয়দের। ভিডিওতে দেখা যায়, বসতঘরের ভেতরেই চলছে ইয়াবা বিক্রি- হাতে টাকা, সঙ্গে মাদক সেবনের সরঞ্জামও!
ভাইরাল হওয়া ভিডিও ঘিরে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে চরম ক্ষোভ ও চাঞ্চল্য। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই গোপনে চলছিল এই মাদক বাণিজ্য। কিন্তু প্রভাব ও ভয়ভীতির কারণে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাননি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত সাবেক নারী ইউপি সদস্য সাবিনা বেগম ইয়াসমিন বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত আসনের সাবেক সদস্য। তার বাড়ি মূলপাড়া গ্রামের ঈদগাঁও মিয়াজি বাড়িতে।
অভিযোগ রয়েছে, স্বামী নূর মোহাম্মদের সহযোগিতায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ইয়াবা বিক্রি করে আসছেন।
ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, সাবিনা ইয়াসমিন ও তার স্বামী ঘরের ভেতরে বসে একজন ক্রেতার হাতে ইয়াবা ও সেবনের সরঞ্জাম তুলে দিচ্ছেন। পরে ওই ব্যক্তি তাদের হাতে নগদ টাকা দেন। পুরো ঘটনাটি গোপনে ধারণ করা হলেও ভিডিও প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।
সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো—অভিযোগ অস্বীকার না করে বরং আংশিকভাবে ইয়াবা বিক্রির কথা স্বীকার করেছেন সাবিনা ইয়াসমিন নিজেই। তিনি বলেন, “আমার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা সেবন করে। সংসারে টাকার প্রয়োজন হওয়ায় স্বামীর সেবনের জন্য রাখা ইয়াবা থেকে কিছু বিক্রি করেছি। আমাদের হেয় করার জন্যই ভিডিওটি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।”
অন্যদিকে তার স্বামী নূর মোহাম্মদ বলেন,
“আমি ইয়াবা সেবন করি, তবে বিক্রি করি না।”
তবে মাদক সেবন যে আইনত অপরাধ—এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে কোনো উত্তর না দিয়েই এড়িয়ে যান তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, এই দম্পতির বিরুদ্ধে আগে থেকেই এলাকায় নানা অভিযোগ ছিল। তাদের ভাষ্য, “ওদের বিরুদ্ধে কথা বললেই হুমকি আসে। অনেকেই ভয় পেয়ে চুপ থাকে। এখন ভিডিও প্রকাশ পাওয়ার পর সবাই মুখ খুলতে শুরু করেছে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, এ দম্পতির কারণে এলাকার তরুণ সমাজ ভয়াবহভাবে মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। এক সময় মানুষের ভোটে নির্বাচিত হওয়া একজন জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে এমন অভিযোগে হতবাক সাধারণ মানুষও।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ বলেন,
“মাদক সিন্ডিকেট এখন ভয়ংকরভাবে বিস্তার লাভ করেছে। সাবেক এই নারী মেম্বারের বিষয়ে বিভিন্ন অভিযোগ শুনেছি। ইউনিয়ন পরিষদের সভাগুলোতে মাদকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হলেও বাস্তবে তৎপরতা খুব একটা চোখে পড়ে না।”
এদিকে ফরিদগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, “মাদক কারবারের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ভাইরাল ভিডিওর বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ভিডিও প্রকাশের পর এখন পুরো এলাকায় একটাই প্রশ্ন—ভিডিওতে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রির দৃশ্য দেখা গেলেও এখনো কেন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো অভিযান হয়নি? স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না হলে যুবসমাজ আরও ভয়াবহ বিপদের দিকে ধাবিত হবে।
ফরিদগঞ্জ প্রতিনিধি/৭ মে ২০২৬