ফরিদগঞ্জ

ফরিদগঞ্জে মসজিদভিত্তিক কোরআন শিক্ষায় ব্যাপক সাড়া

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষার অংশ হিসাবে কোরআন শিক্ষা কার্যক্রমে ব্যাপক সাড়া পড়েছে।

একসময় গ্রাম বাংলায় প্রতিটি বাড়িতে কাছারি ব্যবস্থায় পূর্বে কোরআন শিক্ষা চালু ছিল। তখন শিশুদের কোরআন পড়ার মনমুগ্ধকর সুর ছড়িয়ে পড়ত। এখন কালের বিবতর্নে সে সুর আর ভেসে আসছে না।

অধিকাংশ পরিবারে পারিবারিকভাবে শিক্ষক রেখে কোরআন শিক্ষার ব্যবস্থায় অভ্যস্থ হয়ে পড়লেও সমবেত কণ্ঠে কোরাঅন শিক্ষায় যে আনন্দঘন পরিবেশে শিশুরা শিখন সম্পন্ন করতো তার দেখা তেমন একটা মিলছে না।

স্থানীয়দের ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মসজিদভিত্তিক মক্তব চালুর মাধ্যমে গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যকে ফিরে দেখার সুযোগ হয়েছে।
ফরিদগঞ্জ উপজেলায় ৪৩টি কেন্দ্রে মসজিদভিত্তিক মক্তব ব্যবস্থায় ১ হাজার ৫শ’ ০৫জন শিশু শিক্ষার্থী কোরআন শিখছে।

প্রতিটিতে ৩৫জন শিক্ষার্থী আর ১ জন শিক্ষক রয়েছে পাঠদান কাজে। পাঠদানকৃত শিক্ষকদের সম্মানী বর্তমানে ২’ হাজার ৩শ টাকা।

শিক্ষকদের দাবি তাদের সম্মানী বৃদ্ধি করা হলে ভালো হতো। মক্তবগুলো সকাল ৬টা হতে ৮টা পর্যন্ত আড়াই ঘন্টা বিরতিহীনভাবে পাঠদান করছে।

এছাড়া প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার জন্য রয়েছে ৬৮টি কেন্দ্র সেখানে বাংলা, গণিতও আরবি শেখানো হয়। সকাল ৮ হতে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত পাঠদান করা হচ্ছে। এ স্তরে ৩০জন করে প্রতিটি কেন্দ্রে ২হাজার ৪০জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এ ছাড়া ও ১টি বয়স্ক কেন্দ্রও রয়েছে।

উপজেলা ফিল্ড সুপার ভাইজার মো. মুজিবুর রহমান জানান, ‘মক্তব ব্যবস্থায় দিন দিন সাড়া পড়ায় পূর্বে ২৮টি মক্তবের স্থলে বর্তমানে ৪৩টি করা হয়েছে। এ সংখ্যাও নগন্য, আরো বাড়ানো দরকার। এসব মক্তবগুলোতে প্রতিটি জাতীয় ও ধর্মীয় দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হচ্ছে।’

উপজেলা নির্বার্হী কর্মকর্তা মো. জয়নাল আবদিন জানান, ‘মসজিদভিত্তিক কোরআন শিক্ষায় শিক্ষার্থীরা আনন্দঘন পরিবেশ পাওয়ায় শিখন আগ্রহ বৃদ্ধির পাশাপাশি শিখন ফলের স্থায়ীত্ব পায়। গ্রামীণ ধনী দরিদ্র সকল জনগোষ্ঠির জন্যই এ কার্য়ক্রম ফলপ্রসূ।’

তবে তিনি আরো জানান, ‘মক্তবের দায়ীত্বরত শিক্ষদের আরো আন্তরিকতা বাড়াতে হবে । তাছাড়া পরিদর্শন তদারকি জোরদার করতে হবে।’

আতাউর রহমান সোহাগ : আপডেট, বাংলাদেশ সময় ২:০০ পিএম, ৪ নভেম্বর ২০১৬, শুক্রবার
ডিএইচ

Share