ফরিদগঞ্জে চামড়া নিয়ে বিপাকে ক্রেতা-বিক্রেতারা

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে চামড়া নিয়ে বিপাকে পড়েছে ক্রেতা-বিক্রেতারা।

উপজেলা বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কোরবানি দাতারা চামড়া বিক্রি করতে না পেরে মাটিতে পুতেঁ রাখতে দেখা গেছে।

বিশেষ করে ছাগলের চামড়া কেউ ক্রয় করতে চায়ই না। গরুর প্রতি পিচ চামড়া ৮০ টাকা হতে সবোর্চ্চ ২০০শত টাকায় বিক্রি করতে হয়েছে। ছাগলের চামড়া কোথাও কোথাও ফ্রিতে নিয়ে গেলেও অনেকে আবার বিক্রি করতে না পেরে মাটিতে পুঁতে দিয়েছে।

চামড়ার এমন দর পতনে হতাশ হয়ে পড়েছে চামড়া ব্যবসায়ীরা। চামড়া ব্যবসায়ীরা জানান, আমরা ঢাকায় চামড়া গত ক‘বছর দিয়ে এক এক জনের ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা বকেয়া পড়েছে।

টাকা চাইলেই মহাজনরা বলেন, চামড়ার টাকা আমরা পাইনি তাই দিতে পারছিনা। তাছাড়া করোনা সমস্যাকেও পুঁজি করে অযুহাত তোলে ধরছে পাইকারী চামড়া ব্যবসায়ীরা।

চামড়া ব্যবসায়ী মাও.মোস্তফা চাঁদপুর টাইমসকে জানান, আমি গত ক‘বছর ঢাকায় চামড়া দিয়ে ১৩ লাখ টাকা পাবো। আমাকে টাকা না দিয়ে শুধু টালবাহানা করে। অনেক করে বললাম অন্তত: ৩লাখ টাকা দেওয়ার জন্য এবং এ বছরও কিছু চামড়া দেবো। কোন ভাবেই টাকা আদায় করতে পারিনি। আমার সকল পুঁজি শেষ এখন পথে বসার উপক্রম হয়েছে।

মৌসুমী ক্ষুদ্র চামড়া ব্যবসায়ীদের মধ্যে মিজানুর রহমান, জলহাক, ওসমান, সৈয়দ আহমেদসহ অনেকেই জানান,আমরা ৮০/১০০/১২০/১৫০শত টাকা পর্যন্ত দরে প্রতি পিছ চামড়া ক্রয় করে এখন লোকশান গুণতে হয়েছে। তাছাড়া বাকী তো আছেই। আমরা বিভিন্ন সমিতি থেকে দার দেনা করে কিছু টাকা নিয়ে এবারও চামড়া ক্রয় করি কিন্তু এখন মাথায় হাত পড়েছে আমাদের।

কোরবানিদাতা ও আলেম সমাজের অনেই জানান, চামড়া বিক্রিত অর্থ হচ্ছে গরীব-মিছকিনদের। তাদের আর্থিকভাবে স্বচ্ছলতার জন্যই ইসলামে চামড়ার টাকা তাদের মাঝে বন্টণের বিধান দিয়েছে। কিন্তু গত ক‘বছর যাবৎ চামড়ার দর পতণে অসহায় গরীব মিছকিনরা একেবারে বেকায়দায় পড়েছে। তারা এখন আর কারো কাছে চামড়ার টাকা চাইতেও যায়না। ধীরে ধীরে চামড়ার টাকা চাওয়ার নিয়ম বিলুপ্তির পথেই এগুচ্ছে।

চামড়া ব্যবসায়ীদের দাবি সরকারীভাবে উদ্যোগ নিয়ে অনতি বিলম্বে চামড়ার দাম বৃদ্ধি ও চামড়া শিল্পের রুগ্ন দশা থেকে উদ্ধার করা দরকার। অন্যথায় আমাদের চামড়া শিল্প বিলুপ্ত হয়ে পড়বে। চামড়া শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে সরকারকেই উদ্যেগ নিতে হবে।

প্রতিবেদকঃ শিমুল হাছান, ২৪ জুলাই ২০২১

Share