Home / চাঁদপুর / পূর্ণিমার রাতে নদী পাহারায় ইলিশের বাড়ি চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক
পূর্ণিমার রাতে নদী পাহারায় ইলিশের বাড়ি চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক

পূর্ণিমার রাতে নদী পাহারায় ইলিশের বাড়ি চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক

নদী-বিদৌত চাঁদপুর হলো ‘ইলিশের বাড়ি’ জেলা। এই জেলার নৌ-সীমানায় মা ইলিশ যেমনিভাবে নিরাপদে ডিম ছাড়ে ঠিক তেমনিভাবে জাটকা ইলিশ বড় হওয়ার সুযোগ পায়।

বিগত কয়েক বছরে ইলিশ রক্ষার আন্দোলনে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখানকার জেলে, ব্যবসায়ী এবং জনপ্রতিনিধিসহ সাধারণ মানুষও একত্রিত করতে সক্ষম হয়েছে। যার ফলে চাঁদপুর জেলাবাসীর সম্মিলিত সহযোগিতায় ইলিশ রক্ষার আন্দোলন এখান প্রতিনিয়ত হচ্ছে।

বর্তমান জেলা প্রশাসক মো. আব্দুস সবুর মন্ডলের একান্ত প্রচেষ্টায় এরইমধ্যে সরকারিভাবে চাঁদপুরকে ‘ইলিশের বাড়ি’ জেলা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। যে জেলার নামের সাথে ‘ইলিশের বাড়ি’ শব্দটি জড়িয়ে গেছে, ইলিশ রক্ষায় সে জেলার প্রশাসন ও সচেতন মানুষের দায়িত্ব বেড়ে যাবে এটাই তো স্বাভাবিক।
তবে রাত জেগে ইলিশ পাহারায় যদি জেলা প্রশাসক নিজেই নেতৃত্বে দেন তখন বিষয়টি একটু ভিন্নতায় দাঁড়ায়। এমনই এক বিষ্ময়ের জন্ম দিয়েছেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মো. আব্দুস সবুর মন্ডল।

বুধবার (৪ অক্টোবর) দিনগত রাত ছিলো ভরা-পূর্ণিমা। নদী ও ইলিশ বিশেষজ্ঞদের মতে এই রাতে অধিকাংশ মা ইলিশ ডিম ছেড়ে থাকে। তাই এমন একটি রাতে কিছুতেই যাতে অসাধু জেলেরা মা ইলিশ শিকার করতে না পারে এজন্য তিনি নিজে সারারাত নদী পাহারা দিয়েছেন। বুধবার রাতে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই অভিযানে অংশ নেন। ওই রাতে সাড়ে ১১টার পর থেকে ভোর পর্যন্ত চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনায় এ অভিযান চলে।

এসময় জেলা মৎস্য কর্মকর্তা, জেলা পুলিশ, নৌ-পুলিশ ও চাঁদপুরে স্থানীয় ও জাতীয় মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে একই দিনে বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত তিনি নদীতে অভয়াশ্রম কার্যকম পরিদর্শন করেন।

প্রসঙ্গত, মা ইলিশ রক্ষায় চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনায় মতললের ষাটনল থেকে চর আলেকজেন্ডার পর্যন্ত ১শ’ কিলোমিটার ও পদ্মার অংশে ২০ কিলোমিটার এলাকায় জেলা টাস্কফোর্সের একাধিক দলের টহল অব্যাহত রয়েছে। ইলিশ রক্ষা টাস্কফোর্সের সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মো. আব্দুস সবুর মন্ডলের নেতৃত্বে পদ্মা- মেঘনা নদীতে অভিযান মনিটরিং ও তদারকি চলছে।

জেলা প্রশাসক বলেন, গত এক অক্টোবর অভিযান শুরু থেকে প্রতিদিন পর্যায়ক্রমে ১২ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নদীতে টহল দলে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে তাদেরকে মৎস্য বিভাগ কোস্টগার্ড, নৌপুলিশ, জেলা পুলিশ এবং জনপ্রতিনিধিরা সহায়তা করছেন। শুধু তাই নয়, আমি নিজেও টাক্সফোর্সের নদীতে টহল মনিটরিং করছি।

জেলা প্রশাসক আরো বলেন, পূর্ণিমার রাতে অধিকাংশ মা ইলিশ নদীতে ডিম ছাড়ে। এই সমটা খবুই গুরুত্বপূর্ণ সময়। সঠিক সময়ে মা ইলিশ ডিম ছাড়তে পারলে ইলিশ সম্পদ বৃদ্ধি পাবে। তাই আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সারারাত নদীতে টহল দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ কাযক্রম আগামী ২২ অক্টোবর মধ্যরাত পযন্ত অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।

প্রতিবেদক-আশিক বিন রহিম
: আপডেট, বাংলাদেশ ১২:০৩ পিএম, ০৫ অক্টোবর, ২০১৭ বৃহস্পতিবার
ডিএইচ

Leave a Reply