‘পাগল’ ও ‘মৃতদের’ পাল্লায় পড়ে বিব্রত নির্বাচন কমিশন

শুধু কথা-বার্তা নয়; কাজেও কোনো অসংগতি নেই। তারা সুস্থ-স্বাভাবিক।  কিন্তু দুভার্গ্যক্রমে ভোটার তালিকার ভোটার স্ট্যাটাসে তারা ‘পাগল’। আবার সুস্থ ও জীবিত কিন্তু ভোটার তালিকায় মৃত।  এ অবস্থায় অস্বাভাবিক ও অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন অসংখ্য ভোটার। বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ‘পাগল’ কেউ বা মৃত স্ট্যাটাস কাটাতে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) শরণাপন্ন হচ্ছেন তারা। তবুও মিলছে না সমাধান। বরং ‘পাগলামোর পাল্লায়’ পড়ে বিব্রত সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটিও। কেন এবং কি কারণে ভোটার তালিকায় ‘পাগল’ স্ট্যাটাস এসেছে—সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছুই বলতে পারছেন না কেউই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের (এনআইডি) মহাপরিচালক কে এম হুমায়ুন কবির জানান, কী কারণে এমন স্টাট্যাস এসেছে তা স্পষ্ট নই। এই ধরনের বেশকিছু তালিকাভুক্ত ভোটারের পক্ষ থেকে আবেদন পেয়েছি। তাদের অভিযোগ তারা সুস্থ নাগরিক কিন্তু ভোটার তালিকার সার্ভারে তাদের স্ট্যাটাসে ‘ম্যাডনেস’ প্রদর্শন করছে। তথ্য-উপাত্ত যাচাইয়ের পর অভিযোগের সঠিকতা খুঁজে পেলে সংশোধন করে স্বাভাবিক অবস্থায় তাদের ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

এর আগে জীবিত ব্যক্তি ভোটার তালিকায় মৃত; এ নিয়ে দেশ জুড়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। সারা দেশ থেকে ১৫ হাজারের বেশি মানুষের আবেদন জমা হয়। এটি যাচাইয়ের জন্য নির্বাচন কমিশন সচিবালয় তালিকা করে মাঠ পর্যায়ে পাঠিয়ে দিয়েছে। প্রত্যকটি আবেদনকারীর তথ্য যাচাই করে মাঠ কর্মকর্তারা মৃতকে ভোটার তালিকায় জীবিত করে তথ্য আপডেট করছেন। এছাড়া রয়েছে ইনকমপ্লিট স্ট্যাটাস। এই ধরনের আবেদনও অসংখ্য ভোটারের। এর মধ্যে ‘ম্যাডনেস’ স্ট্যাটাস নিয়ে বেশ বিপাকে নির্বাচন কমিশন। কেননা মাঠ পর্যায়ের তথ্য সংগ্রহকারীরা ভুলভাবে ভোটারের তথ্য সংযোগ করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত এ সংক্রান্ত চার শতাধিক ব্যক্তির আবেদন খতিয়ে দেখছে সাংবিধানিক সংস্থাটি। তবে, তারা দায় নিতে রাজি নয়। বলছে, ব্যর্থতার জন্য সংশ্লিষ্ট ভোটারই দায়ী। ইসির কর্মকর্তারা বলছেন, জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য-ভান্ডারে কোনো সমস্যা নেই। তবে ভোটারদের তথ্য-প্রদানে নানা অসংগতির কারণে কিছু সমস্যা দেখা যাচ্ছে। এগুলো ছোটখাটো করণিক ভুল।

নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, রংপুর, সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল ও খুলনা সব অঞ্চলেই সুস্থ মানুষকে ভোটার তালিকায় ‘ম্যাডনেস বা পাগলামি’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। ভোটার তালিকা থেকে ‘ম্যাডনেস’ স্ট্যাটাস সরাতে এখন পর্যন্ত করা আবেদনগুলো যাচাই চলছে। আবেদনকারীদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি চট্টগ্রাম বিভাগে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আবেদন জমা পড়েছে রংপুর বিভাগ থেকে। এর পর সিলেট বিভাগ। কম আবেদন পড়েছে খুলনা বিভাগ থেকে; এ বিভাগে আবেদনের সংখ্যা মাত্র তিনটি।

ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, টিকাসহ নানা ধরনের সেবামূলক সার্ভিস নিতে গিয়ে ভোটার তালিকার স্ট্যাটাসে শো করছে ‘ম্যাডনেস’। এ কারণে করোনা পরিস্থিতির মধ্যে টিকার নিবন্ধন করতে পারেননি অনেকেই। এ ধরনের অসংগতিপূর্ণ জাতীয় পরিচয়পত্রের কারণে ব্যাংকিং সেবা পেতেও পোহাতে হয়েছে কারো কারো ভোগান্তি। আবার অনেকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করতে গিয়ে গেছেন আটকে। জমি কিনতে গিয়েই ‘ম্যাডনেস’ এর মারপ্যাঁচে পড়ে হয়েছেন নাজেহাল কেউ কেউ। তারা এই ত্রুটিপূর্ণ আইডি কার্ড সংশোধনের জন্য ধরনা দিচ্ছেন ইসির দ্বারে দ্বারে।

ঢাকা ব্যুরো চীফ, ২ নভেম্বর ২০২১

Share