কচুয়ায় নারীর মৃত্যু নিয়ে নানা গুঞ্জন

কচুয়া উপজেলার চাঁদপুর গ্রামে রেজিয়া বেগম (৬৫) নামের এক নারীর মৃত্যু নিয়ে এলাকায় নানা গুঞ্জন উঠেছে । এটাকি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

রেজিয়া বেগম কচুয়া উপজেলার ৯নং কড়ইয়া ইউনিয়নের সাদিপুরা-চাঁদপুর গ্রামের মৃত:আবদুল আজিজের মেয়ে ।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার কড়ইয়া ইউনিয়নের সাদিপুরা-চাঁদপুর গ্রামের রেজিয়া বেগম গত শুক্রবার সন্ধ্যায় তার বাবার বাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন।

পরে মৃত্যুর বিষয়টি রহস্য দেখা দিলে কচুয়া থানার পুলিশ এসে নিহতের ভাই শাহজাহান ও জাহাঙ্গীর আলমসহ তাদের পরিবারের লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে এক পর্যায়ে ঘরের সামনে উঠানে বাশেঁর সাথে দড়ি পেছিয়ে রেজিয়া বেগম আত্মহত্যা করছে বলে তারা জানান।

পরে পুলিশ রেজিয়া বেগমের লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। মৃতদেহ ময়না তদন্ত শেষে নিহতের বাবার বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

এলাকাবাসী আরো বলেন, রেজিয়া বেগম প্রথমে তার বাবা-মা সামাজিক ভাবে হাজীগঞ্জের হাটিলা এলাকায় বিয়ে দেন। ওই স্বামী ভারতে মুম্বাই চলে গিয়ে তার খোজ খবর না নেওয়ায় তার পিত্রালয়ে নিয়ে আসে।

পরবর্তীতে তাকে পুনরায় কড়ইয়া গ্রামে বিয়ে দেন। ওই স্বামী কিছুদিন পূর্বে মারা যান। পরে সে বাবার বাড়ি চলে আসেন।

এদিকে বাবার বাড়ি চলে আসার পর থেকে তার ভাইয়ের পরিবারের লোকজন তার সাথে ভালো ব্যবহার করতোনা, হয়তো বা এসব কারণে অভিমান রেজিয়া বেগম আত্মহত্যা করতে পারে বলে এলাকাবাসী ধারনা করছেন।

নিহতার ভাই শাহজাহান ও জাহাঙ্গীর আলম জানান, রেজিয়া বেগম আমাদের বড় বোন, সে দীর্ঘদিন মানসিক রোগী ছিলেন। তাকে কেউ থাকা খাওয়া নিয়ে কিংবা তার সাথে কোন ধরনের সমস্যা ছিল না। রেজিয়া বেগমের মানসিক সমস্যা দেখা দিলে আমরা তাকে কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে জামান’স ক্লিনিক হাসপাতালে চিকিৎসা করি।

তবে তার আত্মহত্যার বিষয়টি প্রথমে স্থানীয় এলাকাবাসীদের জানাননি কেন?

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, প্রথমত আমরা ভয়ে বিষয়টি কাউকে জানাতে চাইনি। পরে খবর পেয়ে বাড়িতে থানা পুলিশ আসায় আমরা ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার বিষয়টি তুলে ধরি। তবে আমার বোন কেন আত্মহত্যা করেছে তা জানিনা।

অন্যদিকে নীরিহ রেজিয়া বেগমের মৃত্যুর প্রকৃত রহস্যটি উদঘাটন করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

প্রতিবেদক: জিসান আহমেদ নান্নু,১৫ জুন ২০২১

Share