নজরুলবর্ষ উপলক্ষে চাঁদপুরে মোহন বাঁশি স্মৃতি ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা
নজরুলবর্ষ উপলক্ষে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহন বাঁশি স্মৃতি ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের আয়োজনে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে চাঁদপুর শহরের রেলওয়ে একাডেমিতে এই আয়োজন করা হয়। এতে দুটি বিভাগে বিদ্যালয়ের অর্ধশত শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে।
সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অজিত দত্তের সভাপতিত্বে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন রেলওয়ে একাডেমির অধ্যক্ষ মাহমুদা খানম। সংগঠনের সহ-সভাপতি মুহাম্মদ আলমগীর হোসেন পাটোয়ারীর পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমির পরিচালক ও সাহিত্য মঞ্চের সভাপতি আশিক বিন রহিম। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জনি চন্দ্র দাস।
এসময় উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহন বাঁশি স্মৃতি ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্য শৈবাল মজুমদার,
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক লিপি দেবনাথ, কাজী আজিজুল হাকিম, উস্মে কুলসুম মার্জিয়া।
বক্তারাঅনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন অন্যায়, অসাম্য ও শোষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার এক অসাধারণ প্রতিভা। তাঁর সাহিত্য ও দর্শন নতুন প্রজন্মকে মানবিক, অসাম্প্রদায়িক ও মুক্তচিন্তার মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে অনুপ্রেরণা দেয়। শিশুদের মধ্যে নজরুলের সৃষ্টিশীলতা ও মানবিক চেতনা ছড়িয়ে দিতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তারা বলেন, চিত্রাঙ্কন শিশুদের মেধা ও সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটানোর পাশাপাশি তাদের কল্পনাশক্তিকে সমৃদ্ধ করে। প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা আনন্দের সঙ্গে নজরুলের জীবন, সাহিত্য ও আদর্শের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। শুধু প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হওয়াই নয়, প্রতিটি শিশুর অংশগ্রহণই এ আয়োজনের বড় সাফল্য।
বক্তারা আরও বলেন, নজরুলবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত এই চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা নতুন প্রজন্মের কাছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের অসাম্প্রদায়িক চেতনা, দেশপ্রেম ও মানবতাবাদী দর্শন তুলে ধরার একটি সুন্দর উদ্যোগ। ভবিষ্যতেও শিশু-কিশোরদের নিয়ে এ ধরনের সৃজনশীল ও সাংস্কৃতিক আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা।।
প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা রঙ-তুলি আর কল্পনার মেলবন্ধনে ক্যানভাসে ফুটিয়ে তোলে তাদের স্বপ্ন, অনুভূতি ও সৃজনশীলতার নান্দনিক প্রকাশ। পুরো আয়োজনে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ, যেখানে শিল্পের প্রতি শিশু-কিশোরদের ভালোবাসা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
প্রতিযোগিতা শেষে বিচারকদের মূল্যায়নের ভিত্তিতে দুই বিভাগের ৫ জন করে ১০ জন বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। এছাড়াও অংশগ্রহণকারী সকল শিক্ষার্থীদের সান্তনা পুরস্কার দেওয়া হয়।
স্টাফ রিপোর্টার/
১৩ আগস্ট ২০২৬