হাজীগঞ্জে বেকারত্ব দূরীকরণে ড.আলমগীর কবির পাটওয়ারী’র অবদান
একটি কোম্পানিতে হাজার কর্মচারী নয়—একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কয়েক হাজার উদ্যোক্তা গড়ে তুলে বেকারত্ব দূরীকরণে অপরিসীম অবদান রেখে চলেছেন ড.মো.আলমগীর কবির পাটওয়ারী।
‘‘হাজীগঞ্জের উদ্যোক্তা তৈরির কারিগর’’ বলা যায় তাঁকে। দেশের অন্যতম ইতিহাস-ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ,চাঁদপুরের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র অবস্থিত হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক মসজিদ কেন্দ্রিক হাজীগঞ্জ বাজারে শতাব্দী কাল থেকে পর্যায়ক্রমে গড়ে উঠেছে মসজিদ,মাদ্রাসা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শপিং সেন্টার।
আল্লাহর অশেষ রহমতে-এ সব প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রায় ১৭ হাজার থেকে ২০ হাজার মানুষের জীবন- জীবিকা ও পরিবাব-পরিজনের ভবিষ্যৎ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রভাবিত হচ্ছে। মসজিদ প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘ প্রায় ১শ’বছরের ইতিহাসে ওয়াকফ এস্টেটের উন্নয়ন, সম্প্রসারণ ও সেবামূলক কার্যক্রমে সবচেয়ে ব্যাপক ও ধারাবাহিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে সাবেক মোতাওয়াল্লী অধ্যক্ষ ড.মো.আলমগীর কবির পাটোয়ারী’র দায়িত্বকালীন সময়ে। তাঁর পিতা আলহাজ্ব মনিরুজ্জামান পাটওয়ারী ১৯৮৫ সালে মৃত্যুবরণ করার পর তিনি ঐ দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
এস্টেটের সম্পদ-সম্পত্তি বেহাত হওয়া থেকে রক্ষা করা,ধর্মীয় ও সামাজিক সেবার মানকে যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে একটি স্থায়ী ও শক্তিশালী আয়-বর্ধন কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়। সেই লক্ষ্যেই কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ৫টি মার্কেট নির্মাণ,৪টি মাদ্রাসা পরিচালনা,এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের কার্যক্রম,পুরোনো অবকাঠামো ভেঙে ৫ তলাভীতের ফাউন্ডেশনসহ মসজিদের সংস্কার ও উন্নয়ন,মাদ্রাসা স্থানান্তর, মাঠ সম্প্রসারণ এবং নতুন সম্পত্তি দান ও ক্রয়সহ একের পর এক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।
কার্যত:এসব তথ্য শুধু মৌখিক বা কাগুজের বুলি নয়। এ উদ্যোগের মূল দর্শন ছিল—ওয়াকফ এস্টেটের আয় যেন কেবল দান বা অনুদানের ওপর নির্ভরশীল না থাকে। বরং নিজস্ব সম্পদ ও বিনিয়োগের মাধ্যমে একটি স্থায়ী, স্বনির্ভর ও টেকসই আয়ের কাঠামো গড়ে ওঠে। এর ফলে এ সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা-কার্যক্রম,এতিমখানা ও অন্যান্য জনকল্যাণমূলক সেবা দীর্ঘমেয়াদে আরও শক্তিশালীভাবে পরিচালনার ভিত্তি তৈরি হয়েছে।
একটু গভীরভাবে চিন্তা করলে দেখা যাবে-প্রতিটি পদক্ষেপের মাধ্যমে মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিকভাবে আত্মনির্ভর হওয়ার সুযোগ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। প্রতিটি মার্কেটকে কেন্দ্র করে দোকানভিত্তিক যদি গত ৩০ বছরে গড়ে তিনজন উদ্যোক্তা তৈরি হয়ে থাকেন,তাহলে মোট উদ্যোক্তার সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ১ হাজ্রার ২শ জন। তাঁদের প্রত্যেকের সঙ্গে গড়ে ২-৩ জন কর্মচারী যুক্ত থাকলে সম্ভাব্য কর্মসংস্থানের সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ২ হাজার ৪শ থেকে ৩ হাজার ৬শ জন। কম-বেশি ধরে নিলেও এ সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার জন। তবে ৩ হাজার শুধু একটি সংখ্যা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ৩ হাজার পরিবারের জীবন-জীবিকা, সন্তানদের লেখাপড়া ও ভবিষ্যতের স্বপ্ন ও গল্প।
প্রতিটি পরিবারে গড়ে ৫ জন সদস্য থাকলে-এ কর্মসংস্থানের মাধ্যমে প্রায় ১৫ হাজার কর্মজীবী,ব্যবসায়ী ও অন্যান্য পেশার মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে উপকৃত হচ্ছেন। এর সঙ্গে মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জীবিকাও যুক্ত রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে আনুমানিক ৪শ’জন কর্মরত থাকলে এবং প্রত্যেকের পরিবারের সদস্য গড়ে ৫ জন ধরে হিসাব করলে আরও প্রায় ২ হাজার মানুষের জীবিকা এর সঙ্গে সম্পৃক্ত। আল্লাহর অশেষ রহমতে মসজিদ,মাদ্রাসা,শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শপিং সেন্টার কেন্দ্রিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রায় ১৭ হাজার থেকে ২০ হাজার মানুষের জীবন-জীবিকা ও পরিবারের ভবিষ্যৎ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ইতিবাচক প্রভাবিত হচ্ছে।
চলমান নানা পরিস্থিতিতে স্ব-স্ব ফেইজবুকে নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে অনেকেই বেকারত্ব ঘুচানো বিষয়ে ড.আলমঘীরের সম্পর্কে লিখেন-লিখছেন-তাদের মধ্যে ক’জনের লিখেন,ক.‘‘আলমগীর স্যার শুধু দোকানঘর নির্মাণ বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেননি ; তিনি মানুষের ব্যবসা শুরু,কর্মসংস্থান লাভ এবং অর্থনৈতিকভাবে আত্মনির্ভর হওয়ার সুযোগ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। আমরা হতে চাই সহায়ক শক্তি। কোনো সরকারি অর্থ বরাদ্দ ছাড়াই যদি এত মানুষের জীবনে আল্লাহর অশেষ মেহেরবানিতে অবদান রাখা যায়-তাহলে বর্তমান সময়ে জ্ঞান, বুদ্ধি,পরামর্শ ও মেধাকে কাজে লাগিয়ে হাজীগঞ্জের মানুষের জন্য বেকার সমস্যা দূর করে আরও কত কিছু করা সম্ভব হবে।’’
খ.‘‘এ দেশে যাদের কোনো সামাজিক কাজ-কর্ম নাই। তারাই ভালো কর্মের বিরোধিতা করে। যাদের কোনো সামাজিক দায়বদ্ধতা নাই-তারাই সমাজে যারা দায়বদ্ধতা নিয়ে কাজ করে- তাদের বিরুদ্ধে সমালোচনা করে ও তাদের ক্ষতি করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠে। হতাশার কিছু নাই-কর্মই ধর্ম। প্রজন্মের পর প্রজন্ম হাজীগঞ্জবাসী আপনাদের কল্যাণকর কর্মের কথা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করবে। কিছু সংখ্যক পরশ্রীকাতর মানুষ শত চেষ্টা করেও হাজীগঞ্জবাসীকে বিব্রত করতে পারবেনা। আল্লাহর উপর ভরসা অব্যাহত রাখুন। আল্লাহ নিশ্চিই আপনাদের সহায় থাকবেন ইনশাআল্লাহ।’’
গ.‘‘হাজীগঞ্জ বাজারের উন্নয়নের বাতিঘর ও রূপকার একজনেই-এ অন্যান্য যোগ্যতার মাপকাঠিতে হাজীগঞ্জ আর হবে না। স্যার নিজেই একটা প্রতিষ্ঠান, আল্লাহ স্যারের নেক হায়াত দান করুক। কর্মই মানুষকে যুগ যুগ বাঁচিয়ে রাখে। এমনকি মৃত্যুর পরেও। যাঁরা সমাজের কল্যাণে কিছু করতে পারে নি-তারাই মূল সমালোচক। অথচ-সমালোচনাকারীদের জীবন ইতিহাস ঘাটলে দেখা যাবে, তাঁরা সমাজের কল্যাণে কিছু করবেতো দূরের কথা- নিজেদের কল্যাণেই কিছু করতে পারে নি। পরিশেষে বলবো-হাজীগঞ্জে এমন কাজের ১০ ভাগের এক ভাগ কেউ করতে পারবে-এমনটা কখনোই আর সম্ভব হবে না বলে মনে করি। হাজীগঞ্জ বাজারের উন্নয়নের বাতিঘরও রূপকার একজনেই। এ অন্যান্য যোগ্যতার মাপকাঠিতে হাজীগঞ্জ আর হবে না। স্যার নিজেই একটা প্রতিষ্ঠান, আল্লাহ স্যারের নেক হায়াত দান করুক। ’’
ঘ.‘‘ প্রিন্সিপাল স্যারের অর্জনগুলো কর্মের মাধ্যমেই প্রকাশ পাচ্ছে-আলহামদুলিল্লাহ। এক নজরে এ উন্নয়নগুলোর পরিসংখ্যাণ আধুনিক হাজীগঞ্জ গড়ার ক্ষেত্রে যে কতটা শক্তিশালী ভূমিকায় উপনীত হয়েছে-তা সকলের নিকটে সহজেই অনুমেয়। আর সমালোচনাকারীদের জন্য রয়েছে একরাশ হতাশা ও চমৎকার চপেটাঘাত।’’
ঙ.‘‘দায়িত্ব মানুষকে কখনোই ছোট করে না- আরো মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে শেখায় তারই মধ্যে এ প্রতিষ্ঠান যা চাঁদপুর জেলার মধ্যে অন্যতম। ’’
চ.‘‘এ লিফলেটে যা যা উল্লেখ করা হয়েছে তা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই-সবই সঠিক।যে কাজ করে তার সমালোচনা থাকবেই আর সমালোচনা সে করে যে কোনো কাজ করতে পারে না।’’
ছ .‘‘মানুষ বাঁচে তার কর্মের মধ্যে,বয়সের মধ্যে না,স্যার কর্মের যে প্রতিফলন ঘটিয়েছেন হাজীগঞ্জ পৌরবাসী কিয়ামত পর্যন্ত মনে রাখবেন- আল্লাহ স্যারকে দীর্ঘ হায়াত দান করুক আমীন।’’
জ.‘‘যে মানুষ নিজের সীমা পেরিয়ে দায়িত্ব নেয়-তার গল্প শেষ হয় না। প্রজন্মে প্রজন্মে বাড়ে। হাজীগঞ্জের রূপকার ড.আলমগীর কবির পাটওয়ারীর অবদান হাজীগঞ্জবাসীরর জন্য অনস্বীকার্য। আর সমলোচনা তারাই করবে-যারা অন্যকে ছোট করে নিজের পেট চালাবে।’’
আবদুল গনি,
১১ অক্টোবর ২০২৬
এ জি