দাউদকান্দি বেইলি সেতু ধসে পড়ে চাঁদপুরের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন
কুমিল্লার দাউদকান্দিতে খামারপাড়ায় খিরাই নদের ওপর নির্মিত বেইলি সেতু ভেঙে ইটবোঝাই বাল্কহেডের ওপর পড়েছে। এ ঘটনায় বাল্কহেডের চালক, সুকানি, সহকারী ও ১৭জন শ্রমিক সাঁতরে তীরে উঠে প্রাণে রক্ষা পান।
রোববার (২ আগস্ট) শ্রমিক কাশেম মিয়া বলেন, ‘বাল্কহেড থেকে সাঁতরে তীরে উঠে প্রাণে রক্ষা পেলেও মুঠোফোন, টাকা, ব্যাগে থাকা পোশাক, ঘুমানোর চাদরসহ বিভিন্ন সামগ্রীর কিছুই রক্ষা করতে পারেননি।’
সরেজমিনে দেখা যায়, বেইলি সেতুর একাংশ খালে উল্টে পড়ে আছে। পানিতে ডুবে আছে একটি নৌকা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। বারবার সংস্কারের দাবি জানানো হলেও কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। সেতু ধসের কারণে এখন খামারপাড়া, গৌরীপুর ও মতলবগামী মানুষকে বিকল্প পথে ১৫-২০ কিলোমিটার ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, রোগী ও ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন। নৌকা ছাড়া বিকল্প কোনো যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় জরুরি প্রয়োজনেও মানুষ সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মজনু মিয়া অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিনের বর্ষা ও বৃষ্টিতে সেতুর পাটাতন মরিচা পড়ে নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। প্রায়ই পাটাতন দেবে গিয়ে ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটত। এ কারণে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সেতুটি মেরামতের কাজ শুরু করে। কিন্তু দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকায় শ্রমিকরা না বুঝেই বেইলি সেতুর সংযোগের নাট খুলে ফেলেন। এতে পুরো সেতুটি ভেঙে নদীতে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার পর মেরামতকাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলেও দাবি করেন তিনি।
সেতুটি ভেঙে পড়ায় ওই সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে দাউদকান্দি উপজেলার পাশাপাশি চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ, কচুয়া, হাজীগঞ্জ, ফরিদগঞ্জ ও চাঁদপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।
এ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) দাউদকান্দি উপজেলা প্রকৌশলী মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ব্রীজ টি খুলে ফেলার জন্য একজন ঠিকাদারকে দেওয়া হয়েছিল । খোলার সময় অজ্ঞতার কারণে বৃষ্টি ভেঙে নিচে পড়ে যায় । এখানে নতুন করে ব্রিজ তৈরি করা হবে ।
নিজস্ব প্রতিবেদক/
৩ আগস্ট ২০২৬