ছাই উড়া ও তুষ নদীতে ফেললে রাইস মিলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা

পরিবেশ অধিদপ্তর–এর উদ্যোগে চাঁদপুরে রাইস মিলের ছাই উড়া ও নদীতে ধানের তুষ ফেলা বন্ধে রাইস মিল মালিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল ১১টায় শহরের স্টেডিয়াম রোডস্থ পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ অধিদপ্তর চাঁদপুর কার্যালয়ের উপ পরিচালক মোঃ মিজানুর রহমান।

তিনি বলেন, সরকার নদী ও খাল দূষণ রোধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। কোনো অবস্থাতেই রাইস মিলের ধানের তুষ নদীতে ফেলা যাবে না। নদীতে ছাই ও তুষ ফেলার কারণে পানিদূষণসহ নদীর জীববৈচিত্র্যে ব্যাপক প্রভাব পড়ছে।

তিনি আরও বলেন, ছাই যাতে উড়ে আশপাশের পরিবেশের ক্ষতি করতে না পারে, সে বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। অতীতে ছাই উড়ার কারণে অনেকের চোখের ক্ষতি হয়েছে। এ বিষয়টি রাইস মিল মালিকদের অবশ্যই মানতে হবে। নদীতে তুষ ফেলার বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের কাছে পর্যাপ্ত ছবি ও তথ্য রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

উপপরিচালক জানান, পরিদর্শনের সময় ১৩টি মিলের মধ্যে ৫টি মিল চালু পাওয়া গেছে। সভার পরবর্তী ৭ কার্য দিবসের মধ্যে নির্দেশনার অগ্রগতি সম্পর্কে লিখিত আপডেট দেওয়ার জন্য মিল মালিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তর চাঁদপুর কার্যালয়ের পরিদর্শক শরমিতা আহমেদ লিয়া, অটো রাইস মিল সমিতির সভাপতি ও বিসমিল্লাহ রাইস মিলের প্রোপাইটর আব্দুর রহিম, সাধারণ সম্পাদক ও মেসার্স আজমিরী রাইস মিলের প্রোপাইটর মাইনুল ইসলাম কিশোর, নিউ পূবালী অটো রাইস মিলের প্রোপাইটর শিমুল সাহা, মেসার্স তপাদার অটো রাইস মিলের প্রোপাইটর আমিনুল ইসলাম, খাজা বাবা অটো রাইস মিলের প্রতিনিধি আমলমীর ঢালী, মৌসুমী অটো রাইস মিলের প্রোপাইটর পরেশ মালাকার, রুপালী অটো রাইস মিল, মেসার্স মেঘনা অটো রাইস মিল, মেসার্স রওশন অটো রাইস মিল ও মেসার্স বাবা অটো রাইস মিলের প্রোপাইটরসহ সংশ্লিষ্টরা।

সভায় রাইস মিল মালিকরা বলেন, চাঁদপুরের অধিকাংশ মিল বহু আগে স্থাপিত, তখন পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যালয় ছিল না। সে সময় পৌরসভার ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে মিলগুলো পরিচালিত হতো। তারা স্বীকার করেন, ছাই উড়ে যায়; তবে এর পরিমাণ কমাতে তারা কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন। নদীতে তুষ না ফেলার বিষয়ে উপপরিচালকের নির্দেশনা মেনে মিল পরিচালনার চেষ্টা করবেন বলেও তারা আশ্বাস দেন।

মিল মালিকরা জানান, তাদের সমিতিভুক্ত মিলের সংখ্যা ১২টি। ময়নামতি ও শামীমা রাইস মিল সমিতির আওতাভুক্ত নয়।

প্রতিবেদক: সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী,
২২ এপ্রিল ২০২৬