চাঁদপুর

সমস্যা ও সম্ভাবনায় চাঁদপুর সরকারি কলেজের সমাজকর্ম বিভাগ (২য়)

চাঁদপুর সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ মেঘনার তীরবর্তী ক’টি জেলার মধ্যে উচ্চশিক্ষার জন্য সেরা প্রতিষ্ঠান। শিক্ষাপ্রেমী চাঁদপুরবাসীর জন্য এটি গর্বের প্রতীক।

অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ১৯৪৬ সালের ১৫ জুন কলেজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। চাঁদপুর সরকারি কলেজের মূল ভবনটির স্থাপত্যশৈলী অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন। ১৯৮০ সালে কলেজটি জাতীয়করণ করা হয়।

১৯৯১-৯২ শিক্ষার্বষ থেকে অনার্স এবং ১৯৯৩-৯৪ শিক্ষা বর্ষ থেকে মাস্টার্স কোর্স চালু হয়। বর্তমানে মোট ১৭টি বিষয়ে অনার্স ও ১৩টি বিষয়ে মাস্টার্স কোর্স চালু রয়েছে। চাঁদপুর সরকারি কলেজে অনার্স কোর্সের মধ্যে অত্যান্ত গুরুত্ব একটি বিভাগ সমাজকর্ম বিভাগ।

প্রতিবারই এ বিভাগ থেকে সাফল্যের সঙ্গে ভালো ফলাফল অর্জন করে শিক্ষার্থীরা। শিক্ষকদের ভূমিকা আর ছাত্র-ছাত্রীদের আগ্রহ থাকলে সামনে আরো সুুুুুনাম ভয়ে আনবে বলে মনে করেন কলেজ কর্তৃপক্ষ।

চাঁদপুর সরকারি কলেজের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে আমাদের ধারাবাহিক প্রতিবেদনের ২য় পর্বে থাকছে, সমাজকর্ম বিভাগের সমস্যা ও সম্ভাবনা।

সমাজকর্ম বিভাগের সমস্যা ও সম্ভাবনা :

চাঁদপুর সরকারি কলেজ সমাজকর্ম বিভাগে বর্তমানে শিক্ষক রয়েছেন ১২ জন। প্রয়োজন রয়েছে আরো ৪ জন শিক্ষক। এ বিভাগে ভর্তির সংখ্যা ১শ’ ৭৫জন। প্রতিবছর এই সমাজকর্ম বিভাগে সাফল্যের সাথে ১শ’ ৭৫জন ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি হয়।

২০১৪-১৫ শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যা ১শ’ ৭৫জন এবং ২০১৫-১৬ সালে ভর্তির সংখ্যা ১শ’ ৭৫জন। ২০১৪-১৫ সালের ১শ’ ৭৫জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাশকৃত মোট শিক্ষার্থী ১শ’৪০ জন।

শিক্ষকরা জানিয়েছেন সমাজকর্ম বিভাগে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ অনেক বেশি। তাই মাস্টার্স ১ম পর্ব খোলার জন্য শিক্ষার্থী আবেদন জানিয়েছে।

সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থীরা জানায়, চাঁদপুর সরকারি কলেজে ১৭টি অনার্স বিষয়ের মধ্যে সমাজকর্ম বিভাগ অন্যতম। কলেজে এই বিভাগের সাফল্য ও সুনাম রয়েছে। আমরা যারা এই বিভাগে পড়াশুনা করছি, আমাদের সকলের দায়িত্ব ভালো ফলাফল করে সমাজকর্ম বিভাগের সুনাম অক্ষুন্ন রাখা।

সে লক্ষ্যে শিক্ষকরা আমাদের পাঠদানে সহযোগিকা করে আসছেন। শিক্ষার্থীরা আরো জানান, কলেজের মধ্যে সব বিভাগেই কিছু ত্রুটি রয়েছে।

তাদের বিভাগে মোট ১শ’ ৭৫ জন ছাত্র-ছাত্রী। মাঝে মাঝে সবাই একত্রিত হলে ক্লাস করতে হিমশিম খেতে হয়। এছাড়া শিক্ষক সল্পতায় পাঠদান কিছুটা ব্যহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা সমাজকর্ম বিভাগের সব ত্রুটি-বিচ্যুতি দূর করে বিভাগটি থাকবে কলেজের সবকটি বিভাগের শীর্ষে।

সমাজকর্ম বিভাগের প্রভাষক আলমগীর হোসাইন চাঁদপুর টাইমসকে বলেন, সমাজকর্ম বিভাগের ছাত্র-ছাত্রীদের মানবিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য শিক্ষা দানের ইতিহাস,ঐতিহ্য ও দেশপ্রেম তথা মুক্তিযোদ্ধের চেতনাকে গুরুত্ব প্রদান করা হয়। যাতে করে সকল শিক্ষার্থীরা সু-নাগরিক হয়ে সমাজে মানুষের মাঝে সেবা দান করতে পারে। তাহলেই আমাদের শিক্ষা দানের সাফলতা অর্জন হবে।
বিভাগীয় প্রধান মোহাম্মদ আলাউদ্দিন চাঁদপুর টাইমসকে জানান, ‘চাঁদপুর সরকারি কলেজে সমাজকর্ম বিভাবে ভর্তি হওয়ার আগ্রহ অনেক বেশি। শিক্ষার্থীদের আগ্রহ হিসেবে প্রতিবারই তার ভালো ফলাফল অর্জন করে। দেশে বিভিন্ন চাকরির ক্ষেত্রে সমাজকর্ম বিভাগের ভূমিকা অপরিসীম। সম্ভাবনার ক্ষেত্রে সমাজকর্ম বিভাগ বিপুল ভাবে ফলাফল ভালো করে থাকে।’

তিনি আরো জানান, ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালে সমাজকর্ম প্রথম স্থান অধিকার করেছে। প্রতিবছর বিভাগের আয়োজনে সেমিনার অনুষ্ঠান, বিতর্ক, পহেলা বৈশাখ ও শিক্ষা সফরসহ জাতীয় সকল দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়।

সমস্যা কিছু চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সমাজকর্ম বিভাগে কিছু সমস্যার মধ্যে শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষক সল্পতা অন্যতম। অন্যদিকে সমাজকর্ম বিভাগে আগ্রহ থাকায় মাস্টার্স প্রথম পর্ব খেলার দাবি জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা।’

বিভাগটি নিয়ে চাঁদপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. এএসএম দেলওয়ার হোসেন বলেন, ‘চাঁদপুর সরকারি কলেজে পড়া- লেখায় সমাজকর্ম বিভাগের গুরুত্ব অনেক। এই বিভাগের ফলাফল সব সময়ই ভালো হয়ে থাকে। শিক্ষার্থীরা এখানে পড়ালেখা করে সমাজের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখছে এবং রাখবে।’

সমস্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিভাগটিতে শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষক সল্পতা রয়েছে। প্রশাসনিক ভবন নির্মান কাজ শেষ হলেই বিভিন্ন বিভাগের শ্রেণিকক্ষ সল্পতা সমাধান করা হবে এবং শিক্ষক পদ শূণ্য থাকায় আমরা আবেদন করেছি। আশা করি দ্রুত শিক্ষক সল্পতা দূর হবে। সে লক্ষ্যেই আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থীদের আবেদনের মধ্যে রয়েছে মাস্টার্স প্রথম পর্ব খোলা। আর সেই লক্ষ্যেই কলেজের পক্ষ থেকে মাস্টার্স প্রথম পর্ব খোলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। দ্রুত যাতে এ বিভাগ চালু করা যায় সে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’

About The Author

প্রতিবেদক- শরীফুল ইসলাম

আগের পর্ব দেখুন…

সমস্যা ও সম্ভাবনায় চাঁদপুর সরকারি কলেজ (১ম পর্ব) : দর্শন বিভাগ

Share