৬ ঘন্টার ভারী বর্ষণে স্থবির হয়ে পড়েছে চাঁদপুর শহর। অপর্যাপ্ত নিষ্কাশনব্যবস্থা এবং ড্রেনগুলো ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হয়ে থাকায় শহরের প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো এখন পানির নিচে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
চাঁদপুর আবহাওয়া কেন্দ্রের কর্মকর্তা শাহ মুহাম্মদ শোয়েব জানান, মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত মাত্র ৬ ঘণ্টায় চাঁদপুরে ৭৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় এই বৃষ্টিপাত হয়েছে, তবে আগামী পাঁচ দিনে বৃষ্টির প্রবণতা কিছুটা কমতে পারে।
সকাল থেকে শুরু হওয়া এই অবিরাম বৃষ্টিতে চাঁদপুর জেলা প্রশাসক (ডিসি) কার্যালয় এবং জেলা আদালত চত্বর এলাকা প্লাবিত হয়েছে। হাঁটু সমান পানি পেরিয়েই বিচারপ্রার্থী, আইনজীবী ও দাপ্তরিক কাজে আসা সাধারণ মানুষকে যাতায়াত করতে হচ্ছে। অনেক দপ্তরের বারান্দায় পানি উঠে আসায় স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে।
শহরের কোড়ালিয়া, পীর বাদশা মিয়া রোড, প্রফেসর পাড়া, নাজির পাড়া ও পুরাণবাজার এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। পৌরসভার পক্ষ থেকে ড্রেন পরিষ্কারের কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় পাড়া-মহল্লার রাস্তাগুলো এখন ছোটখাটো খালে পরিণত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেক ভুক্তভোগী শহরের বেহাল চিত্র তুলে ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
বিশেষ করে মাদ্রাসা রোড ও লঞ্চ ঘাট এলাকার অবস্থা সবচাইতে শোচনীয়। ড্রেন বন্ধ থাকায় রাস্তায় জমা হাঁটু সমান পানি মাড়িয়েই লঞ্চযাত্রীদের চলাচল করতে হচ্ছে। মাদ্রাসা রোডের পাশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর মাঠ মাজা সমান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না। ১০ নম্বর ওয়ার্ডের প্রতাপসা ও পালপাড়া এলাকার প্রায় তিন শ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। ঘরের ভেতর পানি ঢুকে পড়ায় আসবাবপত্র ও মালামালের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা। এ ছাড়া চাঁদপুর সরকারি কলেজ এলাকাতেও একই চিত্র দেখা গেছে।
ভুক্তভোগী নাগরিক ও শিক্ষার্থীরা দ্রুত ড্রেন সচল করে জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবি জানিয়েছেন।
স্টাফ করেসপন্ডেট/
৪ আগস্ট ২০২৬
Chandpur Times | চাঁদপুর টাইমস Top Newspaper in Chandpur