চাঁদপুর খলিসাডুলিতে যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে অসহায় পরিবারের জায়গা দখলচেষ্টার অভিযোগ
চাঁদপুরের খলিসাডুলিতে একটি অসহায় পরিবারের বাড়ির সামনের জায়গা জোরপূর্বক দখলচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে আমিন খান নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার নিজেদের বসতবাড়ি ও সম্পত্তির নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। বিরোধের সুষ্ঠু সমাধান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাঁদপুরের সংসদ সদস্য ও জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী সেলিম লস্কর ও তাঁর পরিবার। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আমিন খান যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের বাড়ি পোড়ানোর মামলার ৪৫ নম্বর আসামি।
চাঁদপুর পৌরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের খলিসাডুলি মঠখোলা মাজার রোড এলাকার বেপারীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগী সেলিম লস্কর ওই এলাকার মন্নান লস্করের ছেলে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, সেলিম লস্করের খালাতো ভাই নান্নু বেপারী, শুক্কুর বেপারী ও বোন খুরশিদা বেগমের কাছ থেকে একই এলাকার অনিল খানের ছেলে যুবলীগ নেতা আমিন খান ২০১১ সালে চারটি দলিলের মাধ্যমে বাড়ির পেছনে থাকা ১ শতাংশ ৯৮ পয়েন্ট জমি ক্রয় করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন পর এখন তিনি ক্রয় করা জমির সীমানার বাইরে গিয়ে তাঁদের বাড়ির সামনের জায়গা জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করছেন।
পরিবারটির দাবি, তার বড় ভাই বড় ভাই চাঁদপুর পৌরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির মহল্লা কমিটির সাধারণ সম্পাদক হওয়ায় রাজনৈতিক
দলীয় প্রভাব খাটিয়ে আমিন খান লোকজন নিয়ে বেশ কয়েকবার তাঁদের বাড়ির সামনের ঘর ভেঙে জায়গাটি দখলের চেষ্টা করেছেন। এ সময় তাঁদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আমিন খান যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের বাড়ি পোড়ানোর মামলার-৪৫ নম্বর আসামি। তাঁর বড় ভাই চাঁদপুর পৌরসভার-১৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির মহল্লা কমিটির সাধারণ সম্পাদক হওয়ায় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাঁদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তাঁরা।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা কিছুদিন পূর্বে চাঁদপুর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। পরে থানার এসআই কফিল উদ্দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং বিরোধটি মীমাংসার জন্য স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেন।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে স্থানীয়ভাবে সালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রতিপক্ষের দুজন সার্ভেয়ার ও ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষের একজন সার্ভেয়ার উপস্থিত ছিলেন। ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, উভয় পক্ষের জমির কাগজপত্র পর্যালোচনা করে সার্ভেয়াররা জানান, প্রতিপক্ষ যে স্থানে দখল করতে চাইছে, দলিল অনুযায়ী সেখানে তাদের জমি নেই। তবে প্রতিপক্ষ এ সিদ্ধান্ত মেনে নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।
ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, তাঁরা কারও বৈধভাবে ক্রয় করা জমিতে হস্তক্ষেপ করতে চান না। তাঁদের দাবি, দলিল অনুযায়ী জমির সীমানা নির্ধারণ করে বাড়ির সামনের জায়গা দখলচেষ্টা বন্ধ করা হোক। এ অবস্থায় তাঁরা চাঁদপুরের সংসদ সদস্য ও জেলা প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিরোধের সুষ্ঠু সমাধান, বসতবাড়ির নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং জোরপূর্বক দখলচেষ্টা বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এবিষয়ে অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা আমিন খান বলেন, আমার কাগজ পত্র আছে। আমি জায়গা কিনেছি দুই পক্ষ থেকে।
প্রতিবেদক: কবির হোসেন মিজি/
১৪ অক্টোবর ২০২৬