চাঁদপুর

চাঁদপুরে পানি সংকটে বোরো উৎপাদনে বিপর্যয়ের আশঙ্কা

চাঁদপুর সেচ প্রকল্পের ভেতরে সেচ খালগুলোর অধিকাংশই ভরাট হয়ে গেছে। এছাড়া খালের উপর অবৈধ স্থাপনা, বসতঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করায় পানি চলাচলে প্রতিবন্ধকতা দেখা দিয়েছে। প্রকল্পে পানি ছাড়লেও অধিকাংশ খালগুলোতে পানির প্রবাহ নেই বললেই চলে। এমনকি অনেক স্থানে পানি না থাকায় পাম্প দিয়েও জমিতে পানি দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এতে সময়মতো বোরো চারা রোপন করতে পারছেন না কৃষকরা।

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তর চাঁদপুর সেচ প্রকল্প (সিআইপি)। চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুর জেলার ৬টি উপজেলা নিয়ে স্থাপিত এ প্রকল্পে প্রায় ২২ হাজার হেক্টর জমিতে প্রতি বছর চরবাগাদী পাম্প মেশিন ও ৬টি পাম্প দিয়ে সেচের ব্যবস্থা করে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

কৃষকরা জানান, ২০১৪ সালের আগ পর্যন্ত প্রকল্পের ভেতরে পানি ছাড়লে জমিতে সরাসরি পানি প্রবেশ করায় কৃষকরা স্বাচ্ছন্দে আবাদ করতেন। কিন্তু এবার প্রকল্পের ভেতরের অধিকাংশ সেচখাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ এগুলো সংস্কার না করায় ২০১৪ সালের পর থেকে খালগুলোতে আর পানির প্রবাহ নেই বললেই চলে। খালে পানির প্রবাহ না থাকায় বা অনেক স্থানে পানি না থাকায় পাম্প দিয়েও জমিতে পানি দিতে পারছে না কৃষক।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) মো. রুহুল আমিন জানান, প্রকল্পের ভেতরে বোরো জমিতে চাষাবাদের জন্য সাড়ে ৭শ সেচ খালে প্রতি বছর জানুয়ারি ১ তারিখে পানি ছাড়া হয়। কিন্তু প্রকল্পের কিছু অসচেতন লোক বর্তমানে এসব খালের অনেক স্থানে ভরাট করে অবৈধভাবে বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলায় অনেক জমিতে পানি পৌঁছতে পারে না। তবে এ ব্যপারে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কর্মকর্তারাও প্রকল্পের ভেতরে খালের অনেক স্থানে ভরাট করে অবৈধভাবে বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলায় এবং খালগুলো সংস্কার না করায় প্রায় প্রতি বছরই বোরো মৌসুমে পানির প্রবাহ কম থাকছে খালগুলোতে। এ কারণে কৃষকরাও সমস্যায় পড়েন। এসব সমস্যার বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে বলেও জানান এ কর্মকর্তা। (জাগো নিউজ)

০৫ ফেব্রুয়ারি,২০১৯

Share