চাঁদপুর

চাঁদপুরে পরিত্যক্ত ডোবাকে ‘গায়েবী কূপ’ বানিয়ে প্রতারণা

চাঁদপুরে পরিত্যাক্ত একটি ডোবাকে ‘গায়েবী কূপ’ বলে মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলার অপচেষ্ট শুরু করেছে একটি চক্র। চক্রটির দাবি ওই ডোবা থেকে (কথিত গাইবী কূপ) পানি খেলে মনের বাসানা পূর্ণ হয় এবং যে কোনো অসুখ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় মানুষের আলাপ করলে কথিত এই ‘গাইবী কূপ’র রহস্য সম্পর্কে জানা যায়, চাঁদপুর শহরের পুরাণবাজারস্থ পৌর ৫ নং ওয়ার্ডের উত্তর রঘুনাথপুর ভাঙাপুল ভূঁইয়া বাড়ি এলাকার একটি বিলে মাঝে গিয়ে দেখা মেলে কথিত ‘গায়েবী কূপে’র। রঘুনাথপুর এলাকার একটি বিলের মাঝে পরিত্যক্ত ওই ডোবার অবস্থান। ডোবাটি কচুরীপানা ও আবর্জনার ভরে আছে।

এ বিষয়ে চাঁদপুর পৌর ৫নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও স্থানীয় মুরব্বি আলহাজ্ব আবুল হোসেন বেপারী জানায়, আজ থেকে প্রায় ৮/১০ বছর আগে ওই বিলের পাশে একটি বাড়ি করতে গিয়ে মাটি কটা হয়।

পরে বর্ষা মৌসুমের এক সময় সেখানে এসটি গর্তের সৃষ্টি হয়। ধীরে ধীরে গর্তটি বড় হতে থাকে। কিন্তু এতবছর কেউ এটাকে গায়েবী কুপ বলেনি। অথচ হঠাৎ করেই স্থানীয় কিছু মানুষ এটিকে গায়েবী কূপ বলে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

স্থানীয় মসজিদের ইমাম হাফের মো. মোস্তফা এ বিষয়ে কিছুই বলতে রাজি না হলেও তিনি জানান এটি কোনো মতেই গায়েবী কুপ হতে পারে না। পাশে একটি মসজিদের ইমা জানায়, এটি সম্পূর্ণ বানোয়াট ও মিথ্যা। একটি চক্র মানুষকে প্রতারিত করে টাকা হাতিয়ে নেয়া চেষ্টা মাত্র।

এদিকে স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতা বাহার জানায়, ভূইয়া বাড়ির পাশে মহসিন গাজী ও আলী গাজীর ৭-৮ শতাংশ সম্পত্তির ওপর হঠাৎ করে একটি গায়েবী কুয়া সৃষ্টি হয়। কথিত এই ‘গায়েবী কুয়ার’ খবর পেয়ে বিভিন্ন জেলা থেকে পানি নিতে মহিলা-পুরুষ ছুটে আসছে। কুয়ার পানিতে তাদের মনোবাসনা পূর্ণ হচ্ছে বললেও তারা জানিয়েছে।

ওই সম্পত্তির মালিক মহসিন গাজী জানায়, ১০ বছর পূর্বে হঠাৎ এক রাতে বর্ষা মৌসুমে এ গায়বী কুয়াটি উৎপন্ন হয়। দুদিনের মধ্যে ছোট থেকে বিশাল বড় কুয়ায় পরিণত হয়েছে। বেশ কয়েকবার সেচ মেশিন লাগিয়েও এই পানি শেষ করা যায় যায়নি।

কয়েকজন যুবক দাবি করেন, রাতের বেলায় জ্বীন পরীদের কুয়ার পাশে আড্ডায় পরিণত হয়। তাই ভয়ে কেউ রাতে কুয়ার পাশ দিয়ে আসে না। এখানে কূপটি সত্যি। কেউ যদি এই কূপের ক্ষত্রি করে তাবে কূপটি তার ক্ষতি করে দিবে।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে স্থানীয় হকু বেপারী ওই কূপের পানি বোতলে ভরে বিভিন্ন জায়গায় ১ হাজার টাকা করে প্রতি পানি বিক্রি করছে।

এলাকাবাসী জানায়, কথিত ‘গায়েবী কুয়ার’ পানি নিয়ে খাওয়ার জন্য বিভিন্ন স্থান থেকে দলে দলে মহিলা-পুরুষের ছুটে আসার খবরটি সম্পূর্ন বানোয়াট ও মিথ্যা।

অপর দিকে সংবাদ সংগ্রহ করার জন্য দীর্ঘক্ষণ সেখানে অবস্থান নিলেও ওই সময়ে একজন ব্যাক্তিকেও কূপ থেকে পানি নিতে দেখা যায়নি।

প্রসঙ্গত, শহরের পুরাণবাজারের রঘুনাথপুরের ওই এলাকাটিতে কিছুদিন আগেও লোকমান ফকির নামের এক ব্যাক্তি একটি কবরকে মাজার বানিয়ে বার্ষিক ওরশ করে। পরে এ নিয়ে স্থানীয় মুসল্লিদের সাথে লোকমান ফকিরের লোকজনের সংর্ঘষের ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘর্ষ টানা কয়েক দিন চলতে থাকে।

আশিক বিন রহিম[/author] : আপডেট ৮:৫৫ পিএম, ১০ মে ২০১৬, মঙ্গলবার
ডিএইচ

Share