প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত নৌযান শুমারি উপলক্ষে চাঁদপুরে র‍্যালি

নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল নৌপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং দেশের নৌযান খাতের সঠিক চিত্র তুলে ধরতে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘নৌযান শুমারি ২০২৬।

নৌযান শুমারি উপলক্ষে বুধবার (১৯ আগস্ট) সকাল ১০টায় চাঁদপুর বড়স্টেশনের ঐতিহ্যবাহী মোলহেডে রক্তধারার সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে র‍্যালির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এ সময় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধানসহ জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়, চাঁদপুরের উপপরিচালক মানিক হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

নৌযান শুমারি সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে গণনাকারীরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও শুমারির লোগোসংবলিত ছাতা নিয়ে স্লোগান ও বাদ্যযন্ত্রসহ র‍্যালিতে অংশ নেন। উৎসবমুখর পরিবেশে র‍্যালিটি রক্তধারার সামনে থেকে শুরু হয়ে ইলিশ ভাস্কর্যের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

এর আগে অনুষ্ঠিত অবহিতকরণ সভায় জানানো হয়, দেশের সমুদ্রগামী, উপকূলীয় ও অভ্যন্তরীণ জলসীমায় চলাচলকারী ইঞ্জিনচালিত নৌযানের একটি পূর্ণাঙ্গ ডাটাবেজ প্রণয়নের লক্ষ্যে নৌযান শুমারি পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ডাটাবেজের মাধ্যমে নৌযান নিবন্ধনসহ নৌপরিবহন খাতের বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় তথ্য ব্যবহার করা যাবে।
শুমারির আওতায় বাংলাদেশের সমুদ্রগামী, উপকূলীয়, অভ্যন্তরীণ ও অন্যান্য জলসীমায় চলাচলকারী সব ধরনের ইঞ্জিনচালিত নৌযান, ডাম্ব বার্জ এবং নিজস্ব ইঞ্জিন না থাকলেও অন্য যন্ত্রচালিত নৌযান দ্বারা টেনে বা ধাক্কা দিয়ে পরিচালিত নৌযান অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এছাড়া বিভিন্ন থিম পার্ক, ওয়াটার পার্ক ও রিসোর্টের কৃত্রিম লেক বা জলাশয়ে বিনোদনের জন্য ব্যবহৃত ইঞ্জিনচালিত নৌযান ও স্পিডবোটও শুমারির আওতায় থাকবে।

তবে সামরিক বাহিনীর নিজস্ব তত্ত্বাবধানে পরিচালিত নৌযান বা জাহাজ এবং তাদের মালিকানাধীন অন্যান্য নৌযান এ শুমারির আওতাভুক্ত নয়। একইভাবে সাধারণ ইঞ্জিনবিহীন নৌকাও শুমারির বাইরে থাকবে।
নৌযানের সংখ্যা ও ঘাটের সঠিক অবস্থান নির্ণয়ের লক্ষ্যে গত ৪ থেকে ১৭ মে ২০২৬ পর্যন্ত লিস্টিং অপারেশন পরিচালনা করা হয়। এ সময় লিস্টাররা লিস্টিং ম্যাপের মাধ্যমে ঘাটের অবস্থান নির্ধারণের পাশাপাশি সিএপিআই অ্যাপের মাধ্যমে নৌযানসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ ও এন্ট্রি করেন।

পরবর্তীতে জেলা ও উপজেলা সমন্বয়কারীরা লিস্টারদের সহায়তায় জোন ও গণনা এলাকা নির্ধারণ করেন এবং হালনাগাদ ম্যাপ প্রকল্প দপ্তরে জমা দেন। একই সঙ্গে সমন্বিত আদমশুমারি ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা (আইসিএমএস)-এ প্রয়োজনীয় তথ্য এন্ট্রি করা হয়।

দ্বিতীয় জোনাল অপারেশনের মাধ্যমে গণনা এলাকার ম্যাপ যাচাই ও প্রয়োজনীয় সংশোধনের পর চাঁদপুর জেলাকে ১৬টি জোনে বিভক্ত করা হয়েছে। জেলার ১৫০টি ঘাটের ১৫৭টি গণনা এলাকায় ১১২ জন গণনাকারী আগামী ২০ থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত নৌযানের তথ্য সংগ্রহ করবেন। উল্লেখ্য, লিস্টিং কার্যক্রমে চাঁদপুর জেলায় মোট ৮ হাজার ১৭৪টি নৌযানের তথ্য পাওয়া গেছে।

নৌযান শুমারি সুষ্ঠু ও নির্ভুলভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে চাঁদপুর জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়ের উদ্যোগে গত ১৫ থেকে ১৭ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত ১১২ জন গণনাকারী ও ১৬ জন জোনাল অফিসারের জন্য তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। প্রশিক্ষণে শুমারির উদ্দেশ্য, গণনাপদ্ধতি, তথ্য সংগ্রহ, সিএপিআই অ্যাপ ব্যবহার এবং মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, নৌযান শুমারি ২০২৬-এর মাধ্যমে দেশের নৌযান খাতের একটি নির্ভরযোগ্য ও পূর্ণাঙ্গ ডাটাবেজ তৈরি হবে। সংগৃহীত পরিসংখ্যানিক তথ্য নৌপরিবহন খাতের উন্নয়ন, পরিকল্পনা প্রণয়ন, নৌযান নিবন্ধন এবং নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল নৌপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রতিবেদক: সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী,
১৯ আগস্ট ২০২৬