চাঁদপুর

চাঁদপুরে নেতৃত্ব সংকটে জাতীয় পার্টি

অ্যাড. মাহবুব পাটওয়ারী মারা যাওয়ার পর আস্তে-আস্তে দলটি নিষ্ক্রিয় ও জনপ্রিয়তা হারাতে থাকে

গত ৫ জানুয়ারির দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দেশের প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদা জাতীয় পার্টির পেলেও চাঁদপুরে দলটির নেতৃত্ব সঙ্কট দেখা দিয়েছে। ফলে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদের হাতেগড়া দলটি আগামীতে এ জেলার নেতৃত্বে কতটা ভূমিকা রাখতে পারবে তা নিয়ে জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে হাতেগোণা কয়েকজন নেতাকর্মী চাঁদপুরে দলটিকে অক্সিজেন দিয়ে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করতে দেখা গেছে।

রাজনৈতিক সচেতনমহলের অনেকে বলছেন, কেবল নিজেদের প্রয়োজনে ও ক্ষমতার স্বাদ ভোগ করতেই হাতেগোনা নেতৃবৃন্দ দলটিকে সামনে রাখছে কিংবা নিজেদের নেতা হিসেবে জাহির করছেন। তবে বর্তমানে দায়িত্বে থাকা নেতারা বলছেন, কেবল দেশের উন্নয়ন আর উৎপাদনের রাজনীতির যে সূত্রপাত রাষ্ট্রপতি হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদ করে গেছেন সে ধারা ধরে রাখতেই জাতীয় পার্টির রাজনীতি তারা করছেন।

এদিকে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৪ দলীয় জোটের অংশীদার হিসেবে মন্ত্রীত্ব পাওয়া দলটি বর্তমানে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে দেশের বিরোধী দলের ভূমিকায় থাকলেও দলটি সরকারের মন্ত্রী পরিষদের অংশীদারিত্ব করছে। কেবল সংবিধানিক বাধ্যবাদকতায় জাতীয় পার্টি দেশের বিরোধী দাল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা বলছেন।

স্থানীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, আশির দশকে ক্ষমতায় থাকাকালে জাতীয় পার্টি চাঁদপুরে পূর্ণ যৌবন নিয়ে দোর্দ- দাপটে রাজনীতি করলেও দলটি বর্তমানে বিরোধী দল হিসেবে দাপিয়ে বেড়াতে পারছে না। ফলে দলটির সমর্থকদের কাছে ওই সময়টা এখন কেবল অতীত আর স্মৃতি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০০৬ সালে চাঁদপুরে জেলা সভাপতি অ্যাড. মাহবুব পাটওয়ারী মারা যাওয়ার পর আস্তে-আস্তে দলটি নিষ্ক্রিয় ও জনপ্রিয়তা হারাতে থাকে। তবে মাহবুব পাটওয়ারীর সময়কালে দলটির জনসর্মথনসহ সবই ছিল চাঁদপুরে। তখন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলো দলটির নেতৃত্বে। এখন সবই ইতিহাসের পাতায়।

অপরদিকে ২০১০ সালের নভেম্বরে চাঁদপুর জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি নির্বাচিত হন সাবেক পৌর চেয়ারম্যান ও প্রবীণ রাজনৈতিক নেতা নূরুল হক বাচ্চু মিয়াজী। বর্তমানে তিনি বয়সের ভারে ন্যূব্জ। হারিয়েছেন স্বাভাবিক চলাফেরার ক্ষমতা। তার সাথে সেক্রেটারীর দায়িত্বে আসেন মতলব দক্ষিণের মিজানুর রহমান। সেক্রেটারী নেতাকর্মীদের সাথে দূরত্ব বজায় রাখায় কর্মীরা তাকে জেলার রাজনীতিতে দেখতে পান না। ফলে তিনি দায়িত্ব নিয়ে দলের জন্য কোন ভূমিকা রাখছেন না। আর এ কারণে বর্তমানে হাল ধরার মতো কোনো নেতা’ই নেই চাঁদপুর জাতীয় পার্টিতে।

বর্তমানের বিরোধী দলের রাজনৈতিক চিত্র সম্পর্কে চাঁদপুর শহর জাতীয় পার্টির সেক্রেটারী মনিরুল ইসলাম খান চাঁদপুর টাইমসকে জানান, ২০১৩ সালে সাবেক মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারের উপস্থিতিতে সম্মেলনের মাধ্যমে শহর জাতীয় পার্টির কমিটি গঠন করা হয়। তারপর থেকে দলীয় কর্মকা- পরিচালনার জন্য অফিস ও দলীয় কর্মসূচি পালন করে আসছি।

তিনি বলেন, জেলার সব উপজেলায় বর্তমানে জাতীয় পার্টির কার্যক্রম না থাকলেও সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয় জাতীয় পার্টি। তার মতে দলের চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের কারণে জাতীয় পার্টির জনপ্রিয়তায় কোন বিরূপ প্রভাব পড়েনি বরং প্রতিনিয়ত বাড়ছে।

তবে বর্তমানে দেশের প্রধান বিরোধী দল হিসেবে জাতীয় পার্টি আলোচিত হলেও চাঁদপুরে সাধারণ মানুষের কাছে রাজনৈতিক দল হিসেবে অনেকটাই অচেনা। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের কাছে। আর মাঠ পর্যায়ে জনপ্রিয়তা না থাকায় নতুন প্রজন্মের কাছে জাতীয় পার্টির গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে না। যা অনেকটা অতীত রাজনৈতিক দল হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে দলটি।

রেজাউল করিম

|| আপডেট: ০৯:৩৫ পিএম,২৪ অক্টোবর ২০১৫, শনিবার

 এমআরআর

Share