চাঁদপুরের প্রাথমিক স্কুলগুলোতে ‘মিড ডে মিলে’ অনিয়ম
শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে চালু হওয়া সরকারি ‘মিড ডে মিল’ কর্মসূচি চাঁদপুর সদরের বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। নির্ধারিত পুষ্টিকর খাবারের পরিবর্তে কাঁচা কলা বিতরণ, টিফিন সরবরাহে অনিয়ম এবং সময়মতো খাবার না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘প্রত্যাশী’ এর বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে চাঁদপুর শহরের ৬২ নং গুনরাজদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মধ্য তরপুরচন্ডী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ঘুরে দেখা যায় শিক্ষার্থীদের মাঝে কাঁচা কলা বিতরণ করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব কলায় অস্বাভাবিকতা রয়েছে এবং এতে কোনো ধরনের ওষুধ বা রাসায়নিক মেশানো থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছেন অনেকে।
সরবরাহকৃত চালানের তথ্য অনুযায়ী, এসব খাদ্যসামগ্রী সরবরাহের দায়িত্বে রয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘প্রত্যাশী। তবে তাদের সরবরাহ কার্যক্রমে অনিয়মের একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, ‘মিড ডে মিল’ কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের বনরুটি, সেদ্ধ ডিম ও ইউএইচটি দুধসহ পুষ্টিকর খাবার দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তার ব্যত্যয় ঘটছে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রায় সময় কলা দেওয়া হলেও রুটি দেওয়া হয়নি। আবার কখনো রুটি দেওয়া হলেও কলা বা বিস্কুট নিয়মিত ও সময়মতো দেওয়া হয়নি।
মঙ্গলবারের ঘটনাতেও একই চিত্র দেখা গেছে। গুনরাজদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের মাঝে বিস্কুট বিতরণ করতে দেখা যায়নি। এ বিষয়ে সংবাদকর্মীরা কাঁচা কলা বিতরণের বিষয়ে জানতে চাইলে, দুপুরের দিকে বিদ্যালয়ে সরবরাহ করা কলা থেকে কিছু অংশ ফেরত নিয়ে যাওয়া হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
এদিকে, এর আগেও চাঁদপুরের কয়েকটি বিদ্যালয়ে এমন টিফিন খেয়ে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ার খবর স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশ পেয়েছিল। এরপরও কার্যকর তদারকি না থাকায় একই ধরনের অনিয়ম বারবার ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিভাবকরা বলছেন, শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করার নামে নিম্নমানের বা সন্দেহজনক খাবার দেওয়া হলে তা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তারা দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘প্রত্যাশী’-এর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সচেতন মহল মনে করছে, একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক কর্মসূচি যেন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কারণে ব্যাহত না হয়, সেজন্য দ্রুত নজরদারি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।
–কবির হোসেন মিজি/ ২৭ এপ্রিল ২০২৬