Home / চাঁদপুর / চাঁদপুরের গ্রামাঞ্চলে ভেজাল ও নকল পণ্যের নিরাপদ বাজার
চাঁদপুরের গ্রামাঞ্চলে ভেজাল ও নকল পণ্যের নিরাপদ বাজার

চাঁদপুরের গ্রামাঞ্চলে ভেজাল ও নকল পণ্যের নিরাপদ বাজার

চাঁদপুর শহরে ভেজাল বিরোধী অভিযানে গত ক’মাসে বেশকিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে অর্থদণ্ডের পাশাপাশি কারাদণ্ডও দেয়া হয়েছে। অভিযানগুলো শহরের মধ্যভাগে প্রসিদ্ধ কিছু এলাকায় পরিচালনা করা হয়।

এসব এলাকায় ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের অধিকাংশই সচেতন, এমনটিই সবার ধারণা। কিন্তু শহরতলীর বৃহৎ এলাকা ও জেলার বিভিন্ন উপজেলার গ্রামাঞ্চলের হাট-বাজার গুলোয় এখন পর্যন্ত কোনো ভেজালবিরোধী অভিযান দৃশ্যমান নয়। আর তাই এসব এলাকায় নকল ও ভেজাল পণ্য উৎপাদনকারীদের পণ্য বাজারজাতকরণ অনেকটাই নিরাপদ হয়ে ওঠেছে।

শুধু পণ্য বাজারজাতকরণই নয়, অনেক অসাধু ব্যক্তি এসব এলাকায় গড়ে তুলছেন নকল ও ভেজাল পণ্য তৈরির অবৈধ কারখানা। কোনো প্রকার অনুমতি বা নিয়মনীতি না মেনেই এসব কারখানাগুলো প্রসাশন ও লোকচক্ষুর আড়ালে অস্বাস্থ্যকর এবং ক্ষতিকর ভেজাল খাদ্য ও খাদ্যজাত পণ্য নির্বিঘ্নে উৎপাদন এবং বাজারজাত করে যাচ্ছে। ফলে একদিকে সরকার হারাচ্ছে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব। অন্যদিয়ে হুমকির মূখে পড়ছে জনস্বাস্থ্য।

ভেজাল বিরোধী অভিযানে প্রসাশনের তেমন কোনো তৎপরতা দৃশ্যমান না থাকায় পণ্য উৎপাদনকারীদের পাশাপাশি এসব এলাকার দোকানগুলোয় চলছে নকল পণ্য বিক্রি উৎসব। যা রীতিমত ভাবিয়ে তুলছে সচেতন জেলাবাসীকে।

শহরতলীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বেসকিছু দোকানে দেখা যায় দেশের নামিদামী ব্রান্ডের পণ্যের অবিকল অনেক পণ্য বিক্র করা হচ্ছে। তবে চাকচিক্যের কারণে এসব পণ্য আসল না নকল তা নিশ্চিত করতে পারছে না দোকানীরা।

তাদের দাবি এসব পণ্য তারা আসল ভেবেই বিক্রি করছেন। এমন বক্তব্যের মাধ্যমে দোকানীরা দায় এড়াতে চাইলেও তা কী সম্ভব? এমন প্রশ্ন সাধারণ ভোক্তাদের।

তবে নাম না প্রকাশের শর্তে বেশকিছু দোকানী জানায়, ব্র্যান্ডের পণ্যে লাভ সীমিত। তাই বেশি লাভের আশায় ব্রান্ডের নামে বাজারের নকল পণ্যই তাদের পছন্দ।

এ ছাড়াও এসব দোকানে দেদারসে বিক্রি হচ্ছে নামে বে-নামে বিভিন্ন বেকারীর খাদ্য ও খাদ্যজাত পণ্য। এসব পণ্যের গায়ে নেই কোনো উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখ। তা স্বত্তেও নির্বিঘ্নে ক্রয় করে যাচ্ছেন ভোক্তারা। এর কারণ হিসেবে জনসচেতনতার অভাবকেই দায়ী করছেন বিজ্ঞমহল।

তাদের মতে এ ব্যপারে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে জনস্বাস্থ্যে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।

এ ব্যপারে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের (আরএমও) ডা. বেলায়েত হোসেন বলেন, যে কোনো কিছুরই নির্দিষ্ট সময় বা মেয়াদ থাকে। তাই মেয়াদোত্তীর্ণ কোনো খাবারই খাওয়া ঠিক নয়। মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার পেটে গিয়ে আলসার, ডায়রিয়াসহ শরীরের বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি করে থাকে।

তবে সব হতাশার মাঝেও আশার আলো এই যে, বর্তমানে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন যে কোনো অপরাধ দমনে সর্বোচ্ছ শক্তি প্রয়োগ করে যাচ্ছে। যার ফলে বিগত কয়েক মাসে চাঁদপুরে সব ধরনের অপরাধী চক্রগুলো অনেকটাই কোণঠাসা হয়ে পড়েছে।

ইতোমধ্যে শহরের পুরাণবাজার এলাকা ও সদর উপজেলার মৈশাদী এলাকায় বেশকিছু ভেজাল পণ্যের কারখানার সন্ধানও পেয়েছে প্রশাসন। প্রশাসনের এ প্রশংসনীয় উদ্যোগের ফলে জনমনে এখন আকাঙ্ক্ষার পরিধিও বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তুু তারপরও থেমে নেই অবৈধভাবে পণ্য উৎপাদনকারী চক্রটির তৎপরতা।

তাই জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের জণস্বাস্থ্যের এ বিষয়টি এখন অধিক গুরুত্বের সাথে নিয়ে শহরের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলেও ভেজাল বিরোধী অভিযান পরিচালনায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবী উঠে এসেছে সাধারণ মানুষের মাঝে।

 মুসাদ্দেক আল আকিব, প্রধান বার্তা সম্পাদক

: আপডেট ৬:০০ এএম, ৮ মার্চ ২০১৬, মঙ্গলবার
ডিএইচ