চার দিন গ্যাস সরবরাহ বন্ধের খবর গুজব, জানাল পেট্রোবাংলা

আগামী চার দিন দেশে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ থাকবে; সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন খবরকে গুজব ও বিভ্রান্তিকর বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা)। একই সঙ্গে এ ধরনের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সর্বসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দেওয়া এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

পেট্রোবাংলা জানায়, একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের ফটোকার্ড ব্যবহার করে আগামী চার দিন গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকার খবর ছড়াচ্ছে। এতে জনমনে আতঙ্ক ও বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।

পেট্রোবাংলা জানায়, কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত দুটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনালের একটি, সামিট এলএনজি টার্মিনালে জরুরি রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলছে। এ কারণে টার্মিনালটির মাধ্যমে এলএনজি পুনরায় গ্যাসে রূপান্তর করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে।

এর প্রভাবে দেশে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ ২ হাজার ৫৭০ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে কমে আগামী চার দিন প্রায় ২ হাজার ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে আসতে পারে। অর্থাৎ, প্রতিদিন প্রায় ৩২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমার আশঙ্কা রয়েছে।

তবে পেট্রোবাংলা স্পষ্ট করেছে, গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না। সরবরাহ কমে যাওয়ার কারণে দেশের কোনো কোনো এলাকায় সাময়িকভাবে গ্যাসের চাপ কম থাকতে পারে।

উল্লেখ্য, দেশে দীর্ঘদিন ধরেই চাহিদার তুলনায় গ্যাসের সরবরাহ কম। ফলে আবাসিক, শিল্প ও বাণিজ্যিক গ্রাহকদের একটি বড় অংশ নিয়মিত গ্যাস সংকটে ভুগছেন। বিশেষ করে এলএনজি টার্মিনালের কোনো একটি বন্ধ থাকলে আমদানি করা গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের পরিমাণ কমে যায়।

মহেশখালীর দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের মাধ্যমে আমদানি করা তরল গ্যাসকে পুনরায় গ্যাসে রূপান্তর করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়। সামিট এলএনজি টার্মিনালের জরুরি রক্ষণাবেক্ষণের কারণে আগামী কয়েক দিন সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হতে পারে। এতে বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের স্বল্পচাপ পরিস্থিতি আরও কিছুটা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ অবস্থায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধের নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অপতথ্য ও গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে পেট্রোবাংলা।

চাঁদপুর টাইমস ডেস্ক/
৩ নভেম্বর ২০২৬