খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ অর্জন : দৃঢ়প্রত্যয়ে এগুতে হবে

বাংলাদেশের ৮৭% গ্রামীণ পরিবারের আয়ের প্রধান আয়ের উৎস কৃষি। খাদ্য নিরাপত্তা ,কর্মসংস্থান ও দারিদ্র বিমোচনে কৃষিই মুখ্য ভূমিকা পালন করছে।

আজ থেকে ৪০ বছর আগে বাংলাদেশ ছিলো একটি দুর্ভিক্ষের দেশ। খরা, বন্যা, ঝড়, জলোচ্ছ্বাস, মঙ্গা, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি ইত্যাদি ছিল নিত্যসঙ্গী।

প্রতিবছর বিদেশ থেকে খাদ্যশস্য আমদানি করেও দেশের ক্ষুধার্ত মানুষের খাদ্য চাহিদা পুরণ করা সম্ভব হতো না। দেশে সবসময় একটা নীবর দুর্ভিক্ষ বিরাজ করত ।

কৃষির বৈপ্লবিক পরিবর্তন এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের পথ দেখিয়েছে। দেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ । বিদেশে চালসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য রফতানি হচ্ছে। রূপালী ইলিশের তো বিশ্ব জোড়া খ্যাতি । কৃষিক্ষেত্রে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলি সহায়ক ভূমিকায় এটি সম্ভব হয়েছে।

কৃষি বিভাগও নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করায় উৎপাদনে বিপ্লব ঘটছে। স্বাধীনতার সময় দেশে মাত্র ১ কোটি মে.টন চাল উৎপাদন হতো। তখন জনসংখ্যা ছিল ৭ কোটি। আর এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ কোটি।

বর্তমানে দেশে এখন গড়ে বার্ষিক চাল উৎপাদন হচ্ছে – ৩ কোটি ৪৮ লাখ মে. টন। এ ছাড়াও গম উৎপাদন হচ্ছে-১৩ লাখ মে.টন, ভুট্টা ২৩ লাখ ৬১ হাজার মে. টন এবং আলু হচ্ছে ৯২ লাখ মে.টন। শাক-সবজি উৎপাদনে চলছে নীরব বিপ্লব। প্রতিটি বাড়িতে ফল-ফলাদিও উৎপাদন হচ্ছে প্রচুর।

দেশে ১ শ’৩০ জাতের ফল রয়েছে। এ সব ফল ভিটামিন ও খনিজ লবণের প্রাধান্য রয়েছে যা আমাদের দেহের শক্তি জোগায়। পরিকল্পিতভাবে দেশের ১ কোটি ৯৪ লাখ বসতবাড়িতে সাড়ে ৪ লাখ হেক্টর জমিতে দেশীয় ফলের বাগান তৈরি করে আমাদের পুষ্টির চাহিদা মেটানো সম্ভব।

বর্তমানে দেশে ১ দশমিক ৪৪ লাখ হেক্টর জমি থেকে ২২ লাখ টন দেশীয় ফল উৎপাদন হচ্ছে। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, দেশে উৎপাদিত ফলের মধ্যে ৪০ প্রকার ফল বিদেশে রফতানি হচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে এখন আম যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশে রফতানি হচ্ছে।

ইতোমধ্যেই বিভিন্ন দেশে ১৬ কোটি মানুষের খাদ্য চাহিদা মিটিয়ে চাল রফতানি করা হচ্ছে। সরকারি হিসেবে দেশে এ বছর ৩০ থেকে ৪০ মে.টন চাল উদ্ধৃত্ত থাকবে বলে কৃষিবিদরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

তাই আমাদের খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ অর্জনে দৃঢ়প্রত্যয়ে এগুতে সংশ্লিষ্ট মহলকে আহবান জানাচ্ছি।

সম্পাদকীয় : আপডেট, বাংলাদেশ সময় ৩:০০ পিএম, ২৫ জুন ২০১৬, শনিবার
ডিএইচ

Share