Home / চাঁদপুর / কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি হলে প্রধান শিক্ষকরা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন: মানিক এমপি
অনিয়ম

কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি হলে প্রধান শিক্ষকরা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন: মানিক এমপি

মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন ও শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নের লক্ষ্যে চাঁদপুর সদর উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও স্কুল ম্যানেজিং কমিটির (এসএমসি) সভাপতিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (৪ জুলাই) চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে চাঁদপুর সদর উপজেলা প্রশাসন আয়োজনে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক।

তিনি তার বক্তব্যে বলেন, আমার কাছে প্রতিনিয়ত অনেক সাধারণ মানুষ তাদের নানা সমস্যার সমাধানের জন্য আসেন। এর পাশাপাশি বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষকও বিভিন্ন বিষয়ে, বিশেষ করে বদলি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আমার কাছে আসেন। তবে আমি শুরু থেকেই বলে আসছি, শিক্ষক বদলির বিষয়ে কেউ আমার কাছে আসবেন না। কারণ, এ বিষয়ে আমি কোনো ধরনের সুপারিশ করতে চাই না এবং করবও না।

তিনি আরো বলেন, আপনারা সরকারের সঙ্গে শর্তসাপেক্ষে দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার করে চাকরিতে যোগদান করেছেন। তাই সরকার যেখানেই দায়িত্ব দেবে, সেখানেই আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে হবে। বদলি হবে যোগ্যতা, কর্মদক্ষতা ও মেধার ভিত্তিতে। আমি আমার মূল্যবান সময় সাধারণ মানুষের কল্যাণে ব্যয় করতে চাই। সে কারণে শিক্ষক বদলির বিষয়ে, তিনি আমার যত কাছের মানুষই হোন না কেন, কোনো সুপারিশে আমি সম্পৃক্ত হব না। ইতোমধ্যে অনেকের বদলি হয়েছে, কিন্তু সেখানে আমার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা ছিল না। সবাই নিজ নিজ যোগ্যতা ও কর্মদক্ষতার ভিত্তিতেই দায়িত্ব পেয়েছেন। আজ পর্যন্ত কেউ বলতে পারবেন না যে, আমি শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষা সচিব কিংবা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে কোনো শিক্ষক বদলির সুপারিশ করেছি।

তিনি বলেন, আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই, বর্তমান সরকার এ বছর শিক্ষাখাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দিয়েছে। এই বরাদ্দের সুফল অবশ্যই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছাবে। কারণ, শিক্ষা একটি জাতির মেরুদণ্ড এবং প্রাথমিক শিক্ষা সেই মেরুদণ্ডের ভিত্তি। আপনারাই সেই ভিত্তি নির্মাণের কারিগর। তাই শিক্ষার্থীদের নিজেদের সন্তানের মতো মনে করে পাঠদান করতে হবে। অনেকেই আমার কাছে অভিযোগ করেছেন, কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক ও অন্যান্য শিক্ষকদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। আবার কেউ কেউ রাজনৈতিক পরিচয়ের অভিযোগও তুলেছেন। কিন্তু আমি মনে করি, শিক্ষার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপসের সুযোগ নেই। শিক্ষা ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থ সবার ঊর্ধ্বে। আমি চেষ্টা করেছি বিভিন্ন স্কুল-কলেজ, বিশেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর পরিচালনা কমিটিতে স্থানীয় শিক্ষিত, স্নাতক পাস, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও সম্মানিত ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করতে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে আমরা কাঙ্ক্ষিত অবস্থায় পৌঁছাতে পারিনি। আমাদের শিক্ষার মান আরও উন্নত করতে হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি সংঘটিত হলে প্রধান শিক্ষকরা সরাসরি আমার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন।

তিনি আরো বলেন, আমরা যেমন নিজেদের ঘরবাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখি, তেমনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকেও নিজেদের প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর রাখতে হবে। শুধু পরিচ্ছন্নতাকর্মীর ওপর নির্ভর না করে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও পরিচালনা কমিটির সদস্যদের সম্মিলিতভাবে এ দায়িত্ব পালন করতে হবে। আপনারা যেভাবে নিজেদের পরিবার ও সন্তানদের যত্ন নেন, ঠিক সেভাবেই বিদ্যালয় এবং শিক্ষার্থীদের প্রতিও দায়িত্বশীল হতে হবে। শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ওপরও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ, এসব কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ, সৃজনশীলতা ও পড়াশোনায় মনোযোগ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক আয়োজন বাড়াতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা পাঠ্যক্রমের পাশাপাশি একটি সুন্দর ও সৃজনশীল পরিবেশে বেড়ে উঠতে পারে।

চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস.এম.এন. জামিউল হিকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আবু সাইদ।

চাঁদপুর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বাপ্পী দত্ত রনির পরিচালনায়ন আরো বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক নরেন্দ্র নারায়ণ চক্রবর্তী, চাঁদপুর সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ফয়েজ আহমেদ, চাঁদপুর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রফিকুল হাসান ফয়সাল, উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী রাহাত আমিন পাটোয়ারী এবং পৌর বিএনপির সভাপতি আক্তার হোসেন মাঝি।

মতবিনিময় সভায় চাঁদপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, স্কুল ম্যানেজিং কমিটির (এসএমসি) সভাপতি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন, শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং শিক্ষা কার্যক্রমের সার্বিক উন্নয়ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

স্টাফ রিপোর্টার/ ৪ জুলাই ২০২৬