খেলাধুলা

ক্রিকেটে তিনবারই কেঁদেছে বাংলাদেশ

কলম্বো টেস্টে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অল্পের জন্য হেরে গেছে জিম্বাবুয়ে। জয়ের সুবাস পেয়েও শেষ পর্যন্ত পরাজয়ের স্বাদ—টেস্টে জিম্বাবুয়ের মতো ‘ছোট’ দলের এমন অভিজ্ঞতা খুঁজতে গিয়ে বারবার চলে এল বাংলাদেশের নাম—

মুলতান টেস্ট, ২০০৩
রুমালে চোখ মুছতে মুছতে মাঠ থেকে বেরিয়ে আসছেন খালেদ মাহমুদ—বাংলাদেশের ক্রিকেটীয় দুঃখগাথার চিরন্তন এক ছবি এটি। ২০০৩ সালের সেপ্টেম্বরে সেই মুলতান টেস্ট বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের স্মৃতিতে ঠাঁই নিয়েছে বেদনার গল্প হয়ে। টেস্ট আঙিনায় পরে বাংলাদেশ সাফল্য পেয়েছে। ভবিষ্যতেও পাবে। তবুও ভোলা যাবে না সেই মুলতান। বাংলাদেশের দেওয়া ২৬১ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে একটা সময় পাকিস্তানের স্কোর দাঁড়ায় ৮ উইকেটে ২০৫। মুলতানের মাটিতে প্রথম টেস্ট জয়—এমন সুখানুভূতি যখন স্পর্শ করতে শুরু করেছে বাংলাদেশকে, দেয়াল হয়ে দাঁড়ালেন ইনজামাম-উল-হক। ১৩৮ রানের অপরাজিত এক ইনিংস খেলে ইনজি একাই হারিয়ে দিলেন বাংলাদেশকে। হাতের মুঠোয় প্রায় এসেও ফসকে গেল ঐতিহাসিক জয়টা। দলকে জিতিয়ে ইনজামাম যখন পুষ্প-বৃষ্টিতে ভাসছে, বাংলাদেশ তখন কাঁদছে পরাজয়ের বেদনায়।

কলম্বো টেস্ট, ১৯৯৮
জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটের স্বর্ণযুগ তখন। শ্রীলঙ্কাকে ৩২৬ রানের লক্ষ্য দিয়েছিল জিম্বাবুইয়ানরা। হিথ স্ট্রিকের বোলিং-তোপে ১১৫ রান তুলতেই ৪ উইকেট হারাল লঙ্কানরা। ৫ উইকেটে ২০৯ রান তুলে চতুর্থ দিন শেষ করল তারা। শেষ দিনে শ্রীলঙ্কার দরকার ১১৭, জিম্বাবুইয়ের ৫ উইকেট। অবিচ্ছিন্ন ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে ১৮৯ রান তুলে জিম্বাবুয়ের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিলেন অরবিন্দ ডি সিলভা-অর্জুনা রানাতুঙ্গা। ডি সিলভা অপরাজিত থাকলেন ১৪৩ রানে, রানাতুঙ্গা ৮৭ রানে।

ফতুল্লা টেস্ট, ২০০৬
টেস্টে গত ১৭ বছরে ‘একটুর জন্য’ ফসকে যাওয়া জয়ের বেদনায় বাংলাদেশের চেয়ে কে বেশি পুড়েছে, এটি নিয়ে একটা গবেষণা হতে পারে। রিকি পন্টিংয়ের প্রবল পরাক্রমশালী অস্ট্রেলিয়ার চোখে চোখ রেখে কথা বলবে বাংলাদেশ, এমন কল্পনা ছিল না কারওরই। ২০০৬ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশ সেটিই করে দেখাল। শাহরিয়ার নাফীসের সেঞ্চুরির সৌজন্যে প্রথম দিনই ৫ উইকেটে ৩৫৫ রান তুলে ফেলা বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থামে ৪২৭-এ। মোহাম্মদ রফিকে অসাধারণ বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংস ২৬৯ রানে গুটিয়ে গেলে বাংলাদেশ লিড পায় ১৫৮ রানের। নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ১৪৮ রানে অলআউট হয়ে অস্ট্রেলিয়াকে বাংলাদেশ লক্ষ্য দেয় ৩০৭ রানের। রফিক আবারও অসাধারণ বোলিং করলে লক্ষ্য তাড়ার একপর্যায়ে ২৭৭ রান তুলতেই ৭ উইকেট হারিয়ে বসে অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু বাংলাদেশ আর জয়ের মাঝখানে দেয়াল হয়ে দাঁড়ালেন রিকি পন্টিং। অপরাজিত ১১৮ রানের ইনিংস খেলে একাই অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক জয়টা ছিনিয়ে নিয়ে গেলেন বাংলাদেশের হাত থেকে।

জিততে জিততে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টে হেরে গেল বাংলাদেশ।
চট্টগ্রাম টেস্ট, ২০০৮
এটি বাংলাদেশের আরও একটি আক্ষেপের গল্প। ২০০৮ সালের অক্টোবরে চট্টগ্রামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেও জিততে পারত বাংলাদেশ। সাকিব আল হাসান এই টেস্টে হন্তারক হয়ে উঠেছিলেন কিউই ব্যাটসম্যানদের জন্য। ৩৬ রানে ৭ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। জয়ের নায়কও হতে পারতেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হতে পারেননি আরেক ‘বাঁ হাতি স্পিনার’ ড্যানিয়েল ভেট্টরির জন্য। ৩১৭ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ভেট্টরি খেলেন ৭৬ রানের ইনিংস। আরেক ‘ড্যানিয়েল’ ফ্লিন করেন ৪৯ রান। এ ছাড়া অ্যারন রেডমন্ড করেন ৭৯। তবে ভেট্টরির ৭৬ রানের ইনিসংটিই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
অথচ, এই টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৪৪ রানে বাংলাদেশের পড়ে গিয়েছিল ৪ উইকেট। দলকে টেনে তুলতে মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে দারুণ একটি জুটি গড়েছিলেন মেহরাব জুনিয়র। পঞ্চম উইকেটে দুজনের জুটিতে এসেছিল ১৪৪ রান। মুশফিক করেছিলেন ৭৯ আর মেহরাব দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৮৩। ম্যাচটা সাকিবের কাছেও ভীষণ স্মরণীয়। প্রথম ইনিংসে ৩৬ রানে নিয়েছিলেন ৭ উইকেট; যা এখনো টেস্টে সাকিবের সেরা বোলিং। ম্যাচে ১০ উইকেট পেতে পেতে পাননি। পেয়েছিলেন ৯ উইকেট। জ্বলে উঠেছিলেন ব্যাট হাতেও। দ্বিতীয় ইনিংসে খেলেছিলেন ৭১ রানের দারুণ এক ইনিংস। আশা জাগিয়েও ম্যাচটা জিততে না পারার আক্ষেপটা আছে এখনো।

নিউজ ডেস্ক : আপডেট, বাংলাদেশ সময় ১০:০০ পি.এম, ১৯ জুলাই ২০১৭,বুধবার
ইব্রাহীম জুয়েল

Share