কুমার নদী ধ্বংসের কিনারে

ঝিনাইদহ জেলা সদর থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরে কুমার নদী । আর এই নদীর উপর দিয়ে বয়ে গেছে একটি সুন্দর দৃশ্য। নদীটির নাম কুমার নদী ঝিনাইদহ জেলার প্রতিটি মানুষের পরিচিত।

যদিও নদীটি নদ বলে খ্যাত রয়েছে অনেকের কাছে। ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া এই কুমার নদীতে একসময় প্রচুর পরিমাণে শৈলমাছ পাওয়া যেত। এ জন্যেই এই অঞ্চলের নাম হয় শৈলকুপা।

একসময় এই নদীটির সৌন্দর্র্য দেখতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ছুটে এসেছে শত শত দর্শনার্থী। কিন্তু বর্তমানে নোংরা আবর্জনা আর ড্রেনের পানি মিশে নদীর সৌন্দর্য্য হারিয়ে যেতে বসেছে। শৈলকুপা বাজারের আশপাশ এলাকায় দোকান ঘর ও আড়ত ঘর নির্মাণ করতে বালি ও মাটি দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে এই নদীর কিনারা। আর ময়লা আবর্জনা তো নিয়মিত ফেলা হচ্ছে। যে কারণে কুমার নদীর পুরাতন সুন্দর্য হারিয়ে যাচ্ছে। যেমন শৈলকুপা বাজারে নদীর কিনারা ঘেসে হাট বসে প্রতি শনি ও মঙ্গলবার। সপ্তাহের এ দুটি হাটে আমদানি হয় বিভিন্ন রকম পন্য। আর এ পণ্যের সকল বর্জ্য-আবর্জনা ফেলা হয় কুমার নদীর তীরে। এতে করে দিন দিন নদীটি ভরাট হতে চলেছে। সেই সাথে পৌরসভার ড্রেনের সমস্ত ময়লা পানি গিয়ে যোগ হচ্ছে এই নদীতে।

শুধু তাই নয় নদীটি বর্তমানে কচুরিপানাই কানায়-কানায় পূর্ণ, যেমন ব্রীজের উপর থেকে পশ্চিম দিকে তাকালে পানি দেখা যায়না শুধু কচুরিপানা। তাই দিনদিন হারিয়ে যেতে বসেছে কুমার নদীর এই সৌন্দর্য্য। আমাদের এই সুন্দর কুমার নদীকে বাঁচাতে হলে এখনই যথাযথ কর্তৃপক্ষকে এগিয়ে আসতে হবে বলে মনে করেন এলাকার সুশীল সমাজ ও সচেতন মহল। কুমার নদীতে এলাকার মানুষ কেউ এখন আর গোসল করতে পারে না, পারে না নদীর পানি প্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহার করতে। নদীটি খননের জন্য এলাকার কার ও কোনো মাথাব্যথা নেই। বাজারের ময়লা আবর্জনা যেভাবে ফেলা হয় তাতে করে মনে হয় নদীটি ভরাট হলেই যেন সবাই রক্ষা পায়। কুমার নদীর নাম যেন কার ও মনে নেই বিষয়টি এই মনে হয়। ফলে কুমার নদীর নাম টা আজ বিলীন হতে চলেছে।

চাঁদপুর টাইমস : এমআরআর/জেআরটি/২০১৫

Share