কচুয়ায় মিথ্যা মামলায় হয়রানির অভিযোগ

কচুয়া উপজেলার হারিচাঁইল গ্রামে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে একটি নিরীহ পরিবারকে হয়রানি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই গ্রামের বাহালুল ইসলাম ও সিফাত উল্যাহ গংদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠে। মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমুলক মামলার আসামী হয়ে নিরীহ দুলাল প্রধান ও হানিফ প্রধান ন্যায় বিচার পেতে দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনসহ এলাকাবাসীর দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।

মামলায় হয়রানির শিকার গোহট উত্তর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. দুলাল প্রধান বলেন, আমার প্রয়াত দাদা আকবর আলী ওরফে আজগর আলী প্রধানীয়ার দেয়া সাবকবলা মূলে আমার আম্মা ছলেমা খাতুন সাবেক ৯০নং হারিচাইল মৌজার ১১৩ দাগে ৪২ শতাংশ এবং ২০৪ দাগে ৪৮ শতাংশসহ মোট ৯০ শতাংশ ভূমি (যার দলিল নং ২৮২৮ তারিখ: ০১.০৪.১৯৪৪ইং) আমরা মালিক হয়ে শান্তিপূর্ন ভাবে ভোগ দখল করে আসছি। কিন্তু প্রতিপক্ষ একই গ্রামের প্রতিবেশী বাহালুল ইসলাম গংরা ওই সম্পত্তি নিজেদের কাল্পনিক দাবি করে বিভিন্ন ভাবে আমাদের মামলা দিয়ে হয়রানি ও ওই জমি জোরপূর্বক ভোগ দখলের চেষ্টা করে আসছেন। এছাড়া বাদীর পিতা মৃত আব্দুস সাত্তার (গ্রাম সরকার) বিগত ১৯৪৬ সালে ২৮ মে ৬০৩৪নং বিল এওয়াজ রেজিস্ট্রিকৃত হেবা দলিলের মাধ্যমে নালিশী ২৪১ দাগের বাড়িতে ৩৬ শতক মালিক হয়। কিন্তু উল্লেখিত ওই দাগে প্রায় ৪ শতাংশ জায়গায় ওয়াল নির্মান করে জোর পূর্বক দখল করে রাখে।
মো. দুলাল প্রধান আরো জানান, আমি দীর্ঘ ২৬ বছর প্রবাসে ছিলাম।

এ সুযোগে প্রতিপক্ষরা শুধু মামলা দিয়ে ক্ষ্যান্ত নয়, তারা ভূয়া দলিল সৃষ্টি ও আত্মীয় স্বজন ও বহিরাগতদের স্বাক্ষী করে আমাদের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালত ও থানায় বিভিন্ন ভাবে ৮টি মিথ্যা মামলা দায়ের করে। বাদীর উল্লেখ্য যোগ্য মামলার মধ্যে মামলা নং ৬৩৭,তারিখ: ১২.০৪.২০২০ ইং মামলাটি বিজ্ঞ আদালত নজরে এনে তদন্তপূর্বক ন্যায়ের পক্ষে রায় দেন। কিন্তু বাদী বাহালুল পূনরায় রিভিশান করেন যার নং- ১৩৩/২০২১। এছাড়া বাদীর সি.আর ১৩৯,তারিখ, ০৭.১১.২০২১টি চাঁদপুর জেলা গোয়েন্দা শাখার তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক এম.এ রউফ খান সরেজমিনে সাবকবলার দলিল(২৮২৮) দেখে ও অধিকতর তদন্তপূর্বক বিবাদী দুলাল গংদের পক্ষে প্রতিবেদন দেন। একই ভাবে বাহালুল ইসলাম মোকাম বিজ্ঞ কচুয়া সহকারী জজ আদালতে বিবাদী দুলাল গংদের বিরুদ্ধে আরো একটি মামলা দায়ের করেন, যার মো: নং- ১৮৩,তারিখ: ৩১.১০.২০২০ইং এবং দ.বি.মো: (৭ ধারা) ৩৭/২০২১ ইং।

মূলত বাদী বাহালুল ইসলাম এর মামলার মধ্যে দুটি মামলায় ন্যায়ের পক্ষে প্রতিবেদন আসে এবং অপর মামলাও অভিযোগ গুলো তদন্তধীন রয়েছে। তিনি আরো জানান, বিজ্ঞ আদালতে বাহালুল ইসলাম আমাদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা দিয়ে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে উল্টো সম্প্রতি সময়ে ওই জমি দখলের চেষ্টা করেন।

পরে কচুয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জমি থেকে জোরপূবর্ক মাটিকাটা বন্ধ ও বাঁশ দিয়ে সীমানা দখল তুলে দেন। বাহালুল ইসলাম গংদের এসব মামলা ও হয়রানি থেকে পরিত্রান পেতে নিরীহ দুলাল প্রধান ও হানিফ প্রধানের পরিবারটি প্রশাসন,স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ এলাকাবাসীর সহযোগিতা কামনা করেছেন।

এদিকে ক্ষতিগ্রস্থ দুলাল প্রধান চাঁদপুর মোকাম বিজ্ঞ ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইবুন্যালে প্রতিপক্ষ বাহালুল ইসলাম ও সিফাত উল্যাহ গংদের বিরুদ্ধে রেকর্ড সংশোধনীয় একটি মামলা করেন যার নং- ১১৮, তারিখ:২৮.১১.২০২১ ইং। এব্যাপারে অভিযুক্ত বাহালুল ইসলামের বক্তব্য জানতে বারবার চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।

কচুয়া প্রতিনিধি

Share