Home / উপজেলা সংবাদ / কচুয়া / এমপিওভুক্তকরন হলো কচুয়ার ৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
এমপিওভুক্তকরন

এমপিওভুক্তকরন হলো কচুয়ার ৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

সকল জল্পনা আর কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে কচুয়ায় ৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তরন হয়েছে। এমপিওভুক্তকরণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো, নিন্দপুর ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর স্কুল এন্ড কলেজ,পাথৈর উচ্চ বিদ্যালয়, পনশাহী পাইওনিয়ার উচ্চ বিদ্যালয় ও কোয়া-চাঁদপুর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা।

৫ জুলাই শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের উপ-সচিব সোনারমনি চাকমা স্বাক্ষরিত ২৭১৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন ভাতা এমপিওভূক্তকরন সংক্রান্ত এক বিবৃতির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ প্রতিষ্ঠানগুলো এমপিওভূক্তকরন হওয়া শিক্ষক,শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে আনন্দ দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, ১৯৯৮ সালে তৎকালীন সময়ে কচুয়া-মতলব দক্ষিন সীমান্তবর্তী এলাকার কচুয়ার নিন্দপুর গ্রামে এলাকার শিক্ষার্থীদের শিক্ষা বিস্তারে চাহিদা মেটাতে বিশিষ্ট শিল্পপতি,শিক্ষানুরাগী ও ইউপি চেয়ারম্যান মো. ইসহাক সিকদার কচুয়ার প্রানপুরুষ ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর এমপির নামে নিন্দপুর এমকে আলমগীর স্কুল এন্ড কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে ওই কলেজটি ২০১৫ সালে কলেজ শাখা চালু হয়। ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ সহ ২০জন শিক্ষক ও কর্মচারী রয়েছে।
কলেজের অধ্যক্ষ মো. হাবিবুর রহমান সেলিম বলেন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন পূরনে আমরা খুবই আনন্দিত। বিদ্যালয়টি ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে নানা ভাবে চড়াই উত্তরাই পেরিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম করে আসছি। কলেজের প্রতিষ্ঠাতা মো. ইসহাক সিকদার মহোদয়ের আন্তরিক প্রচেষ্টায় আমরা আজ সাফল্যের মুখ দেখেছি। স্কুল এন্ড কলেজ শিক্ষক ও কর্মচারীদের পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠাতা মহোদয়ের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।

কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও বিশিষ্ট ঠিকাদার মো. মাহবুুবুর রহমান সিকদার চুন্নু বলেন, কলেজটি এমপিওভূক্তকরন হওয়ায় আমরা উল্লাসিত। এমপিওভূক্তরন হওয়ার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি আরো একধাপ এগিয়ে যাবে।
নিন্দপুর এমকে আলমগীর স্কুল এন্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও ইউপি চেয়ারম্যান মো. ইসহাক সিকদার বলেন, কলেজ এমপিওভূক্ত হওয়ায় আনন্দিত নই খুবই আনন্দিত আমরা। স্কুল এন্ড কলেজটি কচুয়ার একজন প্রানপুরুষের নামে নামকরন করেছি। আমি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও প্রিয় নেতা ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর এমপির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।

অন্যদিকে ২০০৪ সালে তৎকালীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে কচুয়া উপজেলার পাথৈর উচ্চ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়। যার প্রতিষ্ঠাতা পাথৈর গ্রামের অধিবাসী,বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক মো. মকবুল হোসেন মিয়াজী। প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে লেখাপড়া ও সুশিক্ষায় এগিয়ে থাকলেও বিশেষ কারনে বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে এমপিওভূক্তরন হয়নি। অবশেষে এ বিদ্যালয়টি এমপিওভূক্তকরন হওয়ায় আনন্দিত শিক্ষার্থী,অভিভাবক ও শিক্ষক পরিবার।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সালেহা আক্তার বলেন, বিদ্যালয়ে বর্তমানে ১১জন শিক্ষক,কর্মচারী ও ৫ শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা মো. মকবুল হোসেন মিয়াজী বলেন, বিদ্যালয়টি অনেক কষ্টে প্রতিষ্ঠা করেছি। শুরু থেকেই এ পর্যন্ত অনেক শ্রম-ঘাম ও অর্থ ব্যয় করেছি। অবশেষে এমপিওভূক্তরন করায় মাননীয় সরকার ও শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।

অন্যদিকে ২০০০ সালের ১ জানুয়ারী তৎকালীন সময়ে কচুয়া পৌর সদর থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার পশ্চিমে কোয়া-চাঁদপুর গ্রামের বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা ও শিক্ষা অধিদপ্তর কুমিল্লা অঞ্চলের সাবেক উপ-পরিচালক মরহুম আমিনুল হক এলাকার মাদ্রাসা শিক্ষা বিস্তারের চাহিদা মেটাতে এ মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করেন। এ মাদ্রাসায় বর্তমানে প্রায় ৫০ শতাংশ ভূমি থাকলেও ক্লাস চলার মতো কোন একাডেমিক ভবন না থাকায় সমস্যার মধ্যদিয়ে শিক্ষকরা পাঠদান চালিয়ে যান।

মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতাকালীন সুপার মো. ইয়াকুব আলী জানান, মাদ্রাসাটি শতভাগ পাসসহ উল্লেখযোগ্য ছাত্র-ছাত্রী জিপি-এ পেয়ে আসছে। মাদ্রাসাটিতে বর্তমানে ১৩জন শিক্ষক, ৩ কর্মচারী ও প্রায় ৪ শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। গত বছর সর্বশেষ আমাদের মাদ্রাসাটি এমপিওভূক্ত হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। কিন্তু এবছর সকলের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও দোয়ায় এমপিওভূকরন হওয়ায় আমরা খুবই আনন্দিত। আমরা সরকার ও কর্তৃপক্ষের প্রতি মন খুলে সকলের জন্য দোয়া করছি।
মাদ্রাসা পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও বিশিষ্ট সমাজসেবক মো. জামাল হোসেন জানান, কোয়া-চাঁদপুর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসাটি এমপিও ভুক্ত করণ সময়ের দাবী ছিল।

আমার জানামতে, এ প্রতিষ্ঠানটি প্রায় প্রতিবছর সন্তোষজনক ফলাফল করে আসছে। কোয়া-চাঁদপুর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসাটি এমপিওভুক্ত হওয়ায় মাদ্রাসার শিক্ষক ও কর্মচারীদের স্বপ্ন পুরন হলো। বর্তমানে মাদ্রাসার ১৩জন শিক্ষক, ৩ কর্মচারী পরিবার পরিজন ও প্রায় ৪ শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। মাদ্রাসাটি এমপিওভুক্তকরন করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শিক্ষামন্ত্রী ডা: দীপু মনি এমপি,সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর এমপিসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।

প্রতিবেদক: জিসান আহমেদ নান্নু, ৬ জুলাই ২০২২