চাঁদপুর

এমএম নুরুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগে বিতর্কের ঝড়

সদর উপজেলার চাঁদপুর-কুমিল্লা মহাসড়কের পার্শ্বে ২নং আশিকার্টি ইউনিয়নে অবস্থিত এমএম নুরুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে আবারো বিতর্কের ঝড় উঠেছে। তবে এবার সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে এ বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়োগকে কেন্দ্র করে এলাকায় দুটো গ্রুপ মুখোমুখি অবস্থায় রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এক অভিযোগ সূত্রে জানাযায়, উক্ত বিদ্যালয়টির সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদটি শূন্য রয়েছে। বিদ্যালয়টি একটি ট্রাস্টের মাধ্যমে পরিচালনা হয়। তাই সরকারি বিধি মোতাবেক এ শূন্য পদটি পূরণে গত সেপ্টেম্বর মাসে স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগের যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের দরখাস্ত আহ্বান করে। এই বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার পর উক্ত পদের জন্য ২৯জন প্রার্থী দরখাস্ত করে। কিন্তু বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সু-কৌশলে ১১ জন প্রার্থীকে ইন্টারভিউ কার্ড ইস্যু না করে মাত্র ১৮ জন প্রার্থীকে ইন্টারভিউর জন্য আহ্বান করে। কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত ইন্টারভিউ তারিখটি ছিলো গত ৭ অক্টোবর বুধবার সকাল ১০ টা। কিন্তু কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত সময়কে পাশ কাটিয়ে দেড় ঘন্টা পর পরীক্ষা শুরু করে।

শুধু তাই নয় এক ঘন্টার পরীক্ষা শুধু ১ জন প্রার্থীর জন্য দেড় ঘন্টা সময় নির্ধারণ করে দেয়। এমনি ভাবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করে। শুধু মাত্র কারণ ছিল সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে যোগ্যতা থাকুক বা না থাকুক তাদের পছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়াই মূল উদ্দেশ্য।

পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী বেশ কয়েকজন পরীক্ষার্থী জানান বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই বিদ্যালয়ে পূর্বে কর্মরত জনৈক সহকারী শিক্ষককে নিয়োগ দেওয়ার জন্য লোক দেখানো এ প্রক্রিয়া করে যিনি বর্তমানে শাহ্মাহমুদপুর ইউনিয়নের তাও ওই বিদ্যালয়ের কাছাকাছি একটি বালিকা বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসাবে কর্মরত রয়েছেন। তিনি এ বিদ্যালয়ে চাকুরিকালীন অবস্থায় তার কর্মকান্ড নিয়ে প্রশ্নবোধক কর্মকান্ড রয়েছে।

ওই ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য পরীক্ষার পূর্বে প্রশ্ন ফাঁস করে দিয়েছে। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ করার জন্য সরকারি বিধি মোতাবেক যা করার দরকার তা তারা করেছে ঠিকই কিন্তু বোর্ডের প্রতিনিধি সহ যে সকল প্রতিনিধি এবং নিয়োগ কমিটিতে যারা থাকবেন তারা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পছন্দের লোককে নিয়োগের জন্য নিজস্ব বলয়ের লোকদেরকে নিয়োগ প্রক্রিয়ার দিন উপস্থিত রাখে।

লিখিত পরীক্ষা চলাকালীন সময় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পছন্দের ব্যক্তি পরীক্ষার হলেই অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থীদের সামনেই আনন্দের সুরে বলতে থাকে আপনারা পরীক্ষা দিয়ে লাভ নেই আমি প্রথম হবো। সব ঠিকঠাক হয়েছে। তারপরও অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থীরা মনোবল না ভেঙ্গে পরীক্ষা দেয়। পরবর্তীতে লিখিত পরীক্ষা শেষে ৫ জনকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য রাখা হয়। দেখা যায় মৌখিক পরীক্ষার সময়ও ঐ ব্যক্তি একই সুরে প্রথম হওয়ার অভিব্যক্তি প্রকাশ করে। এতে উপস্থিত প্রার্থীরা হতবাক হয়ে যায়।

শুধু তাই নয় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিয়োগ কমিটিতে যাদের রেখেছেন এদের মধ্যে নাম প্রকাশ করার না শর্তে সরকারি একজন প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা এ প্রতিনিধিকে বলেন, যারা নিয়োগ পরীক্ষার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তারা সঠিক ঘটনাটি ধরতে পেরেছেন। আসলে এই বিদ্যালয়ে এ নিয়োগ প্রক্রিয়াটি শুধু সাজানো একটি নাটক।

সকল প্রক্রিয়া বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদ পূর্বেই করে রেখেছে। তারা বিদ্যালয়ের পাশের বাড়ির জনৈক একজন ব্যক্তিকে নিয়োগ করার জন্য (যিনি পূর্বেও এ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসাবে কর্মরত ছিলেন) লোক দেখানো প্রক্রিয়াটি করেছেন। এ অভিযোগ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ সাখাওয়াত হোসেনের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়োগের বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার কেউ নয়। বিদ্যালয়ের শ্রদ্ধেয় প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালনা পর্ষদ ও সরকারি বিধি মোতাবেক সরকারের লোকজন রয়েছে। অভিযোগটি আমার মনে হয় সঠিক না।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা এমএম নুরুল হক সাহেবের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে স্বজন প্রীতির বিষয়টি আমার জানা নেই। আপনি যেহেতু বলেছেন আমি তা খতিয়ে দেখবো।

প্রসঙ্গত, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিদ্যালয়ের পাশের বাড়ির ওই ব্যক্তিকে প্রথম করে শুধু নিয়োগপত্র দেওয়ার বাকি রেখেছে কর্তৃপক্ষ ২/১ দিনের মধ্যে সেটি সম্পূর্ণ করবে। এছাড়াও এ বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে অযোগ্য ব্যক্তিদের বিভিন্ন পদে নিয়োগ ও স্বজন প্রীতির অভিযোগ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই যা স্থানীয় পত্র-পত্রিকায় একাধিকবার লেখালেখি হয়।

চাঁদপুর টাইমস নিউজ ডেস্ক ||   আপডেট: ০১:৫২ পিএম, ১১ অক্টোবর ২০১৫, রোববার

চাঁদপুর টাইমস : প্রতিনিধি/ এমআরআর/২০১৫

Share