ইসলাম

হুজুর নিয়া কিছু কথা, যা না বললেই নয়

আমরা হুজুর তাই, আমরা যখন নতুন বাসায় উঠি। তখন কেউ কেউ কেয়ারটেকারকে বলছিলো, হুজুর ফ্যামিলি উঠছে, জঙ্গি টঙ্গি না তো আবার?! আমি এগুলো সব শুনে কোন প্রতিবাদ করি নাই। শুধু চুপ ছিলাম!

লঞ্চঘাটে যখন সবাইকে রেখে শুধু আমাকে চেকআপের নামে হেনস্থা করেছিলো, তখনো আমি চুপ করে ছিলাম। কিছু বলি নাই!

স্কুলের মাঠে যেদিন গোলকিপারকে কৌশলে গোল দিয়েছিলাম। মনির স্যার বলছিলো তখন, হুজুরের পোলা হইয়া এত কিছু জানো ক্যামনে?! সেদিনও আমি কিছু বলি নাই। চুপ ছিলাম!

বাসের হেল্পার কিংবা রিকশাচালক যখন সাহস করে বলে ফেলে, আপনেরা হুজুর আসলেই প্যাঁচে ভরা। অথচ অপরাধ ছিলো তাদের। তখনো আমি কিছু বলি না। শুকনো হাসি দিয়ে চলে আসি!

বন্ধুর ম্যাচে কয়েকদিন গেছিলাম। একদিন ঠাট্টার ছলে বলে ফেলে,দোস্ত! এখন একটু কম কম আসিস। আশেপাশের মানুষ ভালো না। পুলিশ এসে ইন্ট্রোগেট করতে পারে। সেদিন বাকরুদ্ধ হয়ে গেছিলাম। শুধু অভয় দিয়ে চলে আসছিলাম। কিছু বলার ছিলো না!

আজকে এক মহিলা আমাদের বাসায় এসে আম্মুকে বললো, আপনারা এমন বন্ধি থাকেন ক্যামনে? আম্মু বলেছিলো, কারণ আমরা জাহান্নামের গর্তকে ভয় করি। তখন তাকে বাজার থেকে এনে উদাম কলা দিয়ে আপ্যায়ন করি নাই। চুপ ছিলাম শুধু!

আমরা চুপ থাকার শক্তি কোথা থেকে অর্জন করেছি জানেন? অপমানিত হয়েও তা সহ্য করার ক্ষমতা কোথা থেকে পেয়েছি,
জানেন? .

আমাদের রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহিস সালাম এর থেকে পেয়েছি!

আমরা আরাফাতের কণ্টকাকীর্ণ মরুভূমিতে বসে থাকা রক্তাক্ত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহিস সালাম এর আদর্শ গ্রহণ করেছি। তাঁর থেকে
শিখেছি, তায়েফবাসির পাথর খেয়েও কিভাবে তাদের মঙ্গল কামনা করে প্রার্থনা করতে পারা যায়!

কাবা শরীফে নামাজারত প্রিয় নবীর পিঠে উটের ভুঁড়ি চাপিয়ে দেওয়ার পরও যিনি প্রতিশোধের আকাঙ্ক্ষা পোষণ করেন নাই, তাঁর থেকে
এগুলো আমরা শিখেছি!

আমাদের রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহিস সালাম এর আদর্শ আমাদের চুপ থাকতে উৎসাহ জোগায়। হাসিমুখে কষ্টগুলো মেনে নিতে প্রেরণাদান করে। আমাদের মন বলে, একদিন হয়ত তারা আমাদের থেকেও বেশি আল্লাহর পছন্দের বান্দা হয়ে যাবে!
.
আমরা বিশ্বাস করি, যারা এখন আমাদের সাথে এমন আচরণ করছে, তারা হয়ত একদিন তায়েফবাসির মত শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করবে।

লেখক: আশরাফ হোসাইন ইমন
: আপডেট, বাংলাদেশ সময় ০২ : ৫০ পিএম, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৬, বৃহস্পতিবার
ডিএইচ

Share