একজন মাদকাসক্ত মানেই ধ্বংসের পথে একটি পরিবার- ফরিদগঞ্জ ইউএনও

“একজন মাদকাসক্ত শুধু নিজের জীবনই ধ্বংস করে না, ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয় পুরো পরিবার ও সমাজকে। সুন্দর সমাজ গঠনে সবাইকে মাদকের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে”-এমন আহ্বান জানিয়েছেন ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেটু কুমার বড়ুয়া।
‘মাদকমুক্ত সমাজ গড়ি, সুস্থ-সুন্দর ভবিষ্যৎ নির্মাণ করি’- এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়েছে মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক সমাবেশ।

শনিবার (৯ মে) সন্ধ্যায় ফরিদগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ সংলগ্ন এলাকায় তরুণ প্রজন্মের ইয়াসিন পালোয়ানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেটু কুমার বড়ুয়া।
বিশেষ অতিথি ছিলেন ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন।

এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম ফরহাদ, সাবেক সভাপতি নুরুন্নবী নোমান, সানাউল্লাহ পালোয়ান, মাদক বিরোধী সমাবেশের উদ্যোক্তা ইয়াসিন পালোয়ান, পারভেজ পালোয়ান, রামিন পালোয়ান ও সুলতানা আহমেদ পালোয়ান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী “দেশে বর্তমানে প্রায় ৮৩ লাখ মানুষ কোনো না কোনোভাবে মাদকের সঙ্গে জড়িত। অথচ মাত্র পাঁচ বছর আগেও এ সংখ্যা ছিল প্রায় ৩৫ লাখ। মাদক নিরাময় কেন্দ্রগুলোর তথ্যমতে, একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি প্রতিদিন গড়ে অন্তত ৬ হাজার টাকার মাদক সেবন করে থাকে।”
তিনি আরো বলেন, “মাদক কেবল একটি নেশা নয়, এটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি। একটি পরিবারের একজন সদস্য মাদকে জড়িয়ে পড়লে সেই পরিবারের শান্তি, স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ ধ্বংস হয়ে যায়। মাদকের ভয়াল থাবায় অনেক স্থানে সন্তানদের হাতে বাবা-মা পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে আত্মহত্যার প্রবণতা বৃদ্ধির পেছনেও মাদকের প্রভাব উদ্বেগজনকভাবে কাজ করছে।”
অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে, কী করছে— এসব বিষয়ে পরিবারকে আরও সচেতন হতে হবে। পারিবারিক নজরদারি ও সামাজিক প্রতিরোধই পারে তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াল ছোবল থেকে রক্ষা করতে।”

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে থানার অফিসার ইনচার্জ মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, “শুধু পুলিশের একার পক্ষে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিটি পরিবার, মহল্লা ও সমাজকে সোচ্চার হতে হবে। ঘরে ঘরে সচেতনতা তৈরি হলেই গড়ে উঠবে মাদকমুক্ত সমাজ।”

সমাবেশে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। পুরো আয়োজনজুড়ে মাদকের ভয়াবহতা তুলে ধরা এবং তরুণ প্রজন্মকে সচেতন করার আহ্বান জানানো হয়।

-শিমুল হাছান, ৯ মে ২০২৬