চাঁদপুরে পাট চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা ৩ হাজার ৪শ হেক্টর-উৎপাদন ৬ হাজার ২শ মে.টন
চাঁদপুরে পাট উৎপাদন একটি গুরুত্বপূর্ণ কৃষি কার্যক্রম। মেঘনা,পদ্মা ও ডাকাতিয়া নদীর অববাহিকায় পলিমাটি সমৃদ্ধ উর্বর ভূমিতে জেলার আটটি উপজেলায় নিয়মিত পাট চাষ হয়ে থাকে। ভালো ফলন ও দাম পাওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে পাট চাষে উৎসাহ দেখা যায়। ফলে চাঁদপুরের বিভিন্ন চরাঞ্চল ও নদী সিকস্তি এলাকায় এবার হয়েছে বিপুল পরিমাণ পাট চাষ।
এরমধ্যে চাঁদপুরের উপজেলালোর বিভিন্ন ইউনিয়নের চরগুলোতে বর্তমানে ব্যাপক হারে চাষাবাদ হচ্ছে। বিভিন্ন ফসলের সঙ্গে এবার চরে সোনালি আঁশের ফসল পাট চাষ হয়েছে। পাটের পাতা সবুজ হওয়ায় চরগুলো যেন সবুজ রঙের আল্পনায় সেজে উঠছে। এক সময় ‘পাটকে সোনালী আঁশ ’বলা হতো। কিন্তু কয়েক বছর আগে এ সোনালী আঁশ কৃষকের গলার ‘ফাঁস’ হয়ে দাঁড়িয়েছিল,তখন অনেক কৃষকই পাট চাষ বন্ধ করে দিয়েছিলেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামার বাড়ি চাঁদপুরের দেয়া তথ্য মতে, চলতি ২০২৫-’২৬ অর্থবছরের সময়ে চাঁদপুরের ৮ উপজেলায় পাট চাষাবাদ ও উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। চলতি এ মৌসুমে দেশি, তোষা, মেষতা ও কেনাফ জাতীয় পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা হলো-৩ হাজার ৪শ ৯০ হেক্টর ও উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে-৬ হাজার ২শ’২১ মি.টন্ ।
সরকার এ বছর সকল পণ্যে প্লাস্টিক ব্যাগের পরিবর্তে পাটের তৈরি ব্যাগের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করায় দেশের সব জুট মিলে ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে কাঁচা পাট ও পাটের পণ্যের চাহিদা বেড়েছে। কৃষকগণও পাট চাষে আগ্রহী হয়েছে। উৎপন্ন পাটের দামও এবার ভালো পেয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামার বাড়ি চাঁদপুরের এক কৃষিবিদ জানান,‘ চাষীগণ এখনও পাট সম্পূর্ণ ঘরে তোলে নি। তাই বর্তমান উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা জানা যায় নি। তবে এবার পাট উৎপাদনের অনুকূল আবহাওয়া বিদ্যমান থাকায় উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যেথে পারে।’
তিনি আরোও বলেন,‘ আমরা একসময় পাটের হিসেব বেল হিসেবে করা হত। এখন করা হয় মেট্রিক টনে। সুতরাং ৫ মণে ১ বেল এবং ১ হাজার কেজিতে ১ মে.টন । ’
পাট চাষে আগ্রহী করতে চাষিদেরকে সরকার থেকে প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে। গত বছর থেকে আবারও পাটের ন্যায্য দাম পাচ্ছেন চাষিরা। মাঝখানে পাটের আবাদ কমলেও আবারও পাট চাষে আগ্রহ বেড়েছে চাষিদের। পলিথিন ব্যবহারের পরিবর্তে সর্বক্ষেত্রে পাটের ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। এতে আমাদের পরিবেশ রক্ষা পাবে, পাশাপাশি পাটের হারানো ঐতিহ্য ফিরে আসবে। এক সময় পাট ও পাটজাত পণ্য বিদেশে রপতানি হতো।
বাংলাদেশের প্রধান রপতানিযোগ্য পণ্যের নাম ছিল সোনালি আঁশ। কালের আবর্তে এবং প্লাস্টিক বিপ্লবের কারণে পাটের দাপট ধীরে ধীরে কমতে থাকে। চরে পাট চাষ করে এখন ভালো ফলন পাওয়ার স্বপ্ন বুনছে অল্প জমির পাট চাষিরা। জেলার অধিকাংশ চরের জমিতে গম,মরিচ,কাউন, পিঁয়াজ,ভুট্টা আবাদ ভালো হয়ে থাকে।
বাজারে পাটের ভাল দাম থাকায় এসব ফসলগুলো ঘরে তোলার পর চাষীরা পাট চাষে ঝুঁকে পড়েন। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে,গত বছর পাট চাষ হয়েছিলো প্রায় সাড়ে ৪ হাজার হেক্টর জমি।
আবদুল গনি
২ আগস্ট ২০২৬
এ জি