চাঁদপুর

ওয়ার্ল্ডফিশের তথ্য মতে, ইলিশ উৎপাদনের ৮৬ শতাংশই বাংলাদেশে

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক খুললেই ইদানীং ইলিশের ছবিসহ পোস্ট চোখ পড়ছে। বাজারেও সব মাছ ছাপিয়ে রুপালি ইলিশ যেন রাজার আসনে। শুধু তা–ই নয়, এবার বাজারে ইলিশের আকারও বড়। দামও তুলনামূলক কম।

মৎস্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়ার্ল্ডফিশের চলতি মাসের হিসাবে বিশ্বের মোট ইলিশের ৮৬ শতাংশ এখন বাংলাদেশে উৎপাদিত হচ্ছে। অথচ চার বছর আগেও বিশ্বের মোট ইলিশের উৎপাদনের ৬৫ শতাংশ আসত বাংলাদেশ থেকে। এই সময়ের মধ্যে এখানে ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে ইলিশের উৎপাদন।

সে তুলনায় প্রতিবেশী ভারত, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানে ইলিশের উৎপাদন কমেছে। বাংলাদেশের পরই ইলিশের উৎপাদনে দ্বিতীয় স্থানে ভারত। পাঁচ বছর আগে দেশটিতে বিশ্বের প্রায় ২৫ শতাংশ ইলিশ উৎপাদিত হতো। তবে চলতি বছর তাদের উৎপাদন প্রায় সাড়ে ১০ শতাংশে নেমেছে। তৃতীয় অবস্থানে থাকা মিয়ানমারে উৎপাদন হয়েছে ৩ শতাংশের মতো। ইরান, ইরাক, কুয়েত ও পাকিস্তানে উৎপাদন হয়েছে বাকি ইলিশ।

আরো পড়ুন…. লবন ও বরফ দিয়ে চাঁদপুরে রুপালী ইলিশ বিত্রিু

ভারতের কেন্দ্রীয় মৎস্য গবেষণা প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে দেশটিতে গত বুধ ও বৃহস্পতিবার দুই দিনব্যাপী একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে অন্যতম আলোচনার বিষয় ছিল বাংলাদেশে কীভাবে ইলিশের উৎপাদন বাড়ল। সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ওয়ার্ল্ডফিশ বাংলাদেশের ইকোফিশ প্রকল্পের দলনেতা অধ্যাপক আবদুল ওহাব। তিনি বাংলাদেশের ইলিশের উৎপাদনের সাফল্য তুলে ধরে বলেন, এ দেশে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধিতে সরকারি সংস্থাগুলো যে মডেল তৈরি করেছে, তা এখন বিশ্বের অনেক দেশ অনুসরণ করছে।

ইলিশ গবেষক ও চাঁদপুরের বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড.আনিছুর রহমানের মতে, বেশ কয়েকটি কারণে বর্তমানে দেশে বড় আকারের ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘করোনার কারণে পানিতে দূষণ ও জলযান চলাচল কমেছে, আর এবার বৃষ্টি বেশি হওয়ায় সাগরে বেশি ইলিশ মিলছে। মা ইলিশ রক্ষা, জাটকা সংরক্ষণ ও অভয়াশ্রম নিশ্চিত হচ্ছে; সেই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের মনিটরিংও বড় অবদান রাখছে।’

চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আসাদুল বাকী বলেন, ‘চলতি মাসের শুরুতে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়েছে, এর মধ্যে বড় আকারের ইলিশই বেশি। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ইলিশ নিয়ে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়ায় নির্ধারিত সময়ে জাটকা ধরা বন্ধ থাকে। একই সময়ে জেলেদের খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়। এ কারণে প্রকৃতভাবে ইলিশ সংরক্ষণ হচ্ছে। মৌসুমে এর সুফল মিলছে।’

ওয়ার্ল্ডফিশ, মৎস্য অধিদপ্তর ও মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এবার শুধু পরিমাণের দিক থেকেই নয়, আকৃতিতেও বাংলাদেশের ইলিশের ধারেকাছে নেই কোনো দেশ। ২০১৪ সালে এ দেশে ধরা পড়া ইলিশের গড় ওজন ছিল ৫১০ গ্রাম। গত বছর তা বেড়ে ৯১৫ গ্রাম হয়েছে। মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের হিসাবে চলতি বছর তা আরও বেড়ে ৯৫০ গ্রাম হতে পারে। অন্যদিকে ভারত, মিয়ানমার বা আরব সাগরের তীরবর্তী দেশগুলোয় যে সামান্য পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়েছে, তার গড় ওজন ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রামের মধ্যে। পুষ্টিগুণ ও স্বাদের দিক থেকেও বাংলাদেশের ইলিশকেই সেরা বলে থাকেন বিজ্ঞানী ও গবেষকেরা।

ইলিশ সম্পর্কে জানতে বিস্তারিত আরো পড়ুন..চলতি-অর্থবছর-ইলিশ-উৎপাদন

চাঁদপুর হয়ে চট্টগ্রামের ইলিশের অবতরণকেন্দ্রগুলোয় খোঁজ নিয়ে জানা গেল, বাজারে বেশির ভাগ ইলিশের ওজন এক কেজি কিংবা তার কাছাকাছি। দেড়-দুই কেজির ইলিশও রয়েছে প্রচুর। এ বছর ইলিশের ওজন বেশি এবং দাম আগের চেয়ে তুলনামূলক অনেক কম হওয়ায় বিক্রিও হচ্ছে ভালো।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ইয়াহিয়া মাহমুদ বলেন, ‘বাংলাদেশের ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তার সব কটিই বৈজ্ঞানিক গবেষণানির্ভর ছিল। আর ইলিশের অভয়াশ্রম রক্ষা ও নিষেধাজ্ঞার সময় ইলিশ না ধরার কাজে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিয়ে একযোগে কাজ করেছে সরকারি সংস্থাগুলো। তারও সুফল এখন আমরা পাচ্ছি।

বার্তাকক্ষ, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২০;
কে. এইচ

Share