বিশেষ সংবাদ

অভিমানী এক সেক্টর কমান্ডারের বিদায়

মেজর জেনারেল চিত্তরঞ্জন দত্ত (অব.) বীর উত্তম এবং লে. কর্নেল আবু ওসমান চৌধুরী (অব.)- মুক্তিযুদ্ধের দুই সেক্টর কমান্ডার দুই সপ্তাহের কম সময়ের ব্যবধানে ইহজগৎ থেকে বিদায় নিলেন। শ্রী দত্ত ২৫ আগস্ট সুদূর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এবং আবু ওসমান ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা সিএমএইচে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। কৃতজ্ঞ বাঙালি জাতি এ দুই বীরকে চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

মেজর (পরবর্তীকালে লে. কর্নেল) আবু ওসমান চৌধুরী ১৯৭১-এর ফেব্রুয়ারিতে ডেপুটেশনে চুয়াডাঙ্গায় অবস্থিত তৎকালীন ৪র্থ ইস্ট পাকিস্তান রাইফেল (ইপিআর) ইউনিটের অধিনায়ক হিসেবে যোগদান করেন। সরকারি কাজে ২৫ মার্চ তিনি কুষ্টিয়ায় অবস্থানকালে রাতে পাক হানাদার বাহিনী ঢাকার পিলখানাসহ বিভিন্ন স্থানে হত্যাযজ্ঞ শুরু করে। ২৬ মার্চ সকালে কুষ্টিয়ায় অবস্থানরত পাকবাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে তিনি চুয়াডাঙ্গায় নিজ ইউনিটে ফিরে যান। সেখানে পৌঁছে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, পুলিশ ও ছাত্র-শিক্ষকদের সঙ্গে পরামর্শ করে হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ, পদ্মা-মেঘনার পশ্চিমাঞ্চলকে দক্ষিণ-পশ্চিম রণাঙ্গন নামকরণ করে নিজেকে অধিনায়ক ঘোষণা, ৪র্থ ইপিআর সদর দফতরে পাকিস্তানের পতাকা নামিয়ে লাল সূর্যের মাঝে মানচিত্রখচিত বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সালাম প্রদান করেন। পাকিস্তান সরকার প্রদত্ত ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায় তার এ সিদ্ধান্ত দেশমাতৃকার মুক্তির জন্য এক বিরাট সাহসী পদক্ষেপ।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের স্বঘোষিত অধিনায়ক হিসেবে পুলিশ ও বেসামরিক প্রশাসনকে অনুপ্রাণিত এবং আরও সংগঠিত করার উদ্দেশ্যে তিনি ওই অঞ্চলের তৎকালীন এসডিও তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী ও এসডিপিও মাহবুব উদ্দিনকে (পরবর্তীকালে এসপি) নিজ দায়িত্বে ক্যাপ্টেন র‌্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন। বাংলাদেশের মানচিত্রখচিত সিলমোহর বানিয়ে পরদিন থেকে স্বাধীন দেশের প্রশাসন চালু করেন, যা শত্রু সৈন্য দখলকৃত বাংলাদেশের অন্য কোথাও ছিল না। ২৯-৩০ মার্চ তাজউদ্দীন আহমদ ও ব্যারিস্টার আমীরুল ইসলামকে নিরাপদে সীমান্তের ওপারে পৌঁছে দেয়া এবং ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে প্রথম বাংলাদেশ সরকারের শপথ অনুষ্ঠান আয়োজনে উপরোক্ত তিনজনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আমার জানা ছিল। তারপরও ইতিহাসের সাক্ষী আবু ওসমান চৌধুরী ও মাহবুব উদ্দিনের কণ্ঠে আরও কিছু জানার আগ্রহে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে ইতিবাচক সাড়া পাই। ২০১৮ সালের এপ্রিলের এক সন্ধ্যায় ধানমণ্ডি লেকের পাড়ে আবু ওসমান চৌধুরীর চারতলা বাড়িতে তার সঙ্গে দেখা করি।

স্কুল সার্টিফিকেট অনুযায়ী আবু ওসমান চৌধুরীর জন্ম ১ জানুয়ারি ১৯৩৬ সাল। চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ থানাধীন মদনেরগাঁও গ্রামে তার বাড়ি। ১৯৫১ সালে স্থানীয় স্কুল থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে ম্যাট্রিকুলেশনের পর স্বপ্নের ঢাকা কলেজে ভর্তি হন। কিন্তু বিধি বাম! অসুস্থতার কারণে এক বছর পড়াশোনা বন্ধ থাকায় অবশেষে চাঁদপুর কলেজ থেকে আইএ এবং কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে বিএ পাস করেন। সেনাবাহিনীর উর্দি পরার বাসনা থেকে ১৯৫৮ সালে সেনাবাহিনীতে পরীক্ষা, নির্বাচন এবং প্রশিক্ষণ শেষে কমিশন্ড অফিসার হন।

১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে নিজের অংশগ্রহণ আবু ওসমান চৌধুরীর জন্য ছিল অহংকার ও গর্বের। কিন্তু দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে একাধিকবার তিনি প্রকাশ করেছিলেন, সেনাবাহিনীর জীবন তার জন্য সুখকর ছিল না। পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে পশ্চিমাদের অবহেলা, তাচ্ছিল্য তাকে রীতিমতো পীড়া দিত। তাই মনের ভেতর পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে একরকম ক্ষোভ লালন করতেন। ফলে ১৯৭০ সালে নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয়ের পর থেকে তিনি যেন প্রতিশোধ নিতে মুখিয়ে ছিলেন।

অবশেষে সেই সুযোগ এসে যায়। সময়ক্ষেপণ না করে ২৬ মার্চ ’৭১ পাকিস্তান পক্ষ ত্যাগ করেন। ৩০ ও ৩১ মার্চ দু’দিন তিনি তার অধীনস্থ ইপিআর ইউনিট, পুলিশের বাঙালি সদস্য ও স্থানীয় ছাত্র-যুবকদের সমন্বয়ে গঠিত মুক্তিবাহিনী নিয়ে কুষ্টিয়ায় অবস্থানরত পাক সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত, ওদের সম্পূর্ণভাবে পর্যুদস্ত ও বিপুল পরিমাণ অস্ত্র-গোলাবারুদ হস্তগত করেন। প্রতিশোধ হিসেবে ৩ এপ্রিল পাকিস্তান বিমানবাহিনী নির্বিচারে এতদঞ্চলে বেসামরিক জনপদে বেশ কয়েক দফা বোমা হামলা চালায়। তারপরও এ মুক্তিযোদ্ধারা বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে বিশাখালী, লেবুতলা, গোয়ালন্দ এলাকাগুলো পাকবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। কিন্তু আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত পাকিস্তানের নিয়মিত বাহিনীর সম্মুখে টিকতে না পেরে এপ্রিলের মাঝামাঝি সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে চলে যেতে বাধ্য হন।

১৭ এপ্রিল বাংলাদেশ সরকার গঠিত হওয়ার পর মেজর ওসমানকে ৮নং সেক্টরের কমান্ডার নিয়োগ দেয়া হলে সীমান্তবর্তী বেশ কয়েকটি স্থানে পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে তিনি গেরিলা অভিযান পরিচালনা করেন। কিন্তু আগস্টে অপ্রত্যাশিতভাবে তাকে প্রত্যাহার করে তৎকালীন মেজর (পরবর্তী সময়ে মেজর জেনারেল) মঞ্জুরকে ওই সেক্টরের দায়িত্ব দেয়া হলে স্বভাবতই তিনি হতাশ হন। কলকাতায় ৮নং থিয়েটার রোডে মুক্তিবাহিনীর সদর দফতরে উপস্থিত হয়ে প্রধান সেনাপতি কর্নেল ওসমানীর (পরবর্তী সময়ে জেনারেল) কাছে কৈফিয়ত দাবি করলে তিনি যারপরনাই ক্ষুব্ধ হন।

এরপর মেজর ওসমানকে একই সদর দফতরে মুক্তিবাহিনীর লজিস্টিক শাখা দেখভালের জন্য নিয়োগ দেয়া হয়। রণাঙ্গনে সশরীরে যুদ্ধ ও শত্রু হননের শপথ নিয়েছিলেন বিধায় কলকাতায় মুক্তিবাহিনীর সদর দফতরে তার নিযুক্তি তিনি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেননি। ফলে শৃঙ্খলাবিরোধী হলেও কর্নেল ওসমানীর সঙ্গে তার ঠাণ্ডা লড়াই ভারতের মাটিতে শেষদিন পর্যন্ত স্থায়ী ছিল। ১৬ ডিসেম্বর আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার উপস্থিত থাকলেও এবং ২০ ডিসেম্বর প্রধান সেনাপতি কর্নেল ওসমানী সদ্য স্বাধীন দেশে ফিরলেও মুক্তিবাহিনীর সদর দফতর সম্পূর্ণভাবে গুটিয়ে ২৮ ডিসেম্বর মেজর ওসমান বাংলাদেশে প্রবেশ করেন।

২০১৮ সালের এপ্রিলে যখন আমার সঙ্গে আবু ওসমান চৌধুরীর সাক্ষাৎ হয়, তখন তার বয়স প্রায় ৮২ বছর। সাদা ধবধবে পাজামা-পাঞ্জাবি পরিহিত মানুষটির চুল ও দাড়ির একটিও কালো নেই। তারপরও তার কথাবার্তায় অনুমান করতে পারি এক সময় তিনি কতটা একরোখা, স্পষ্টবাদী ও অপরিণামদর্শী ছিলেন। হয়তো বা সেই কারণে সেনাবাহিনীতে তিনি উপেক্ষিত ও বঞ্চনার শিকার হয়েছিলেন। শুধু সেনাবাহিনীতে নয়, যে কোনো পেশায় ‘উচিত কথা’ সব সময় বলতে নেই। সব সময় জি হুজুর নয়, তবে উপরস্থ কর্মকর্তার প্রতি আনুগত্য খুব বেশি কাম্য বটে। সম্ভবত একই কারণে কর্নেল ওসমানী ১৯৭২-এর এপ্রিল পর্যন্ত সেনাপতি থাকাকালে মেজর আবু ওসমানের পদোন্নতি তো নয়ই বরং তাকে ডিঙিয়ে জুনিয়রকে পদোন্নতি দেয়া হয়। মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সারির একজন যোদ্ধা হয়েও মেজর আবু ওসমান চৌধুরীর প্রতি হয়তো বা অন্যায় করা হয়েছে। এ অবস্থায় প্রকাশ্যে প্রতিবাদের সুযোগ না থাকলেও রিড্রেস অব গ্রিভেন্সেস দেয়া যায়।

কিন্তু আবেগপ্রবণ হয়ে সেনাসদরের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বরাবর তিনি অবসরের জন্য আবেদনপত্র পেশ করে বসেন। সেনাসদর কর্তৃক আবেদনপত্র গৃহীত হওয়ার আগেই কর্নেল (পরবর্তী সময়ে মেজর জেনারেল) শফিউল্লাহ সেনাপ্রধান নিযুক্ত হলে মেজর ওসমান এবার কিছুটা স্বস্তিবোধ করেন। কারণ, ম্যাডাম শফিউল্লাহ ও মিসেস নাজিয়া ওসমান সম্পর্কে মামাতো-ফুপাতো বোন। কিন্তু আত্মীয়তার সম্পর্ক মেজর ওসমানের ভাগ্যের জট খোলা তো দূরের কথা, আরও জটিল করে দেয়। মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য যে চারটি খেতাব প্রদান করা হয়, মেজর ওসমানের ভাগ্যে তার একটিও জোটেনি। অবশেষে তিনি প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাক্ষাৎ লাভের জন্য আবেদন জানান।

মেজর আবু ওসমানের বক্তব্যমতে, তার আগে সেনাপ্রধানকে ভেতরে ডাকা হলে নিশ্চয়ই তার সম্বন্ধে বিস্তারিত নেতিবাচক তথ্য বঙ্গবন্ধুকে বলেছিলেন। তবে বঙ্গবন্ধু তার প্রতি ছিলেন সহানুভূতিশীল। তাই বঙ্গবন্ধু সেনাপ্রধানকে বিদায় জানিয়ে মেজর ওসমানকে নিজ হাতে খাবার পরিবেশনই শুধু নয়, সেনাবাহিনী পুনর্গঠনে শৃঙ্খলা বজায় রেখে চাকরি করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু ঠিক ওই সময় তাকে পদোন্নতি দিয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ (ইন্টারফেয়ার) করে সেনাপ্রধানকে বিব্রত না করলেও কিছুদিন পর মেজর ওসমান লে. কর্নেল পদোন্নতি পেয়ে সেনাসদরে ডিএসটি নিযুক্ত হন। তিন বছর অত্যন্ত আন্তরিক ও সফলভাবে ডিএসটির দায়িত্ব পালন করলেও এরপর তার ভাগ্যে আর কোনো পদোন্নতি জোটেনি। ভায়রা ভাই সেনাপ্রধান; কিন্তু তার প্রতি কেন এ অবিচার! আমার এ কৌতূহল আমি দমন করতে পারিনি। লে. কর্নেল আবু ওসমান চৌধুরী আজ মৃত। কিন্তু সেদিন তার ভাষ্যমতে, মুক্তিযুদ্ধকালে বেনাপোলের কাছে এক বাড়িতে দুই ভায়রা ভাই সপরিবারে বসবাসকালে একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের সম্পর্ক কিছুটা তিক্ত হলে তৎকালীন মেজর শফিউল্লাহ তার পরিবারকে আগরতলায় স্থানান্তর করেন। তখন থেকে তাদের শীতল সম্পর্ক আর উষ্ণ হয়নি।

১৯৭৫ সালে সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের ক’দিন পরই মেজর জেনারেল শফিউল্লাহ চাকরি হারান এবং মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। জেনারেল জিয়ার সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকার কারণে এবার লে. কর্নেল ওসমান সুবিচার পাওয়ার আশা করলেও ৭ নভেম্বর তার সব স্বপ্নের কবর রচিত হয়। সিপাহি-জনতার বিপ্লবের নামে ওইদিন সকালে একদল উচ্ছৃঙ্খল সৈনিক তার বাসায় হামলা চালিয়ে স্ত্রী বেগম নাজিয়া ওসমানকে নির্মমভাবে হত্যা করে। উপস্থিত না থাকায় তিনি ও দুই কন্যা প্রাণে বেঁচে যান। স্বাভাবিকভাবেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তিনি। প্রায় দুই মাস ছুটি শেষে কাজে যোগ দিলে ওইদিনই সেনাপ্রধান জেনারেল জিয়া তাকে ডেকে পাঠান নিজ অফিসে। লে. কর্নেল ওসমান ভেবেছিলেন, হয়তো স্ত্রীর এমন দুর্ভাগ্যজনক মৃত্যুর জন্য শোক ও সহানুভূতি প্রকাশের উদ্দেশ্যে এ ডাক।

মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় সেনাপ্রধানের সম্মুখে উপস্থিত হলে জেনারেল জিয়া তার হাতে একটি খাম ধরিয়ে দেন। মৌখিকভাবে বলেন, ‘ওসমান, যেহেতু তোমার স্ত্রী দুর্ভাগ্যজনকভাবে নিহত হয়েছেন, তাই সেনাবাহিনীতে তোমার চাকরি কনটিনিউ করা আর ঠিক হবে না। তাই আমি তোমাকে অকালীন অবসরের নির্দেশ দিয়েছি। সরি, ডোন্ট টেক ইট আদারওয়াইজ।’

মাতৃভূমির স্বাধীনতার জন্য জীবনবাজি রেখে যুদ্ধে গিয়েছিলেন এ নির্ভীক সৈনিক। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর সেনাবাহিনীর পুনর্গঠনে আত্মনিয়োগও করেছিলেন। কিন্তু তাকে অনেক হেনস্তা হতে হয়। মাত্র চার বছর সদ্য স্বাধীন দেশে চাকরির পর বিনা অপরাধে চাকরিচ্যুতি ও প্রাণপ্রিয় স্ত্রীকে হারাতে হয়েছে। তখন তার বয়স মাত্র ৩৯ বছর। সেই থেকে জীবনের শেষদিন পর্যন্ত একাকী জীবনে দুঃখ ও অভিমান বুকে পুষে রেখেও স্বাধীনতার চেতনাকে জিইয়ে রেখেছেন। বয়সের ভারে ন্যুব্জ হলেও যখনই সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম থেকে ডাক পড়ত, বার্ধক্য ও নানা জটিল রোগকে দূরে ঠেলে হাজির হতেন। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক কোনো অনুষ্ঠানে বক্তা হিসেবে আমন্ত্রণ পেলে তার কণ্ঠে উচ্চারিত হতো আশার বাণী। ব্যক্তিগত-পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণে বঞ্চনার শিকার এ বীর মুক্তিযোদ্ধা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হয়েছিলেন। জীবন সায়াহ্নে এটুকু ছিল তার প্রাপ্তি। ৫ সেপ্টেম্বর তার আকস্মিক মৃত্যুসংবাদ জানতে পেরে স্মৃতিতে ভেসে উঠল অভিমানী মানুষটির সুন্দর মুখখানি। অবচেতন মনে হাত কপালে উঠল- স্যালুট হে বীর মুক্তিযোদ্ধা।

মহিউদ্দিন সেরনিয়াবাত : অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা

Share