Home / জাতীয় / কর্নিয়ার সমস্যায় বছরে ৪০ হাজার মানুষ অন্ধ হয় : স্বাস্থ্যমন্ত্রী
jahid-malik-
ফাইল ছবি

কর্নিয়ার সমস্যায় বছরে ৪০ হাজার মানুষ অন্ধ হয় : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

দেশে চোখের কর্নিয়াজনিত সমস্যায় প্রতি বছর ৪০ হাজার মানুষ অন্ধত্ববরণ করে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

মঙ্গলবার ২ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এ ব্লকের অডিটোরিয়ামে জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী বলেন, ‘ বিএসএমএমইউতে আমরা কর্নিয়া ব্যাংক উদ্বোধন করেছি৷ সেখানে মাত্র ৪ হাজার ১০০টি কর্নিয়া পাওয়া গেছে। যেখানে বছরে ৪০ হাজার মানুষ কর্নিয়া সমস্যায় অন্ধত্ব বরণ করে। কর্নিয়ার স্বল্পতা দূরে সকলকে একত্রে কাজ করতে হবে। ’

জাহিদ মালেক বলেন, ‘রক্তদানে দেশে অনেক সক্ষমতা এসেছে। দানে বাড়ে, কখনওই কমে না। রক্তদানের মাধ্যমে আমরা মানুষের জীবন বাঁচাতে পারি৷ সরকার ব্লাড ব্যাংক অনুমোদন দিয়েছে৷ আরও ব্লাড ব্যাংক প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে যাচ্ছে।’

করোনা সংক্রমণ প্রসঙ্গে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে করোনা মোকাবিলায় বিশ্বে রোল মডেলে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ। করোনা নিয়ন্ত্রণে আমরা দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় প্রথম হয়েছি৷ আজ আমাদের দেশে মাত্র তিনজন মৃত্যুবরণ করেছেন। যেখানে উন্নত দেশগুলোতে হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন করোনায় মারা যাচ্ছে।’

সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মানার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এখন সকল জেলা হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন আছে। আইসিইউ সংখ্যা অনেক বেড়েছে। এসব কারণেই করোনা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবুও সকলকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। একইসঙ্গে ভ্যাক্সিনেশন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আমরা স্কুলের শিশুদেরও ভ্যাকসিন প্রদান করছি।’

স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব লোকমান হোসেন মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উদ্বোধক অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ডা.দীপু মনি।

তিনি বলেন, ‘এখন আর রক্তের জন্য হাহাকার করতে হয় না। তবে এখনও চক্ষুদানের ক্ষেত্রে পিছিয়ে আছি আমরা। আমরা এখন বেওয়ারিশ লাশ থেকে অধিক পরিমাণ চক্ষু পেয়ে থাকি। এর কারণও আছে। যারা মরণোত্তর চক্ষুদানের অঙ্গিকার করেছেন তারা অধিকাংশই তরুণ। আমরা তাদের দীর্ঘায়ু কামনা করি।’

তিনি আরও বলেন, সন্ধানীর শুরু ১৯৭৭ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি। রক্ত দানে মানুষকে সচেতন করতে সন্ধানী কাজ করেছে। তেমনই চক্ষুদানের বিষয়েও একজন মানুষকে সচেতন করতে হবে৷ বাইরের দেশে মৃত্যু পথযাত্রী রোগীর স্বজনদের মোটিভেট করে অর্গান সংগ্রহ করা হয়। বাংলাদেশের সন্ধানীর সদস্যদের সে কাজ করতে হবে। আমরা আশা করি স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে সর্বদা সন্ধানীর পাশে পাব।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে লোকমান হোসেন মিয়া বলেন, বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে। বিশ্ব মহামারিতে আমাদের অবস্থা উন্নত দেশগুলোর থেকেও ভালো৷ টিকা সংগ্রহ এবং প্রদানে সরকার সফলতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন। টিকা নিয়ে দেশে কোনো সমস্যা হবে না।

তিনি বলেন, মৃত্যুর পর চোখ কোনো কাজে লাগে না। এটা সকলকে বুঝাতে হবে। রক্তদানে দেশের মানুষ যেভাবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসছে, চক্ষু দানেও সেই রকম পরিস্থিতি তৈরি করতে হবে। সন্ধানী সেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে সক্ষম।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা.হাবিবে মিল্লাত,স্বাস্থ্য শিক্ষা সচিব মো.আলী নূর, বিএসএমএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা.মো.শারফুদ্দিন আহমেদ,স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম প্রমুখ।

বার্তা কক্ষ,২ নভেম্বর ২০২১
এজি