রাজনীতি

অনুসন্ধান কমিটির তালিকায় বাছাইকৃত ২০ জন

নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে অনুসন্ধান কমিটি ২০ জনের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা করেছে। রাজনৈতিক দলগুলো থেকে পাওয়া নাম থেকে এই তালিকা করা হয়েছে। এর সঙ্গে যোগ হতে পারে বিভিন্ন সূত্র থেকে নেওয়া অনুসন্ধান কমিটির নিজস্ব নামও। এসব যাচাই-বাছাই করে ১০ জনের একটি তালিকা জমা দেওয়া হবে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের কাছে।

অনুসন্ধান কমিটির মুখপাত্র ও মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সুপ্রিম কোর্ট জাজেস লাউঞ্জে এক ব্রিফিংয়ে জানান, তাঁদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ২৮টি রাজনৈতিক দল ১২০ থেকে ১২৫ জনের নাম জমা দিয়েছে। এই নামগুলো থেকেই ২০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকা করা হয়েছে। তবে তিনি কোনো নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি। বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) ছাড়া আর কোনো রাজনৈতিক দল তাদের দেওয়া নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি।
তবে গতকাল দিনভর নানা সূত্র থেকে পাওয়া নামের তালিকা আলোচনায় ছিল। এর মধ্যে সাবেক বিচারপতি থেকে শুরু করে আমলা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সাবেক সামরিক কর্মকর্তা, আইনজীবী, সম্মানিত নাগরিক ও সমাজকর্মীর নাম এসেছে। ৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ১০ জনের নামের তালিকা রাষ্ট্রপতির কাছে জমা দেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে অনুসন্ধান কমিটিকে। এই তালিকা থেকে রাষ্ট্রপতি একজন প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও চারজন কমিশনার নিয়োগ দেবেন। মন্ত্রিপরিষদের এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে একজন নারী প্রতিনিধি রাখার কথা বলা হয়েছে।

অনুসন্ধান কমিটির দুজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, যাঁদের বয়স ৭০ বছরের ঊর্ধ্বে নয় এবং কর্মক্ষম। যাঁরা সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দলে কখনোই জড়িত ছিলেন না এবং দুর্নীতি ও অসততার অভিযোগে মামলা নেই এমন ব্যক্তিদের প্রাধান্য দিয়ে সংক্ষিপ্ত তালিকা করা হয়েছে। তাঁরা বলেন, আওয়ামী লীগ ‘আওয়ামী লীগ মার্কা’ লোকের নাম দেয়নি। বিএনপিও ‘বিএনপি মার্কা’ ব্যক্তিদের নাম পাঠায়নি।
রাজনৈতিক দলগুলোর দেওয়া নামের মধ্যে রাজনৈতিক ব্যক্তি, স্কুলের শিক্ষক, দেশের বাইরে থাকেন এমন উপাচার্য, চাকরিতে আছেন এমন ব্যক্তিদের নামও রয়েছে। এসব নাম প্রথমেই বাদ দেওয়া হয়েছে।
কমিটির ওই দুই সদস্য বলেন, অনুসন্ধান কমিটি মনে করে, রাজনৈতিক দলগুলোর দেওয়া নাম প্রকাশিত হলে মনে হতে পারে প্রস্তাবিত নামের ব্যক্তিরা ওই দলের প্রতি অনুগত। এ জন্যই কমিটি নাম প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নেয়। দুই সদস্য আরও জানান, রাষ্ট্রপতিকে ১০ জনের নামের তালিকার পাশাপাশি অনুসন্ধান কমিটির সুপারিশও দেওয়া হবে। এসব সুপারিশ বিশিষ্ট নাগরিকেরা দিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে বর্তমান কমিশনের দুজনকে ছয় মাসের জন্য রেখে দেওয়ার পরামর্শও থাকতে পারে।
গত ২৮ জানুয়ারি অনুসন্ধান কমিটি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে অংশ নেওয়া ৩১টি রাজনৈতিক দলের কাছে ৫টি করে নাম আহ্বান করে।
২৬ দল নাম দিয়েছে

যেসব দল নাম দিয়েছে তাদের তালিকা সাংবাদিকদের পড়ে শোনান মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আব্দুল ওয়াদুদ। দলগুলো হচ্ছে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ-ইনু), বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ), ইসলামী ঐক্যজোট, জাতীয় পার্টি (জেপি), বাংলাদেশ তরীকত ফেডারেশন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), বিকল্পধারা বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট আওয়ামী পার্টি, বাংলাদেশ সাম্যবাদী দল, গণতন্ত্রী পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ-আম্বিয়া), বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (বাংলাদেশ ন্যাপ), গণফ্রন্ট, খেলাফত মজলিশ, জমিয়তে উলামা ইসলাম বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (বিএমএল) ও জাকের পার্টি।
আর নামের তালিকা দেয়নি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ ও গণফোরাম, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)।

চার বিশিষ্ট নাগরিকের সঙ্গে মতবিনিময় আজ
আজ চারজন বিশিষ্ট নাগরিকের মতামত নেবে অনুসন্ধান কমিটি। তাঁরা হলেন সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবু হেনা, আইনজীবী রোকনউদ্দিন মাহমুদ, সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার ও ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহ্ফুজ আনাম। নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) আবদুর রশিদকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও পরে গতকাল তাঁর নাম বাদ দেওয়া হয়।

এর আগে সন্ধ্যায় মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করেন, আবদুর রশিদের বিরুদ্ধে প্রতারণামূলক মামলা বিচারাধীন। এটা আমলে নেওয়া হবে কি না? জবাবে সচিব বলেন, অনুসন্ধান কমিটিকে এটা জানানো হবে। পরে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আবদুর রশিদের নামে মামলা থাকায় তাঁকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
স্বচ্ছতা চায় টিআইবি

নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। গতকাল টিআইবি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সদস্যদের এক সভায় অবাধ, নিরপেক্ষ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন নিশ্চিতের লক্ষ্যে স্বচ্ছতা ও বস্তুনিষ্ঠতার সর্বোচ্চ মানদণ্ড নিশ্চিত করে দক্ষ, নিরপেক্ষ ও দৃঢ়চেতা ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে তারা স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রাষ্ট্রপতির কাছে যে নামের তালিকা দেওয়া হবে, তা জনসম্মুখে প্রকাশের আহ্বান জানায়। (প্রথেম আলো)

নিউজ ডেস্ক
: আপডেট, বাংলাদেশ সময় ১০: ৩০ এএম, ১ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, বুধবার
ডিএইচ

Share